ঢাকা, বুধবার 5 July 2017, ২১ আষাঢ় ১৪২8, ১০ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ঝিমিয়ে পড়ছে চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ বিরোধী অভিযান

খুলনা : বাগদা ও গলদা চিংড়ির দেহে অপদ্রব্য পুশ করা হচ্ছে -সংগ্রাম

খুলনা অফিস : খুলনায় চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ চক্রটি ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে মরা গোনেও থেমে নেই এ চক্রটি। পুশ বিরোধী অভিযান ঝিমিয়ে পড়ায় আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। আর এসব ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করছেন বিভিন্ন মাছ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। ফলে বহাল তবিয়তে চালানো হচ্ছে বাগদা চিংড়ির দেহেও অপদ্রব্য পুশ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর নতুন বাজার, ফুলতলার জামিরা বাজার, শাহাপুর, আড়ংঘাটা, চুকনগর, পূর্ব রূপসা, রূপসার আলাইপুর বাজার, শিয়ালী বাজার, ডোবা বাজার, ডুমুরিয়া, ফলতিতা বাজার, ফকিরহাট, ফয়লা বাজার, ফকিরহাট, ফকিরহাটের ফলতিতা বাজার, পাইকগাছা, খর্নিয়া বাজার, মংলা, কয়রা উপজেলার সাতটি চাতাল, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন মাছের ডিপো ও আড়তে চিংড়ির দেহে অপদ্রব্য পুশ করা হয়। 

একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, অধিক মুনাফার আশায় চিংড়িতে ওজন বাড়ানোর জন্য চিংড়ির দেহে বর্তমানে জেলী পুশ করা হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তাদের পুশ র্নির্মূলে বিন্দুমাত্র মাথা ব্যথা নেই এমনও অভিযোগ করেছেন কিছু ব্যবসায়ী। অজ্ঞাত কারণে উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তারা নিরব ভূমিকা পালন করেছেন। যখন বিভিন্ন মৎস্য ডিপোতে র‌্যাব, পুলিশ, কোস্ট গার্ড এবং মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ দপ্তর পুশ বিরোধী অভিযান চালায় তখন এসব পুশকরা চিংড়ি চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। 

নগরীর জিরোপয়েন্ট এলাকার ফারুক সী ফুডস, রূপসার সালাম সী ফুডস, ইন্টারন্যাশনাল সী ফুডস, ন্যাশনাল সী ফুডস, রোজেমকো সী ফুডস, বটিয়াঘাটা উপজেলার ট্রাস্ট সী ফুডস এ অপদ্রব্য পুশ করা চিংড়ি ক্রয় করা হচ্ছে।  অধিক মুনাফার আশায় ওজন বাড়ানোর জন্য হোয়াইট গোল্ড নামে খ্যাত চিংড়ির দেহে অপদ্রব্য ঢুকিয়ে বিভিন্ন মাছ কোম্পানিতে বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি এসব চিংড়ি ঢাকার সাভার, সদরঘাট, কারওয়ান বাজার, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, কক্সবাজার, পটুয়াখালী, ফেনীসহ বিভিন্ন স্থানের আড়ৎ ও মাছ কোম্পানিতে চালান করা হয়।  বিভিন্ন ঘের থেকে চিংড়ি ধরার পর চাষিরা তা বিক্রি করেন ব্যবসায়ী বা ডিপো মালিকদের কাছে। চিংড়ির ওজন বাড়িয়ে অধিক লাভের আশায় ডিপো ও বিভিন্ন গোপন স্থানে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা পুশ করেন জেলীসহ বিভিন্ন অপদ্রব্য।

১৯৯০ দশকের শেষের দিকে প্রথমে সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ এলাকার ফড়িয়া ও ব্যবসায়ীরা চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করা শুরু করেন। এরপর খুলনার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে পুশের কার্যক্রম। প্রথমে শিশু ও নারী শ্রমিকদের দিয়ে চিংড়ির দেহে পুশ করানো প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এরপর পুশের কাজ করানো হয় তাদের দিয়ে।

অপদ্রব্য মেশানোর কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম অর্থনৈতিক খাত চিংড়ি শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। গলদা ও বাগদা চিংড়ি দিন দিন বিদেশের বাজার হারাচ্ছে। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন স্থানে অপদ্রব্য পুশকরা চিংড়ি ধরাও পড়ছে। পরে এসব চিংড়ি নষ্ট এবং পুশকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাও করা হচ্ছে। অনেক সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে  পাঠানো হচ্ছে পুশকরা চিংড়ি। এতে এ শিল্প হারাচ্ছে খ্যাতি। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতি। সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে ভারত থেকে আনা দুই ধরনের পাউডার মিশিয়ে জেলি তৈরি করা হয়। এসব জেলী বাগদা ও গলদা চিংড়ির দেহে পুশ করা হয়। নগরীর বিভিন্ন ওষুধের দোকান থেকে একটি চক্র এ পাউডার কিনে এনে ব্যবসায়ীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করেন। এই জেলী খুব আঠালো হওয়ায় সহজে এসব পুশ চিংড়ি ধরা পড়ছে না। মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ খুলনা’র উপ-পরিচালক প্রফুল্ল কুমার সরকার বলেন, র‌্যাব, পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সহযোগিতায় পুশ বিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে। পুশের দায়ে অনেককে জেল জরিমানাও করা হয়েছে। র‌্যাব সদস্যরা অভিযানে খুবই সহযোগিতা করেন। তিনি আরো বলেন, যারা এখনো পুশ ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের অচিরেই আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ