ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 July 2017, ২২ আষাঢ় ১৪২8, ১১ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অর্থ বছর পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে -অর্থমন্ত্রী

 

স্টাফ রিপোর্টার: বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পুরোপুরি বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে দেশের অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে আসছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা। এরই প্রেক্ষিতে অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের আভাসও দিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অর্থ বছর পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে। এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে যা কিছু করা হবে, চিন্তা ভাবনা করেই করা হবে।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বহুদিন ধরে আমার মনে হতো যে বাজেটের সময়টা জুন-জুলাইটাই ঠিক। কিন্তু এখন নতুন নতুন আইডিয়া আসছে। আগে ছিল এপ্রিল-মার্চ। এখন সেটা জানুয়ারি-ডিসেম্বরের কথাও আসছে। আপনারা আরো ভালো ভালো আইডিয়া নিয়ে আসতে পারেন। এটা নিয়ে দেশে পাবলিক ডিবেট হতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, জানুয়ারি ডিসেম্বরটা খুব নতুন। এটা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় আছে। তবে কোনো দেশে এখনো নেই। প্রথম ইন্ডিয়া এটা করার প্রোপোজ করেছে।

এর আগে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেও ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি অর্থবছর ঘোষণার জন্য দাবি করেছেন।

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জনে দক্ষতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই, এ জন্য কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষক প্রয়োজন, সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে ট্রেনিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে।

এদিকে গতকাল সচিবালয়ে ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর না হওয়ায় যে ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতির সৃষ্টি হচ্ছে তা পূরণ করা অনেক কঠিন হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কিভাবে এই ঘাটতি পূরণ হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। তবে আমাদের বিকল্প কিছু বের করতে হবে।

গত ২৮ জুন সংসদে নতুন ভ্যাট আইন স্থগিত করে পুরনো আইন বহাল রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানায় সরকার। এতে করে নতুন বাজেটে বিশাল অঙ্কের ঘাটতির সৃষ্টি হয়।

এছাড়া আবগারি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক কমানোতেও এই খাতেও ঘাটতি সৃষ্টি হচ্ছে।

সব মিলে নতুন বাজেটে রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তার মধ্যে প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাজেটের আকার পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে বছর শেষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ও সংশোধিত বাজেটের আকারে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে; বাড়তে পারে ঋণের পরিমাণ। সে ক্ষেত্রে জিডিপির আকার বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।

গত ১ জুলাই থেকে শুরু হয় নতুন অর্থবছর ২০১৭-১৮। ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বিশাল বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। এই ঘাটতি ব্যাংক ঋণ, সঞ্চয়পত্র বিক্রি, নন ব্যাংকিং ঋণ ও বৈদেশিক অনুদান থেকে মেটানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

বাজেটে এনবিআর খাত থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভ্যাট থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা, যা মোট রাজস্বের ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ব্যাপক সমালোচনার মুখে নতুন ভ্যাট আইন স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ভ্যাট থেকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। নতুন আইনে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায়ের কথা ছিল। পুরনো আইনে ভ্যাটের হার দেড় থেকে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ