ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 July 2017, ২২ আষাঢ় ১৪২8, ১১ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কেউ ফেরে কেউ ফেরে না ॥ যারা ফেরেন তারা মুখে ‘কুলুপ আঁটেন’

* তিন বছরে অপহরণ ২৮৪ ॥ লাশ উদ্ধার ৪৪ ॥ ফিরে এসেছেন ২৭ জন 

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : ‘অপহরণ ও গুম’ দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি। এ সংস্কৃতি এক অমীমাংসিত রহস্য। এ রহস্যের কোন কিনারা করার সামর্থ্য এ দেশের আইনশৃংখলাবাহিনীর আছে কি না, তা নিয়ে নানামুখী কথাবার্তা ও বিতর্ক চলমান থাকার মধ্যেই ‘অপহরণ’ ও ‘গুম’ সংস্কৃতির চর্চা বন্ধই হচ্ছে না। বিগত ৯ বছর ধরে চলা এই সংস্কৃতির জ্বরে দেশের বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পী, সংস্কৃতি কর্মী, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবক, সবাই আতঙ্কিত। দেশের বর্তমান অবস্থা এমন এক পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে, ঘরের বাইরে গিয়ে আবার ফিরে আসতে পারবেন কিনা তা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।

সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন অপহরণসংক্রান্ত ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে অপহৃত ব্যক্তির ফিরে আসার পরেও অপহরণকারীদের শনাক্ত করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো। ফলে মীমাংসা না হওয়ায় সম্প্রতি সংঘটিত অপহরণের ঘটনাগুলোর রহস্য থেকে যাচ্ছে পর্দার আড়ালেই। বেশিরভাগ সময়েই অপহরণকারীরা দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পরিচয়ে অপহরণের ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে।

দেখা গেছে, অপহৃত অবস্থা থেকে উদ্ধার হয়ে ফিরে আসার পর অপহরণের শিকার এই ব্যক্তিরা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা তাদের অপহরণের বিষয়ে কোনো কথা বলতে চান না। কোনো এক অজানা কারণে হয় তারা পুরোপুরি চুপ থাকেন, না হয় অত্যন্ত কৌশলে বিষয়টিকে এড়িয়ে যান। অথচ পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীগুলোও এসব রহস্য সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যান এবং যাচ্ছেন।

সম্প্রতি সংঘটিত এসব অপহরণের ঘটনায় নিরাপত্তার অভাববোধ করে দেশের জনগণ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে এখন উদ্বেগ কাজ করছে এবং এরই মধ্যে এই বিষয়ে প্রতিবাদী কণ্ঠ তুলতেও শুরু করেছেন তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে তারা বলছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের পরিবর্তে বাহিনীগুলো এখন অপহরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাবে ২০১৪ সাল থেকে জুন ২০১৭ পর্যন্ত রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ বা অপহরণের শিকার হয়েছেন ২৮৪ জন। তাঁদের মধ্যে মৃতদেহ উদ্ধার হয় ৪৪ জনের, পরে গ্রেফতার দেখানো হয় ৩৬ জনকে এবং পরিবারের কাছে ফিরে আসেন ২৭ জন। বাকি ১৭৭ জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে, সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

আর বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত সাড়ে ৯ বছরে ৪৪৭ জনের নিখোঁজ তথা গুম হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৩৩৮ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে স্বজনদের দাবি।

এ ধারার, এ সংস্কৃতির সর্বশেষ শিকার ফরহাদ মজহার। তার পরিচয়ে কোন বিশেষণ লাগেনা। কবি, প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহারের মতো গত সাড়ে তিন বছরে ‘রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ’ বা ‘অপহরণের’ পর পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন কমপক্ষে ২৭ জন। এসব ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে কিছু অভিন্ন ছক বা মিল লক্ষ্য করা যায়। অপহৃত ব্যক্তিদের একটি বড় অংশকে অপহরণের পর ‘উদ্ভ্রান্ত’ অবস্থায় কোনো সড়কে পাওয়া যায়। কিন্তু ফিরে আসার পর অনেকে কোনো কথা মনে করতে পারেন না। বাকিরা মুখে কুলুপ আঁটেন।

রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ বা অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনেরা কখনো কখনো গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফিরে আসার পর নিখোঁজ ব্যক্তিরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বলেছেন, চোখ বেঁধে তাঁদের মাইক্রোবাসে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এর বাইরে তাঁরা কেউ আর বিস্তারিত কিছু বলেননি।

একই কায়দায় সর্বশেষ রহস্যজনক অপহরণ হওয়া ফরহাদ মজহার ১৮ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর ফিরে আসার পর মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগকে বলেছেন, শ্যামলীতে তাঁর বাসার সামনে থেকে তাঁকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর চোখ বেঁধে ফেলা হয়েছিল। এরপর আর কিছু তিনি জানেন না।

ভাগ্য বিধাতা ভালো ছিল বলে কবি ফরহাদ মজহার ফিরে এসেছেন বা ফিরে আসতে পেরেছেন। তার মত করে অনেকেই এমন সংস্কৃতির শিকার হয়ে কেউ ফিরেছেন, কেউ ফেরেন নি। এ ক্ষেত্রে সবার ভাগ্য বিধাতা এক হননি। সবাই ফরহাদ মজহার হতে পারেন নি। 

দেশের প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী ফরহাদ মজহার সোমবার সকালে শ্যামলীর নিজ বাসা থেকে রহস্যজনকভাবে অপহরণের পর থেকেই দেশজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তার অপহরণ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একেক সময় একেক কথা বললে সর্বশেষ ডিবি বলছে ফরহাদ মজহার ভোরে ওষুধ কিনতে নামলে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন লোক তাকে তুলে নেয়। এ সময় তার চোখ বেঁধে ফেলায় তিনি আর কিছু বলতে পারেননি। মঙ্গলবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জয়েন্ট কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি কীভাবে কী হলো। তিনি জানিয়েছেন, গতকাল (সোমবার) ওষুধ কেনার জন্য তিনি বের হন। পরে সাদা মাইক্রোতে কয়েকজন লোক তাকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তার চোখ বেঁধে ফেলায় তিনি আর কিছু বুঝে উঠতে পারেননি। পুলিশের পক্ষ থেকে আগে দেয়া কিছু বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো তিনি বলেন, আগের বক্তব্য বাদ। বর্তমানটাই আসল তথ্য। এর আগে খুলনার ডিআইজি দিদার আহমেদ প্রেসব্রিফিংয়ে বলেছিলেন ফরহাদ মজহার স্বেচ্ছায় ভ্রমণে বের হয়েছিলেন। যশোরের অভয়নগরের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এরপর ঢাকার আদাবর থানায় আনার পর সেখান থেকে নেয়া হয় মিন্টো রোডের ডিবি অফিসে। এরপর নেয়া হয় আদালতে। সেখানে জবানবন্দী দেয়ার পর নিজ জিম্মায় আদালত থেকে মুক্ত করা হয়। গত ২ জুলাই ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে ভারতে মুসলিম নিধনের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকার ১৬ ঘণ্টা পরে অপহৃত হন কবি ফরহাদ মজহার।

নিখোঁজ ও উদ্ধারের ঘটনাগুলো

গত সাড়ে তিন বছরে নিখোঁজ অবস্থা থেকে ফিরে এসেছেন এমন কমপক্ষে এক ডজন ব্যক্তিকে নিয়ে গণমাধ্যম সরগরম ছিল। তাঁদের নিখোঁজ থাকার সময়কাল সর্বনিম্ন ১৮ ঘণ্টা থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে সাত মাস পর্যন্ত।

১৬ এপ্রিল, ২০১৪ বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির ( বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিক ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন। ৩৪ ঘণ্টা পর তাঁকে চোখবাঁধা অবস্থায় কে বা কারা মিরপুরে নামিয়ে দিয়ে যায়। তাঁর পকেটে তিনশ টাকাও গুঁজে দেয় অপহরণকারীরা। তিনি চোখের বাঁধন খুলে প্রথমে রিকশায় করে মিরপুর ১০ নম্বরে, পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ধানমন্ডিতে যান। ধানমন্ডি কলাবাগান খেলার মাঠের পাশে স্টাফ কোয়ার্টারের কোনায় বসানো পুলিশ চেকপোস্ট তাঁকে আটকায়। পরিচয় জানতে পেরে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। আবু বকর সিদ্দিক অপহরণের ঘটনায় ফতুল্লা থানায় মামলা করেন তাঁর স্ত্রী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তবে ওই মামলার আর কোনো অগ্রগতি নেই।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে বনানীতে তাঁদের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে সাদাপোশাকে থাকা পুলিশ তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তাঁর স্ত্রী মেহের নিগার। পুলিশ সে সময় এই অভিযোগ অস্বীকার করে। ২১ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর তাঁকে ধানমন্ডির স্টার কাবাবের সামনে থেকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

১০ মার্চ ২০১৫ সালে উত্তরার একটি বাসা থেকে নিখোঁজ বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ ৬২ দিন পর ভারতের মেঘালয়ের শিলং থেকে উদ্ধার হন। ১২ মে তিনি মেঘালয় ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতাল থেকে তাঁর স্ত্রী হাসিনা খানকে ফোন করেন। ভারতীয় পুলিশের বরাতে বলা হয়, মেঘালয়ের গলফ গ্রিন এলাকায় ঘোরাঘুরির সময় পুলিশ তাঁকে আটক করে। সে সময় তাঁকে অপ্রকৃতিস্থ মনে হচ্ছিল।

সালাউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, তিনি নিজে ভারতে আসেননি। যারা তাঁকে অপহরণ করেছিল, তারাই তাঁকে ভারতে রেখে গেছে। তিনি এর চেয়ে বেশি কিছু আর বলতে চাননি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার পর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন তানভীর আহমেদ। ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ দিবাগত রাতে তিনি নিখোঁজ হন। পাঁচ দিন পর তাঁকে উদ্ভ্রান্ত অবস্থায় বিমানবন্দর সড়কে হাঁটতে দেখে পুলিশ বাড়ি পৌঁছে দেয়।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী পুরান ঢাকার আদালতপাড়া থেকে নিখোঁজ হন গত বছরের ৪ আগস্ট। প্রায় সাত মাস অজ্ঞাত স্থানে থাকার পর তিনি বাড়ি ফেরেন।

গত বছরের ১৫ অক্টোবর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ইকবাল মাহমুদ রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে, ৩০ নভেম্বর পাবনা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী তানভির আহমেদ রংপুর থেকে পাবনা আসার পথে, ১ ডিসেম্বর তানভিরের বন্ধু ও একই মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী জাকির হোসেন পাবনার কলেজ ক্যাম্পাস থেকে এবং বরিশালের চাকরিপ্রার্থী তরুণ মেহেদী হাসান হাওলাদার বনানী থেকে, ৬ ডিসেম্বর ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় রাকিবুল ইসলাম রকি লক্ষ্মীপুর থেকে নিখোঁজ হন। তাঁরা সবাই পরে ফিরে আসেন।

চিকিৎসক ইকবাল মাহমুদের বাবা নুরুল আলম, পাবনা মেডিকেল কলেজের দুই শিক্ষার্থীর বাবা সুরুজ্জামান ও নুরুল আলম সরকার বলেন, সন্তান ফিরে আসাতেই তাঁরা সন্তুষ্ট। তাঁরা এ নিয়ে আর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করতে চান না।

নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ার প্রদীপ কুমার সাহা। ৩০ মে মতিঝিল থেকে নিখোঁজ হন। পরে তার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুর্বৃত্তরা। কিন্তু ২ জুন তাকে নতুন এয়ারপোর্ট সড়ক থেকে উদ্ধার করা হয়। বাসায় ফিরে প্রদীপ কুমার বলেছেন, মতিঝিল থেকে তাকে গাড়িতে তুলে নেয়া হয়। কারা তাকে তুলে নিয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান।

২০১৪ সালের ২৮ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাজনৈতিক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে গুম হন ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের ৫ কর্মী। তারা হলেন সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক স¤্রাট মোল্লা, ৭৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল সভাপতি খালেদ হাসান সোহেল, ৭৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল সভাপতি আনিসুর রহমান খান, একই ওয়ার্ডের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব ও ৮০ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিকদল সম্পাদক মিঠু। ১১ দিন পর মুন্সীগঞ্জে নিয়ে আনিসুর রহমান, বিপ্লব ও মিঠুকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু এখনও খোঁজ মেলেনি স¤্রাট ও খালেদের। মুক্তির পর থেকে অজ্ঞাত কারণে লাপাত্তা হয়ে আছেন আনিসুর রহমান, বিপ্লব ও মিঠু।

তারা জানান, অপহরণকারীরা তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করতো। তবে সবসময় গামছা দিয়ে হাত ও চোখ বেঁধে রাখতো। ছেড়ে দেয়ার সময় তাদের হাত ও চোখ বাঁধা ছিল গামছা দিয়ে। এ সময় তাদের প্রত্যেকের হাতে ২০০ টাকা করে দিয়ে দেয় অপহরণকারীরা।

২০১৪ সালের ২০ এপ্রিল রোববার দুই মাসেরও বেশী সময় নিখোঁজ থাকার পর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের তালিকাভুক্ত ঠিকাদার আবুল হাসানাত পলিনকে মিরপুরের দারুসসালাম এলাকায় চোখ বেঁধে রেখে যায় অপহরণকারীরা। মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকার বাসায় পৌঁছাতে রিকশা ভাড়া বাবদ অপহরণকারীরা তাকে ৫০ টাকাও হাতে দিয়ে দেয়। এর পর তিনি চোখ খুলে রিকশা নিয়ে বাড়ি ফেরেন।

পলিন গোয়েন্দাদের জানান, গাড়িতে তুলে নেয়ার পরপরই তাকে একটি কালো মাস্ক পরানো হয়। গাড়ি দিয়ে ঘণ্টা দেড়েক যাওয়ার পর একটি বাড়ির সামনে গিয়ে থামে গাড়িটি। এর পর তাকে রাখা হয় একটি কক্ষে। দেড় মাসের মতো ওই জায়গাতেই রাখা হয় তাকে। এর পর একদিন তাকে আবার গাড়িতে তুলে ঘণ্টা দেড়েক চালানোর পর আরেকটি বাসায় নেয়া হয়। তিনি জানান, তিনি প্রথমে যেখানে ছিলেন সেখানে তার মতো আরও ৩/৪ জন ছিলো। তবে পরে তাদের আর দেখেননি তিনি। অপহরণকারীরা তাকে কোনো মারধর করেনি। তিনবেলা ঠিকমতো খাবার দিতো। তাকে যে কক্ষে রাখা হয়, কখনও কখনও সেখানে উচ্চ স্বরে গান-বাজনা হতো।

পলিন জানিয়েছেন, অপহৃত হওয়ার পর থেকেই তার হাত-পা বেঁধে রাখা হতো। শুধু খাওয়ার সময় হাতকড়া খুলে দেয়া হতো। মলমূত্র ত্যাগ করতে দুই মিনিট সময় দেয়া হতো। এর বেশি হলে গালমন্দ করা হতো। তিনি জানান, মানসিকভাবে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। অপহরণ কিংবা অপহরণকারীদের বিষয়ে খুব বেশী কথা বলতে চাননি পলিন।

এর আগে ২০১৪ সালের ৭ মার্চ ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার তিনদিন পর তিন সহোদর আবু হানিফ, নাজমুল ও সানোয়ারকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। ফিরে আসার পর তারা জানান, রাতের আঁধারে কালো মুখোশ পরিয়ে তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু অপহরণের তিনদিন তাদের কোথায় রাখা হয়েছিল তা বলতে পারেননি তারা।

উদ্ধার হওয়া হানিফ বলেন, ‘আমাদের তিন ভাইকে কাপড় দিয়ে চোখ-মুখ ও হাত বেঁধে গাড়িতে করে অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আমাদের তিনজনকে পৃথক তিনটি অন্ধকার ঘরে আটকে রাখে। দরজার নিচ দিয়ে আমাদের খাবার দেয়া হতো। তবে তারা আমাদের কোনো নির্যাতন বা জিজ্ঞাসাবাদ করেনি।’

তিন সহোদরের মধ্যে কনিষ্ঠ সানোয়ার হোসেন ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাড়ি থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে মল্লিকবাড়ি মোড়ে রাতের অন্ধকারে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। এরপর আমাদের মোবাইল ফোনগুলো ফেরত দেয়া হয়। খুলে দেয়া হয় চোখের বাঁধন। পরে ১০ মিনিট পর্যন্ত পেছনে না তাকিয়ে সামনের দিকে হেঁটে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে তারা চলে যায়।

তৎকালীন সময়ে যোগাযোগ করে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানা যায়, ২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত অপহরণের মামলা হয়েছে তিন হাজার ৩৯১টি। এর মধ্যে ২০১০ সালে ৮৭০টি, ২০১১ সালে ৭৯২টি, ২০১২ সালে ৮৫০টি এবং ২০১৩ সালে ৮৭৯টি অপহরণের ঘটনা ঘটে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অপহরণের ঘটনা ঘটে ১৯৬টি। জানুয়ারি মাসে ৬২টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৫টি এবং মার্চ মাসে ৭৯টি অপহরণের ঘটনা ঘটে।

২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা থেকে ১৯ জন নিখোঁজ হয়। তাদের সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও শাহীনবাগ থেকে আটজনকে ধরে ‘র‌্যাব’ লেখা গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে যাঁদের তুলে নেয়া হয় তাঁরা হলেন ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমন ও তাঁর খালাতো ভাই জাহিদুল করিম তানভীর, মাসুম, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আসাদুজ্জামান রানা ও আল-আমিন। পরের দিন রাতে স্বজনদের সামনেই এম এ আদনান চৌধুরী ও কাউসারকে র‌্যাব পরিচয়ে বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে ২৮ নভেম্বর খালিদ হাসান (সোহেল) ও স¤্রাট মোল্লা নামের দুজনকে কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটক থেকে, ২ ডিসেম্বর জহিরুল ইসলাম (হাবিবুর বাশার জহির), পারভেজ হোসেন, মো. সোহেল ও মো. সোহেলকে (চঞ্চল) শাহবাগ থেকে, ৬ ডিসেম্বর নিজাম উদ্দিন (মুন্না) ও তরিকুল ইসলামকে (ঝন্টু) দক্ষিণখানের মোল্লারটেক থেকে, ৭ ডিসেম্বর মাহবুব হাসান ও কাজি ফরহাদকে সবুজবাগ থেকে এবং ১১ ডিসেম্বর মিরপুরের পল্লবী থেকে সেলিম রেজাকে (পিন্টু) ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর রাতে লাকসাম উপজেলা বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির পারভেজ ও জসিম উদ্দিনকে র‌্যাব পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে র‌্যাব জসিমকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলেও অন্যদের খোঁজ মেলেনি। ২০১২ সালের ৬ মার্চ রাজধানী থেকে নিখোঁজ হন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল আলম সিরাজ। ২০১১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থেকে নিখোঁজ হন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি কেএম শামীম আকতার। শামীমের স্ত্রী ঝরনা খানম বলেন, প্রতিটি মুহূর্তই কাটে অপেক্ষায়। মনে হয়, এই বুঝি শামীম চলে এল। এতটা সময় পেরিয়ে গেলেও শামীম আসছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল অপহৃত হন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক আনসার আলী। বহুল আলোচিত এ ঘটনারও দুই বছর পার হয়েছে, কিন্তু তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। আজও পথ চেয়ে প্রতীক্ষার প্রহর কাটছে ইলিয়াসের বৃদ্ধ মা, অবুঝ সন্তান এবং প্রিয়তমা স্ত্রীর। এছাড়াও ওই দিন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত থেকে নিখোঁজ হন ব্যবসায়ী রেজাউল করিম রিজভি। ৮ এপ্রিল রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ব্যবসায়ী তারিব উদ্দিন আহম্মেদ। ১৫ ফেব্রুয়ারি শাহজাহানপুর থেকে দোকান কর্মচারী রফিকুল ইসলাম। ২৪ মে জিন্দাবাহার লেন এলাকা থেকে ব্যবসায়ী আয়নাল মোল্লা। ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জের বোড়াশী পশ্চিমপাড়ার মান্দারতলা এলাকা থেকে অপহৃত হন উবায়দুর নামের এক যুবক। কালো পোশাকধারী লোকজন তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। একই দিন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি উপজেলার দক্ষিণ ফুকরার মিল্টন বাজার এলাকা থেকে অপহৃত হন মাহবুব নামের অপর এক যুবক। এই ঘটনায়ও থানায় মামলা হয়েছে। কিন্তু উদ্ধার হয়নি মাহবুব।

২০১১ সালের ২১ অক্টোবর রাতে সাভারের নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানী ঢাকার ৪১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী নূর মোহাম্মদকে। র‌্যাবের পোশাকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন। দীর্ঘ দিনেও তার সন্ধান মেলেনি। একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থেকে নিখোঁজ হন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা একেএম শামীম আক্তার। ঘটনার প্রায় তিন বছর হলেও খোঁজ মেলেনি তার। ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুর থেকে নিখোঁজ হন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কালাম শেখ, তার মামাতো ভাই আবুল বাশার শেখ, আব্দুল করিম ও আতাউর রহমান ওরফে ই¯্রাফিল।

২০১১ সালের ১৭ নভেম্বর মালিবাগ থেকে অপহরণ করা হয় ভোলার আরিফ, জসিম, জুয়েল, শেখ সাদী, দিদার, আকাশ ও মিরাজকে। ২৮ নভেম্বর আশুলিয়া থেকে জসিমের লাশ উদ্ধার হয়। ২৮ নভেম্বর হাতিরপুল এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূর্যসেন হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক শামীম হাসান সোহেল, ৫০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ইসমাইল হোসেন ওরফে আল আমিন ও সদস্য মাসুম হোসেন। ১০ দিন পর মুন্সিগঞ্জ থেকে উদ্ধার হয় ইসমাইলের গলিত লাশ। ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর সাভারের কাতলাপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ঢাকা মহানগর ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি নুর মোহাম্মদ। এরপর ৩ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ হন নূর হাজির মেয়ের জামাই আব্দুল মান্নান ও তার বন্ধু ইকবাল হোসেন। ২০১১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকা থেকে নিখোঁজ হন তপন দাস।

সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ২৫ জুন রাতে রাজধানীর ফার্মগেটের ইন্দিরারোড থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্য পরিচয়ে কে বা কারা ধরে নিয়ে যায় চৌধুরী আলমকে।

চৌধুরী আলমের স্ত্রী নাসিমা বলেন, “ঘটনার পর তারা বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু আজও সন্ধান মেলেনি চৌধুরী আলমের।”

ওই বছরের ১৭ এপ্রিল রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে অপহৃত হন ঝালকাঠীর রাজাপুর থানা যুবদল নেতা মিজানুর রহমান জমাদ্দার এবং তার দুই সহযোগী মুরাদ ও ফোরকান। কয়েকমাস পর ফোরকান বেরিয়ে এসে তাদের নিখোঁজ হওয়ার কাহিনী মিডিয়ার সামনে তুলে ধরেন। এর কয়েকদিন পরে আবারো নিখোঁজ হন ফোরকান। মিজানের কোন হদিস মেলেনি আজও। এরপর মিজানের শ্যালক মিজান শিকদার এবং তার ভাতিজা সুমনকেও একইভাবে গাজীপুর থেকে অপহরণ করা হয়। সে থেকে তারাও নিখোঁজ। মিজানের স্ত্রী নাসিমা বলেছেন, “এখন ধরেই নিয়েছেন তারা আর বেঁচে নেই।”

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে-পরে যাঁরা গুম হয়েছিলেন, তাঁদের বড় অংশের খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর এক দিনে আটজনকে দুই দফায় র‌্যাব পরিচয়ে মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই বছর অপেক্ষার পর এ বছরের ৩ মার্চ সাজেদুল ইসলাম সুমনের স্বজনেরা হাইকোর্টে রিট করেন। বিচারপতি সৈয়দ মুহাম্মদ দস্তগীর হুসেইন ও বিচারপতি এ কে এম শহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিচালকসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দেয়ার নির্দেশ দেন। কালো পোশাকে ও র‌্যাব-১ লেখা মাইক্রোবাসে করে এসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে সাজেদুল ইসলামের আটক, অপহরণ ও নিখোঁজ হওয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ব-বহির্ভূত হবে না, তা জানতে চেয়ে বিচারপতিরা রুল জারি করেন।

তবে গত কয়েক বছরে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের লোকজনই এর শিকার হয়েছেন বেশি। দু-একটি ঘটনা খোদ ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রেও ঘটেছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে যারা হঠাৎ হঠাৎ লাপাত্তা হয়ে যাচ্ছেন, তাদের কারও রাজনৈতিক মতাদর্শের কথা শোনা যাচ্ছে না।

মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ‘একজন অপহরণ বা নিখোঁজ হওয়ার নির্দিষ্ট সময় পর যদি রাষ্ট্র বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁর সম্পর্কে কিছু বলতে না পারে, তখন সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। আমার মনে হয় নিরাপত্তা কাঠামোয় ব্যবস্থাগত ত্রুটি আছে। পুরো কাঠামোকে ঢেলে সাজানোর ব্যাপারে সমাজ ও রাষ্ট্রের এখন উদ্যোগ নেয়া অত্যাবশ্যক।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, পুলিশ যুক্তিসংগত কারণে কাউকে গ্রেফতার করলে আইন অনুযায়ী তাঁকে আদালতে উপস্থাপন করে। তা ছাড়া কেউ যদি কখনো অপহরণের অভিযোগ নিয়ে আসেন, সেটা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হয়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী নূর খান বলেন, দেশে অনেক দিন ধরেই গুমের ঘটনা ঘটছে। স্বজনহারা মানুষগুলো আর্তনাদ করছে। গুম দিবসের প্রাক্কালে বলতে হচ্ছে, দেশে এ পরিস্থিতির ন্যূনতম পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি, প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা নিখোঁজের অভিযোগগুলো স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করে তদন্ত করা হোক।’

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, ‘মানুষকে নিখোঁজ করার মাধ্যমে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যারা অপহৃত হচ্ছে, তাদের বেশির ভাগের স্বজনরা বলছে, তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তবে আমাদের কাছে সেটা মুখ্য বিষয় নয়। মুখ্য বিষয় হচ্ছে, একটি মানুষকে গুম করা হয়েছে, যা মানবতাবিরোধী।’

বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে যত দিন পুলিশ-র‌্যাব ব্যবহৃত হবে তত দিন অপহরণ ও গুম চলতেই থাকবে। তার দাবি অপহরণের মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশ ১০ শতাংশ সফলতা পাচ্ছে। ৯০ শতাংশের ক্ষেত্রেই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ