ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 July 2017, ২২ আষাঢ় ১৪২8, ১১ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ট্যানারি মালিকদের ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার : হাজারীবাগের ট্যানারি মালিকদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা করে জমা দেয়ার নির্দেশনা দিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে। আগামী সাতদিনের মধ্যে শ্রম মন্ত্রণালয়ে এ টাকা জমা দিতে হবে তাদের। আর শ্রম সচিব শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও কল্যাণে ব্যয় করবেন এই জরিমানার টাকা।

গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১২ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। 

রিটের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের জানান, সাতদিনের মধ্যে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা হাজারীবাগে ট্যানারি অপসারণ সংক্রান্ত আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে সাতদিনের মধ্যে ১৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মালিককে ৫০ হাজার টাকা করে শ্রম মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওই অর্থ ট্যানারি শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ট্যানারি বন্ধের দিন পর্যন্ত যেসব শ্রমিক কর্মরত ছিল তাদের মজুরি এক মাসের মধ্যে পরিশোধ করতেও বলা হয়েছে। হাজারীবাগের মত সাভারেও যাতে দূষণ না হয় সে বিষয়ে বিসিককে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

অপর নির্দেশনায় বলা হয়, সাভারে যেসব ট্যানারি স্থানান্তরিত হয়েছে তাতে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সাতদিনের মধ্যে সংযোগ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই ১৫৫ ট্যানারি ব্যতীত অন্য ট্যানারিকে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে যেন কোনো ধরনের বাধা প্রদান না করা হয় তার নির্দেশনাও রয়েছে আপিল বিভাগের রায়ে। 

এর আগে গত ৯ এপ্রিল ট্যানারি মালিকদের করা রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনার) আবেদনের শুনানি শেষে রায় দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ।

আদালতে ট্যানারি মালিকদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ আমীরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চৌধুরী। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। সরকার পক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

ওই রায়ে কারখানাগুলোকে ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ (আদালতের আদেশের অনুলিপি পাওয়ার পর) দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। পাশাপাশি সাভারের পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পরিবেশ অধিদফতর ও বিসিককে নির্দেশ দেয়া হয়।

 অন্যদিকে হাজারীবাগ থেকে স্থানান্তরের পর ওইসব কারখানার মালিকরা যদি হাজারীবাগের জায়গা ভিন্ন কোনো কাজে ব্যবহার করতে চান তাহলে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নিতে হবে। ছাড়পত্র অনুযায়ী সেখানে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সংযোগ দেয়া যাবে বলেও নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এছাড়া হাজারীবাগের বর্জ্য দিয়ে ধলেশ্বরী নদী দূষিত করলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশনা দেন আদালত।

গত ২ মার্চ হাজারীবাগ থেকে যাওয়া ট্যানারিগুলোর ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বকেয়া জরিমানা দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এ আদেশ স্থগিত চেয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশন ও ফিনিশড লেদার গুডস এন্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন আবেদন জানায়। গত ১৯ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন।

পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে হাজারীবাগে ট্যানারি চালু রাখায় গত বছর ১৫৪ প্রতিষ্ঠানের মালিককে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা নির্ধারণ করে দেন আপিল বিভাগ। পরে ট্যানারি মালিকদের দুটি সংগঠন এ আদেশের রিভিউ চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন। ওই রিভিউর পূর্ণাঙ্গ রায় গতকাল বুধবার প্রকাশ হলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ