ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 July 2017, ২২ আষাঢ় ১৪২8, ১১ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

উখিয়ায় ৫০ শতাংশ প্রাথমিক শিক্ষার্থী উপবৃত্তির টাকা পায়নি

কমরুদ্দিন মুকুল, উখিয়া (কক্সবাজার) : বর্তমান সরকার ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার দ্রুত শূন্যের কোটায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে কঁচিকাঁচা শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে ঘরে ঘরে উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে দেয়ার কার্যক্রম শুরু করলেও এ পদক্ষেপ হিতে বিপরীতে পরিণত হয়েছে বলে অভিভাবকদের দাবী। শিক্ষকদের অভিযোগ, শিওর ক্যাশের মাধ্যমে টাকা বিতরণ করায় ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী ২০১৬ অর্থ বছরে শেষ দুই কিস্তির টাকা এখনও পর্যন্ত পায়নি। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে হতাশা। যা পড়ালেখার উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ। 

উপকূলের মনখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক অভিযোগ করে জানান, তার স্কুলে প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে দেড় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী উপবৃত্তির টাকা পায়নি। তিনি বলেন, ইতিপূর্বে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদত্ত উপবৃত্তির টাকা শতভাগ উপকারভোগী ছাত্র-ছাত্রী তাদের প্রাপ্য টাকা যথাসময়ে পেয়েছে। উক্ত প্রকল্প আরো গতিশীল এবং দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে শিওর এজেন্ট কর্তৃক টাকা বিতরণ করায় হিতে বিপরীত হয়েছে। একই অভিযোগ উখিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদের। তিনি বলেন, অজপাড়া গায়ে অধিকাংশ অভিভাবক অদক্ষ ও নিরক্ষর। অনেকের নিজস্ব কোন মোবাইল নেই। নিকটাত্মীয় বা পাড়া প্রতিবেশীর মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করলেও তারা জানতে পারেনি তাদের ছেলেমেয়ের নামে কখন, কোন মোবাইলে এসএমএস এসেছে। যে কারণে শিওর ক্যাশে টাকা নিতে এসে অনেক অভিভাবক নিরাশ হয়ে ফেরত যেতে দেখা গেছে। অভিযোগ উঠেছে শিওর ক্যাশ এজেন্টগুলো যথাযথ দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা অনিয়মের আশ্রয় নেয়ার কারণে উপবৃত্তি টাকা প্রদানে ব্যাপক ঝুটজামেলার সৃষ্টি হয়েছে। 

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের প্রণীত তালিকা ও মোবাইল নাম্বারসহ কোটবাজারস্থ রূপালী ব্যাংকে দেয়া হয়েছে। যাতে তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তির সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে কোটবাজার রূপালী ব্যাংক ম্যানেজার সিতারাম বৈরাগী জানান, কোটবাজারস্থ শিওর ক্যাশ ডিস্ট্রিবিউটার আলা উদ্দিনকে তারা ক্যাশ পেমেন্ট করে থাকেন। তিনি শিওর ক্যাশের মাধ্যমে সুবিধাভোগী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে উপবৃত্তির টাকা প্রদান করে থাকেন। এসব শিওর ক্যাশ কিভাবে অনুমোদন পেল জানতে চাওয়া হলে ব্যাংক ম্যানেজার বলেন, তারা কক্সবাজারস্থ তাদের হেড অফিস থেকে অনুমোদন নিয়েছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, ব্যাঙের ছাতার মত গজে উঠা শিওর ক্যাশগুলোর মধ্যে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি চলছে। যে কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা মোবাইলের এসএমএস সহ শিওর ক্যাশে গিয়ে টাকা না পেয়ে ফেরত যাচ্ছে। 

এ প্রসঙ্গে উখিয়াস্থ শিওর ক্যাশ এজেন্ট মোঃ আমিনের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, যেসব ছাত্র-ছাত্রীর বিপরীতে এসএমএস নিশ্চিত হওয়া গেছে তাদেরকে টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তবে টাকা বিতরণ ক্ষেত্রে কোন প্রকার সুবিধা গ্রহণ করা হয়নি। কোটবাজারস্থ শিওর ক্যাশ মাদার এজেন্ট এর স্বত্তাধিকারী আলা উদ্দিন জানান, তারা রূপালী ব্যাংক থেকে শিওর ক্যাশ এজেন্টের অনুমতি নিলেও উখিয়ায় দুই শতাধিক শিওর ক্যাশ এজেন্ট উপবৃত্তির টাকা বিতরণ করছে। তিনি বলেন, শিওর ক্যাশ এজেন্টের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। আজ না হউক কাল অবশ্যই ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাপ্য টাকা তারা পেয়ে যাবেন। তবে অনভিজ্ঞতার কারণে অনেক অভিভাবক উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করতে পারছে না। অনেক সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যস্ত থাকার কারণে এসএমএস পাওয়া যায়না। যে কারণে অভিভাবকদের ফিরে যেতে হচ্ছে।  উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোকতার আহমদের নিকট জানতে চাওয়া হলে উপবৃত্তি প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কত, তিনি তা জানাতে ব্যর্থ হয়ে বলেন, শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার বড়–য়া অসুস্থ থাকার কারণে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ৭৬টি স্কুলের প্রায় ১৭ হাজার উপকারভোগী শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনও উপবৃত্তির টাকা পায়নি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এসএম কামাল এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মত গজে উঠা শিওর ক্যাশ এজেন্টগুলোর স্বেচ্চাচারিতার কারণে উপবৃত্তির উপকারভোগী ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ