ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 July 2017, ২২ আষাঢ় ১৪২8, ১১ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মাধবদীতে চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ছে গ্রাম থেকে গ্রামে

মাধবদীতে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত শিশু থেকে বৃদ্ধরা ছড়িয়ে পড়ছে গ্রাম থেকে গ্রামে

মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা : মাধবদী পৌরশহর সহ নি¤œাঞ্চলীয় ইউনিয়নগুলোতে মশা বাহিত চিকুনগুনিয়া রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। একদিকে প্রচন্ড গরম আর মাঝে মাঝে বৃষ্টিতে জলাশয়, পারিবারিক উচ্ছিষ্ট এবং ময়লা আবর্জনাযুক্ত পানি থেকে জন্ম নেয়া মশার কামড়ে এ রোগের প্রকোপ বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। কিন্তু মাধবদী পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদগুলো বা কোন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মশা নিধনের ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছেনা। বিভিন্ন সরকারী স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিক ও বেসরকারী হাসপাতাল এবং বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখাগেছে প্রতিটি গ্রামের প্রায় ৮০ ভাগ পরিবারের কেউ না কেউ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। চিকিৎসকরা এটিকে ভাইরাস জ্বর বলে উল্লেখ করে সঠিক কোন চিকিৎসা দিতে না পেরে শুধু মাত্র প্যারসিটামল বা নাপা দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিতে দেখা যাচ্ছে। এ রোগে আক্রান্ত হলে সুস্থ সবল মানুষও পঙ্গু অবস্থায় পতিত হয়ে যায়। সারা শরীরে পায়ের তলা থেকে মাথা পর্যন্ত প্রতিটি জয়েন্টে ও মাংস পেশীতে প্রচন্ড যন্ত্রনাদায়ক ব্যথা অনুভব হয়। যে কারণে রোগী দাঁড়িয়ে থাকতেও কষ্ট হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন এডিস প্রজাতির এডিস ইজিপ্টি নামের এসব মশায় কামড়ালে সাথে সাথে সংক্রমিত হয় তবে কারো কারো বেলায় ৩ থেকে ৬ দিনের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। এ রোগে প্রথমেই রোগীর শরীরে ১০৪ ডিগ্রি বা তারও বেশী তাপমাত্রা হয়ে থাকে যে কারণে রোগীর মাথায় অসহ্য যন্ত্রনা হয়। ঘন্টার পর ঘন্টা মাথায় পানি দিলেও যন্ত্রনা কমেনা। এ জ্বর স্থায়ী হয় ৭ থেকে ৮ দিন। এ সময়ের ভিতর জ্বর কমে গেলেও রোগী নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং প্রচন্ড শরীর ব্যথা থাকে প্রায় সপ্তাহকাল বা এক পক্ষকাল পর্যন্ত। ডায়াবেটিস, কিডনি, শ্বাস কষ্টের রোগী এ রোগে আক্রান্ত হলে তাদের বেঁচে থাকাই দুরহ হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য স্থানীয় চিকিৎসকদের। গর্ভবতী মহিলারা এ রোগে আক্রান্ত হলে পেটের শিশু বিকলাঙ্গ, বা প্রতিবন্ধী হিসেবে জন্ম নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন এবং ৫ থেকে ১২ বছরের শিশুদের ভুল চিকিৎসা হলে মৃত্যুর কারণও হতে পারে। কারণ শিশুদের চিকিৎসা এমনিতেই স্পর্শকাতর ব্যাপার তার ওপর অল্প সময়ে রোগ সারিয়ে তোলার মানসিকতা নিয়ে এন্টিবায়োটিক প্রয়োগে রোগীর অবস্থা জটিল আকার ধারন কিংবা মৃত্যু মুখে পতিত হওয়া খুবই স্বাভাবিক বলে মত প্রকাশ করেছেন এখানকার প্রাইভেট হাসপাতালের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এ ব্যাপারে চিকুনগুনিয়া রোগ সম্পর্কে জনস্বচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিষাক্ত মশা নিধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ