ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 July 2017, ২২ আষাঢ় ১৪২8, ১১ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শর্ত মানা সম্ভব না হলেও সংলাপের মাধ্যমে সঙ্কটের সমাধান চায় কাতার

৫ জুলাই, ইনফেরাআদ নিউজ এজেন্সি/মিডলইস্ট মনিটর : সৌদী জোটের ১৩ দফা শর্তের ব্যাপারে কাতার যে জবাব দিয়েছে তা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার দাবি করেছে কুয়েতি সংবাদমাধ্যম ইনফেরাআদ নিউজ এজেন্সি। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, কাতারের ওই লিখিত জবাবের ব্যাপারে জানাশোনা রয়েছে এমন এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে ইনফেরাআদ খবরটি প্রকাশ করেছে।
কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহ দোহার সঙ্গে সৌদী জোটের বিরোধ নিরসনে অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন। সোমবার ১৩ দফা শর্তের ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান জানাতে কুয়েত যান কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কুয়েতের আমিরের কাছে কাতারের আমিরের হাতে লেখা চিঠি হস্তান্তর করা হয়। পরে তা সৌদী জোটের কাছে হস্তান্তর করে কুয়েত। তবে ওই চিঠিতে কী জবাব দেওয়া হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি।
ইনফেরাআদ নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, তারা কাতারের জবাবের ব্যাপারে জানতে পেরেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতার জানিয়েছে সৌদী জোটের শর্ত মেনে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক কমিয়ে আনার ব্যাপারে দেশটি প্রস্তুত। তবে অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোকেও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক হ্রাসের অঙ্গীকার করতে হবে বলে পাল্টা শর্ত দিয়েছে কাতার।’
সৌদী জোটের শর্তের জবাবে কাতার দাবি করেছে, দেশটির ভূখণ্ডে ইরানি রিভোল্যুশনারি গার্ডের কোনো সদস্যের উপস্থিতি নেই।’ কাতারের দাবি, দোহার ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতেই এ ধরনের শর্ত দেওয়া হয়েছে।
ইনফেরাআদ নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, জাতিসংঘের সন্ত্রাসী তালিকায় নাম থাকা গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগও অস্বীকার করেছে কাতার। কাতারের দাবি, তারা জাতিসংঘের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের এক সক্রিয় সদস্য।
জঙ্গিবাদে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ এনে গত ৫ জুন কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মিসরসহ কয়েকটি দেশ। এ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ উল্লেখ করে তা নাকচ করে দেয় দোহা। কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দুই সপ্তাহ পর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য আল জাজিরা বন্ধ করে দেওয়াসহ কাতারকে ১৩ দফা শর্ত বেঁধে দেয় চার দেশ। শর্ত পূরণে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়। সে সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ২ জুলাই  রোববার সেই সময়সীমা দুই দিন বাড়ানোর কথা জানায় সৌদী সূত্র। এরইমধ্যে সে সময়সীমা শেষ হয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার বলেছিলেন, সৌদী জোটের শর্তগুলো মানবে না দোহা। নিজ দেশের পক্ষে একটি যথাযথ সংলাপ দাবি করেছিলেন তিনি। একই কথার পুনরাবৃত্তি করে মঙ্গলবার দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সৌদী জোটের দেওয়া শর্তগুলো খুবই অবাস্তব ও মানা অসম্ভব। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এই শর্ত মানা সম্ভব না হলেও সংলাপের মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করতে চায় কাতার। সংকটের শুরু থেকেই কাতার এর সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে বুধবার সকালে সৌদী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টুইটার অ্যাকাউন্টে কাতারের জবাব হাতে পাওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই টুইটে বলা হয়, ‘কুয়েতের মন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-সাবাহ এর কাছ থেকে সৌদী মন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের কাতারের জবাব হাতে পেয়েছেন।’
সৌদী নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যথাসময়ে কাতারের কাছে জবাব পৌঁছে যাবে।’ এদিকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে দেওয়া ১৩ দফা শর্ত মানা না মানার ব্যাপারে কাতারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে সৌদী জোট। মধ্যস্থতাকারী দেশ কুয়েতের মাধ্যমে কাতারের আমিরের লিখিত জবাব হাতে পাওয়ার কথা জানিয়েছে তারা। তবে কাতারের কাছ থেকে কী জবাব এসেছে সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সৌদী জোট এখন বলছে, ‘যথাসময়ে কাতারের কাছে জবাব পৌঁছে যাবে’। এদিকে কাতারের ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে গতকাল বুধবার কায়রোতে বৈঠক করার কথা সৌদী জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের।
কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহ দোহার সঙ্গে সৌদী জোটের বিরোধ নিরসনে অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন। সোমবার ১৩ দফা শর্তের ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান জানাতে কুয়েত যান কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কুয়েতের আমিরের কাছে কাতারের আমিরের হাতে লেখা চিঠি হস্তান্তর করা হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, গতকাল বুধবার সকালে সৌদী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টুইটার অ্যাকাউন্টে কাতারের জবাব হাতে পাওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ