ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 July 2017, ২২ আষাঢ় ১৪২8, ১১ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ট্রাম্পের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা

৫ জুলাই, ইন্টারনেট : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা চলছে। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড-সহ আরো অনেকেই ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্নটা তুলছেন।  সরাসরি অসুস্থ না-বললেও গিলার্ডের মতে, ট্রাম্প যা টুইটারে করছেন, সেটা চালাতে থাকলে আরো বেশি করে মানুষ তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন।
টুইটারে ট্রাম্পের অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি, সোমবার ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সম্মেলনে ট্রাম্প সম্পর্কে ৩৫ জন মনোবিদ সিদ্ধান্তে এসেছেন, ‘ট্রাম্পের ভয়াবহ রকমের মানসিক অসুস্থতা রয়েছে... মারাত্মক পর্যায়ের নার্সিসিস্ট ও সমাজবিরোধী ব্যক্তিত্ব।’
এই সিদ্ধান্তে আসার পর জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল স্কুলের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা জন গার্টনার বলেন, ‘সমাজের প্রতি আমাদের একটা নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা জনসাধারণকে জানাচ্ছি, ডোনাল্ড ট্রাম্প মারাত্মক মানসিক রোগী।’ তিনি নিজের সম্পর্কে সব সময় অতি উচ্চ ধারণা পোষণ করেন, মিথ্যা কথা বলেন, এ সব কোনো সুস্থ মানুষ বলতে পারেন না।
সম্প্রতি জেমি রাসকিন নামে এক ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি এমন একটি বিলও প্রস্তাব করেছেন, যা পাশ হলে ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা পরীক্ষার জন্য তার শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা খতিয়ে দেখবে ১১ সদস্যের একটি প্যানেল। সেখানে যদি ট্রাম্প অসুস্থ প্রমাণিত হন, তা হলে তাকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে যেতে হবে।  জন এফ কেনেডি খুন হওয়ার পরে ১৯৬৭ সালে একটি সংশোধনী এনে এই সংস্থান যোগ করা হয়েছিল মার্কিন সংবিধানে।
গিলার্ড একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি জানি, যুক্তরাষ্ট্রে অনেকেই এই প্রশ্ন তুলছেন। অপমানিত বোধ করে নয়, সত্যি উদ্বিগ্ন বলেই প্রেসিডেন্টের মানসিক সুস্থতা নিয়ে কথা বলছেন এরা।’ গিলার্ড বরং সংবেদনশীলতা দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘বাইরে থেকে কারো মানসিক ভারসাম্য বিচার করা ঠিক নয়। এ ব্যাপারে সকলেরই সাবধান থাকা জরুরি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি নিজের অদ্ভুত আচরণ চালিয়ে যান, তা হলে তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে কথাবার্তাও চলতে থাকবে।
এর আগে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা চিকিৎসক, কাউন্সেলর-সহ ৪৫০০০ মানুষ একটি অনলাইন পিটিশনে ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ ট্রাম্পের অপসারণ চান। সেখানে বলা হয়, ‘ট্রাম্পের মধ্যে মানসিক অসুস্থতার সবকটি উপসর্গ বিদ্যমান। তাই আমরা মনে করি তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার উপযুক্ত নন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ