ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 July 2017, ২২ আষাঢ় ১৪২8, ১১ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

‘চীনের বিরুদ্ধে আলাদা জোট গঠনে মোদির ইসরাইল সফর’

৫ জুলাই, বিবিসি : ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাষ্ট্রীয় সফরে ইসরাইলে রয়েছেন। প্রথমবারের মতো কোন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইসরাইল সফর করছেন। মোদির এই সফরকে ভারতের সাথে ইসরাইলের নিদর্শন সফর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
 মোদির ইসরাইল সফর ও এর তাৎপর্য সম্পর্কে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেন পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতীয় জনতাপার্টি সরকারের আমলে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির প্রভাব খুব সুস্পষ্ট। অন্যদিকে ইসরাইলর দীর্ঘসময়ের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুও কট্টর দক্ষিণপন্থী হিসেবেই পরিচিত। সুতরাং এই পরিস্থিতিতে একজন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদির প্রথম ইসরায়েলে সফর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। মোদির তাৎপর্যপূর্ণ সফর ভারতে রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব রাখতে পরে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতবর্ষের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি চিরকাল প্যালেস্টাইন এবং আরবদেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কনির্ভর। অন্যদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক অনেকটা অস্পৃশ্য ছিলো। এই সফরে মোদি সরকার হয়তো একটি বার্তা দিতে চাইছেন যে, ইসরাইলর সঙ্গে ভারতে সম্পর্ক বরাবর যেমন ছিলো, তা শেষ কথা নয়। মোদি তাই ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা-কৃষি গবেষণা সংক্রান্ত ও অন্যান্য বিষয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করছেন। এ সফর সে দিকই নির্দেশ করে।
তিনি আরও বলেন, যদি লক্ষ্য করি তবে দেখা যাবে ভারতবর্ষের অর্থনীতিতে জ্বালানির যোগান বিশেষভাবে জড়িত। সেই জ্বালানির অন্তত শতকরা ৭০ ভাগ আরবদেশগুলো থেকে আসে। ইসরাইল সফরের আগে মোদি আরবদেশগুলো সফর করেছেন। সফরে আরবদেশগুলোকে আলাদা বার্তা দেয়ার চেষ্টা করেছেন যে, প্যালেস্টাইনসহ আরব দেশগুলোর সঙ্গে পূর্বের সম্পর্ক বজায় থকবে। ফলে সম্পর্কের অবনিত নিয়ে ভাবনার কিছু নেই। এর আগে কখনো ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতে খোলামেলা সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসেনি। এবার তা প্রকাশ্যে আসার কারণ কী?
এ সম্পর্কে  তিনি বলেন, কিমের সঙ্গে  সম্প্রতি মোদি সরকারের উত্তেজনা বেড়েছে, ভুল বোঝাবুঝিও বেড়েছে। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং তার সরকার চীন বিরোধী অক্ষের সঙ্গে যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তিনি ইসরাইলকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শরীক মনে করছেন। ফলে এই সফর মোদি চীনের বিরুদ্ধে আলাদা জোট নির্মাণে সচেষ্ট।
ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংঘাতকে ঘিরে মুসলিম বিশ্ব অনেকক্ষেত্রেই ইসরায়েলের পরিপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। সেক্ষেত্রে ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠী এই বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
জবাবে তিনি বলেন, ভারতীয় মুসলমানদের কাছে এটি যে খুব গ্রহণযোগ্য হবে তা মনে করার কোন কারণ নেই। কিন্তু বর্তামানে ভারতীয় রজনীতিতে ভারতীয় জনতা পার্টির বিকল্প কোন শক্তি এই মুহূর্তে নেই। এমনকি ভারতবর্ষের মুসলমান সম্প্রদায়ের পক্ষেও বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট সেভাবে দানা বাঁধতে পারছে না। তাই এই মুহূর্তে মোদি সরকারের প্রকাশ্য বিরোধীতা করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ