ঢাকা, শুক্রবার 7 July 2017, ২৩ আষাঢ় ১৪২8, ১২ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ফরহাদ মজহারকে নিয়ে বাসের টিকেট  বিক্রেতা ও সুপারভাইজার যা বললেন...

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারের অপহরণ বিতর্কের যেন শেষ নেই। হচ্ছেও না। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বিতর্কের ডালপালা শাখা মেলছে। কিন্তু আসল সত্যটি জানাও যাচ্ছে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি সুস্থ অবস্থায় ফিরে এসে আসল সত্যটা প্রকাশ না করছেন। সুস্থ হয়ে তার ফিরে আসার অপেক্ষার পালার প্রহর গোনা এখন। কেন না  তার কাছ থেকে যে সত্যটা বের হয়ে আসবে, সেটাতেই ঘটবে মূলত অপহরণ বিতর্কের অবসান। 

এদিকে কবি, লেখক ফরহাদ মজহার রহস্য অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা। তার বাসভবন, পাশের সেন্ট্রাল হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ফোনের কললিস্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। কী কারণে কারা তাকে অপহরণ করেছে, হঠাৎ স্বেচ্ছায় কেনও বাসা থেকে বের হলেন তাও খুঁজে দেখা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার পরের ১৮ ঘন্টায় কী ঘটেছিল তার বিস্তারিত তথ্য জানারও চেষ্টা চালাচ্ছেন পুলিশ ও গোয়েন্দারা। সংি সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

অপরদিকে, যশোরে যে পরিবহনের বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে নাটকীয়ভাবে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেই হানিফ এন্টারপ্রাইজের খুলনা শিববাড়ী কাউন্টারের ম্যানেজার নাজমুস সাদাত সাদী ঢাকায় এসে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকার মহানগর হাকিম খুরশিদ আলম গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে তার খাস কামরায় ১৬৪ ধারায় সাদীর বিচারিক জবানবন্দি রেকর্ড করেন বলে আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই নিজাম উদ্দিন জানান। তিনি জানান, এই অপহরণ মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. মাহবুবুল হক ঘটনার সাক্ষী হিসেবে সাদীকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি নেওয়ার আবেদন করেন। “নাজমুস সাদাত সাদী তার সেদিনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বিচারকের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন।”

ডানপন্থি অধিকার কর্মী হিসেবে পরিচিত কবি প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার সোমবার ভোরে ঢাকার শ্যামলীর রিং রোডের বাসা থেকে বেরিয়ে ‘অপহৃত’ হন বলে তার পরিবারের অভিযোগ। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে অনুসন্ধান শুরু করে এবং রাতে যশোরে হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধারের কথা জানায় র‌্যাব। তার আগেই ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতার আদাবর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন, যা পরে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ।

যশোর থেকে ঢাকায় নিয়ে আসার পর ফরহাদ মজহারকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তিনি হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় বিচারিক জবানবন্দি দেন এবং বিচারকের কাছ থেকে নিজের জিম্মায় বাড়ি ফেরার অনুমতি পান। রাতে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা।

গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ফরহাদ মজহার বলেছিলেন, সোমবার ভোরে ওষুধ কেনার জন্য তিনি বাসা থেকে বের হলে কয়েকজন একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যায়।

আর মামলায় বলা হয়, সেদিন ভোর ৫টার দিকে ঘুম ভেঙ গেলে ফরহাদ মজহারকে না দেখে চিন্তিত হয়ে পড়েন ফরিদা। সকাল ৫ টা ২৯ মিনিটে তিনি স্বামীর ফোন থেকে কল পান। ফরহাদ মজহার তাকে ‘ভয়ার্ত কণ্ঠে’ বলেন, ‘ওরা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে, মেরে ফেলবে’। এরপর ফোনটি কেটে যায়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতেই সারা দিনে ফরহাদ মজহারের ফোন থেকে আরও চার বার কল পান ফরিদা। সেসব ফোনালাপে ফরহাদ মজহার জানান, অপহরণকারীরা ৩৫ লাখ টাকা চেয়েছে।

ওইদিন রাতে যশোরের বাসে ফরহাদ মজহারের খোঁজ পাওয়ার আগে খুলনা নিউ মার্কেট এলাকার ‘নিউ গ্রীল হাউস’র মালিক আব্দুল মান্নান দাবি করেন, তার রেস্তোরাঁয় ফরহাদ মজহার ভাত খেয়েছেন। পরে টিভিতে ফরহাদ মজহারের ছবি দেখে তিনি র‌্যাবকে খবর দিলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশোরের নওয়াপাড়ায় খুলনা থেকে ঢাকাগামী একটি বাস থামিয়ে শেষের সারির আসনে ফরহাদ মজহারকে পায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

খুলনার শিববাড়িতে হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার ব্যবস্থাপক নাজমুস সাদাত সাদী পরদিন জানান, ফরহাদ মজহার সেদিন তার কাউন্টার থেকে ‘গফুর’ নামে টিকেট কাটেন। সোয়া ৯টার দিকে কোচটি রয়্যাল মোড় শিববাড়িতে এলে ফরহাদ মজহার গাড়িতে ওঠেন। টিকেট বিক্রির সময় ফরহাদ মজহারকে চেনেননি জানিয়ে সাদী সেদিন বলেছিলেন, র‌্যাব সদস্যরা ছবি দেখানোর পর তিনি চিনতে পারেন।

ওই বাসের যাত্রী চিত্রনির্মাতা শাহরিয়ার পলক জানান, রাত পৌনে ১১টার দিকে নওয়াপাড়ায় বাস থামিয়ে সুপারভাইজার বলেন, তারা যাত্রী ফেলে এসেছেন, সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে। তার ৪০ মিনিট পর র‌্যাব-পুলিশের গাড়ি আসে এবং ৭/৮ জন বাসে উঠে তল্লাশি করে শেষ আসনে ফরহাদ মজহারকে ঘুমন্ত অবস্থায় পায়।

ফরহাদ মজহারের পরনে তখন সাদা পাঞ্জাবি, নীল চেকের লুঙ্গি এবং  মাথায় পাগড়ির মতো সাদা কাপড় প্যাঁচানো ছিল। সঙ্গে কাপড়ের একটি ব্যাগও ছিল বলে জানান শাহরিয়ার।

তবে যশোরে তাকে বাস থেকে যেভাবে উদ্ধার করা হয়েছে, তাতে অপহরণের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি পায়নি জানিয়ে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের উপ মহাপরিদর্শক দিদার আহম্মেদ বলেছিলেন, এটা ‘অপহরণের নাটক’ বলে মনে হয়েছে তাদের।

ভিডিও ফুটেজ ও কললিস্ট পুলিশের হাতে

ফরহাদ মজহারের অপহরণ রহস্য অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা। তার বাসভবন, পাশের সেন্ট্রাল হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ফোনের কললিস্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। কী কারণে কারা তাকে অপহরণ করেছে, হঠাৎ স্বেচ্ছায় কেনও বাসা থেকে বের হলেন তাও খুঁজে দেখা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার পরের ১৮ ঘন্টায় কী ঘটেছিল তার বিস্তারিত তথ্য জানারও চেষ্টা চালাচ্ছেন পুলিশ ও গোয়েন্দারা। 

জানা গেছে, ফরহাদ মজহারের শ্যামলীর হক গার্ডেনের বাসা থেকে ১০০ গজেরও কম দূরত্বে ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল। হাসপতালের নিচেই রয়েছে ফার্মেসি। এটি ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে। এই ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে গত ৩ জুলাই সোমবার ভোর ৫টা ৫ মিনিটে বের হয়েছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন ফরহাদ মজহার। এরপর ৫টা ২৯ মিনিটে স্ত্রী ফরিদা আখতারকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘ফরিদা, ওরা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’

গত ৪ জুলাই মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক আহসান হাবিবের খাস কামরায় অপহরণের বিস্তারিত জানিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন ফরহাদ মজহার।

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, ফরহাদ মজহার আদালতকে দেয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, প্রতিদিনের মতো রাত তিনটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে ঘুম থেকে জেগে উঠি। ভোর পাঁচটা পর্যন্ত কম্পিউটারে কাজ করি। এরপর চোখের ড্রপ নিতে ও হাঁটাহাঁটির জন্য বাসা থেকে বের হই। পাশেই সেন্ট্রাল হাসপাতাল। ওখানে যাওয়ার আগেই তিন জন লোক ধাক্কা দিয়ে আমাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, কারা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, তা খুঁজে বের করতে এরই মধ্যে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সোমবার সকালের সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশ ও র‌্যাবের কর্মকর্তারা নিয়েছেন বলে সেন্ট্রাল হাসপাতালটির হেল্প ডেস্কে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মী জানান। তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিনই পুলিশ ও র‌্যাব আমাদের ফুটেজ নিয়ে গেছে। আমাদের কাছে এখন আর ওই সময়ের ফুটেজ নেই।’

ফরহাদ মজহার অপহরণের পর তার স্ত্রী ফরিদা আখতার আদাবর থানায় গিয়ে যে সাধারণ ডায়েরি করেন, তা ওই রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে অপহরণ মামলার এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়। দন্ডবিধির ৩৬৫ ও ৩৮৫ ধারায় মামলাটি (নং-০৪/১১৭) রুজু করা হয়। বর্তমানে মামলা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি-পশ্চিম) গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, ‘ফরহাদ মজহারের এই ঘটনার সবগুলো দিক খতিয়ে দেখছি আমরা। কেনও ওইদিন তিনি বাসা থেকে বের হয়েছিলেন, কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল, কিভাবে খুলনা নেওয়া হল এবং কিভাবে তিনি ছাড়া পেলেন, সবগুলো দিকই আমরা তদন্ত করবো। খুব শিগগির এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার চেষ্টা করবো।’ বর্তমানে তিনি বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসক এ কে এম মুসার অধীনে চিকিৎসাধীন।

বাসের যাত্রী বিতর্কের অবসান

ফরহাদ মজহারকে বহনকারী বাসের যাত্রী নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটেছে। হানিফ পরিবহনের সংশ্লিষ্ট বাসের সিট প্লান থেকে যাত্রী সংখ্যা, নাম ও উঠার স্থান নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে ওই বাসের যাত্রী সংখ্যা নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা দেয়। খুলনার একাধিক সূত্রে এ সব জানা গেছে।

জানা গেছে, হানিফ পরিবহনের ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৯৮০১ নম্বরের ২৭ আসনের সেই বাসটির সব টিকিট বিক্রি হয়েছিল। তবে যশোরের নওয়াপাড়ায় যখন ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করা হয় সেই সময় বাসে যাত্রী ছিলেন ১২ জন।

হানিফ পরিবহনের ৫০৫ নম্বর সেই কোচের সুপারভাইজার হাফিজুর রহমান বলেন, ‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সেই বাসটি ছিল ২৭ আসনের। রাত সোয়া ৯টায় খুলনার রয়েল কাউন্টার থেকে বাসটি যখন ছাড়ে তখন ২৭ জন যাত্রীর একটি ‘সিট প্ল্যান’ তার হাতে দেয়া হয়। রয়েল কাউন্টার থেকে বাসটিতে যাত্রী ওঠেন ছয় জন। শিববাড়ি কাউন্টার থেকে যাত্রী ওঠেন দুই জন। এই কাউন্টার থেকেই বাসে এসে বসেন ফরহাদ মজহার। পরবর্তীতে নতুন রাস্তা এলাকা থেকে যাত্রী ওঠেন আরও দুই জন। যশোরের নওয়াপাড়া থেকে যোগ হন আরও দুই যাত্রী। এই ১২ জন যাত্রী নিয়ে আসার পথেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বাসটি থামাতে বলা হয়। প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পর পুলিশ ও র‌্যাব এসে বাস থেকে আই-৩ আসনের যাত্রী ফরহাদ মজহারকে নামিয়ে নিয়ে যায়।

সুপারভাইজার আরও জানান, বাসটিতে আরও ১৫ জন যাত্রী উঠেছেন পরে। বাকি ১৫ যাত্রী যশোর, মনিহার ও নিউমার্কেট এলাকা থেকে ওঠেন। তিনি যখন যাত্রীদের টিকিট চেক করছিলেন তখন ফরহাদ মজহার ঘুমিয়ে ছিলেন। তাকে ডেকে তুলে টিকেট দেখতে চান। এ সময় তিনি ব্যাগ থেকে একটি টিকিট বের করে দেখান।

বাসটিতে আই-ফোর আসনের যাত্রী ছিলেন ঢাকার একটি বায়িং হাউজে কর্মরত খুলনার দৌলতপুরের বাসিন্দা মো. বাপ্পী। তিনি বলেন, ‘বাসে ওঠার পর দেখি পাশের আসনের যাত্রী ঘুমিয়ে আছেন। স্বল্প আলোর কারণে তাকে চিনতে পারিনি। তবে পুলিশ বাস থেকে নামিয়ে নেয়ার সময় দেখি তিনি ফরহাদ মজহার!’

আই-ওয়ান আসনের যাত্রী কুষ্টিয়ার শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি খুলনার আবু নাসের হাসপাতালে এসেছিলেন। কাজ শেষে হানিফ পরিবহনে চড়ে ঢাকায় ফিরছিলেন। তিনি একই কাউন্টার থেকে বাসে ওঠার সময় ফরহাদ মজহারকে চিনতে পারেন।

ফরহাদ মজহারকে বহনকারী বাসের সুপারভাইজার হাফিজুর রহমান জানান, তাকে যখন প্রথম অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফোন করে আই-৩ এর যাত্রীর বিষয়ে খোঁজ নেন, তখনই তিনি ওই যাত্রীর টিকিট কাটার সময় যে নম্বরটি দেয়া হয়েছিল সেই নম্বরে ফোন করেছিলেন। কিন্তু নম্বরটি তখন বন্ধ পাওয়া যায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৪৬ মিনিটে ফরহাদ মজহারের মুঠোফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ