ঢাকা, শুক্রবার 7 July 2017, ২৩ আষাঢ় ১৪২8, ১২ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রবল বর্ষণে ফটিকছড়ির বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত

ফটিকছড়িতে হালদার ভাঙা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করছে

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ফটিকছড়িঃ ফটিকছড়িতে গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বিভিন্ন খাল নদী ছড়ার পানি। পপ্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন এলাকা। রাস্তাঘাট ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জানা যায়,গত কয়েকদিন ধরে অব্যাহত ভারী বর্ষণে উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়নে বিভিন্ন অঞ্চল পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। হালদা, গজারিয়া, সর্তা ও ধুরুং খালের ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকা। বিভিন্ন ছোট নদী ছড়ার বাঁধের উপর দিয়ে পানি ভাসছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে উৎকন্ঠায় দিনাতিপাত করছে হাজারো পরিবার।

নাজিরহাট পৌরসভার শাহ চৌমুহনী, কুম্ভারপাড়া এলাকায় হালদার ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করছে, ধুরুং এর ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে ফটিকছড়ি পৌরসভা ও সুন্দরপুরের বিভিন্ন এলাকা পপ্লাবিত হয়। লেলাং, নানুপুর, রোসাংগিরি, পাইন্দং, হারুয়ালছড়ি, কাঞ্চননগর, দাতমারা, ভূজপুর, নারায়ণহাট, ধর্মপুর, জাপতনগর, সুন্দরপুর, সুয়াবিলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের হাজার হাজার বাসিন্দা ইতোমধ্যে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে বিভিন্ন প্রধান সড়ক ও গ্রামীণ সড়কে। বিশেষ করে নাজিরহাট কাজিরহাট সড়কের নাজিরহাট কলেজ সংলগ্ন প্রসস্থ সড়কের প্রায় ১০ ফুট হালদার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে উক্ত সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। গহিরা-হেয়াকো সড়কের লেলাং ইউনিয়েন পানির স্রোতে ভেঙ্গে যাওয়ায় উক্ত সড়কেও গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া প্লাবিত হওয়া বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন সম্পূর্ণরূপে পানিতে ডুবে রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় বলেন,কিছুদিন আগের বর্ষণে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতে অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে আবারো নির্মাঞ্চালীয় ইউনিয়নগুলোর বিভিন্ন অঞ্চল প¬াবিত হয়েছে। এলাকার জনপ্রতিনিধিদের এলাকায় অবস্থান করে সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে বলা হয়েছে।

এদিকে ফটিকড়ির বিভিন্নস্থানে অল্প বৃষ্টিতে জলবদ্বতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ কওে কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চলিত বর্ষা মৌসুমে চরম জলবদ্বতার আশংকা করা হচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর,দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা র্নির্মাণ ও নালা নর্দমা ভরাট হয়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 কোন নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে প্রতিদিন কোন না কোন স্থানে কৃষিজমি,নিচু জমি,জলাশয় ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা র্নিমানের প্রতিযোগীতা চলছে,এছাড়া হাটবাজারের নালা নর্দমা ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা শুরু না হতেই জলবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভা,ফটিকছড়ি পৌর সদর বিবিরহাট,নানুপুর বাজার ও আশেপাশের এলাকায় চরম জলবদ্বতার সৃষ্টি হয়। ফলে এলাকাবাসির চরম র্দভোগ পোহাতে হচ্ছে। জানা যায়,এ সংক্রান্ত জলধারা সংরক্ষন আইননুযায়ী কোন ঝিল বা জলাশয় ভরাট করে স্থাপনা র্নিমাণ করা যাবে না। এ আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় অনেকে সরকারী নদী খাল নালা,জলাশয়ও ভরাট করে স্থাপনা র্নিমান করছে। নাজিরহাটের বাসিন্দা সোলতান আহমদ বলেন,আগে যতই বৃষ্টি হোক আমরা জরবদ্বতা দেখিনি সড়কের পাশের নালা ও জলাশয় ভরাাট করে ফেলায় এখন অল্প বৃষ্টিতে জলবদ্বতার সৃষ্টি হয়। এভাবে কোন নিয়ম নীতি ছাড়াই জলাশয়,জমি,ছড়া, নদী ভরাট ও বিভিন্ন স্থাপনা র্নির্মাণ রোধ,এবং নালা নর্দমা সংস্কার করা না হলে র্দীঘ মেয়াদী ভয়াভহ জলবদ্বতার আশংকা করছে এলাকাবাসী।

উখিয়ায় পাহাড় ধসে ও পানিতে পড়ে মৃত ২

কমরুদ্দিন মুকুল, উখিয়া (কক্সবাজার) : ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে না উঠতে ভারী বর্ষণে প্লাবিত হয়েছে উখিয়ার ১৮টি গ্রাম। এ সময় প্রায় দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজারো পরিবার। নিঃস্ব পরিবারগুলো বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। এ সময় পাহাড় ধসে ও পানিতে পড়ে ২ শিশু নিহত হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছে ১ কিশোর। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। 

সরেজমিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সাথে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টা থেকে মুষলধারে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এ সময় পাহাড়ী ঢল ও জোয়ারের পানি একাকার হয়ে বন্যার আকার ধারণ করে। প্লাবিত হয়ে পড়ে এ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রায় ১৮টি গ্রাম। বন্যায় পালংখালী ইউনিয়নের আনজুমানপাড়া, রহমতেরবিল, ফারিরবিল, বালুখালী, ধামনখালী, নলবনিয়া, তেলখোলা, মোছারখোলা এলাকার শতাধিক ও জালিয়াপালং, রতœাপালং, হলদিয়াপালং, রাজাপালং ইউনিয়নের আরো শতাধিক সহ প্রায় দুই শতাধিক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এসব পরিবারের লোকজন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। 

প্রত্যক্ষদর্শী পালংখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এমএ মনজুর জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে আনজুমানপাড়া গ্রামে পাহাড় ধসে ঘর চাপা পড়ে মোঃ সরওয়ারের ছেলে রাব্বি নামের ৭ বছর বয়সী এক শিশু ঘটনাস্থলে মারা গেছে। জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি গ্রামের জাফর আলমের কন্যা, কোটবাজার আয়েশা ছিদ্দিকা বালিকা মাদরাসার ছাত্রী ছমিরা আক্তার (১৪) এর লাশ স্থানীয় গ্রামবাসী গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পার্শ্ববর্তী খাল থেকে উদ্ধার করেছে বলে জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী জানিয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সে মাদরাসায় যাওয়ার পথে পানির স্রোতে ভেসে যায়।

হলদিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ আলম জানান, রেজু খালের মনির মার্কেট এলাকায় প্রচন্ড স্রোতের টানে চৌধুরীপাড়া গ্রামের অমূল্য বড়–য়ার ছেলে ইতুন বড়–য়া (১৪) নিঁেখাজ রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। এদিকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের পানের ছড়া, সাদৃকাটা, বালুখালী কাস্টমস্ ও থাইংখালী এলাকায় সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। প্রায় শতাধিক গ্রামীণ সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে পড়ার কারণে জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কোন ত্রাণ সামগ্রী পৌছানো হয়নি বলে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। 

পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, স্মরণকালের ভয়াবহ এ বন্যায় এলাকার অধিকাংশ মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের জন্য তিনি জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের তালিকা করার জন্য জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

ইয়াবা সহ নারী আটক

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে পৃথক অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৫৪০ পিস ও সিএনজি গাড়ীতে তল্লাশী চালিয়ে চালিয়ে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের মাছকারিয়া গ্রামের মোঃ মোহর আলীর স্ত্রী লায়লা বেগমের নিকট থেকে ৯৯৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে। ৩৪ বিজিবির অতিরিক্ত পরিচালক ইকবাল আহমেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৩৪ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা মূল্যের ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে লায়লা বেগমকে আসামী করে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ