ঢাকা, শুক্রবার 7 July 2017, ২৩ আষাঢ় ১৪২8, ১২ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ হাজার ৬শ’ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প গ্রহণ

নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি)। এছাড়া নগরবাসীকে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার হাত থেকে উদ্ধারে আরো সাতটি প্রকল্পের কাজ করছে সিসিসি। এসব প্রকল্পের মধ্যে কিছু সমাপ্তির পথে এবং কিছু চলমান। আবার কিছু প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

সিসিসি সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন এবং চীনের সরকারি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়নার সাথে ২৭টি স্লুইচ গেইট, বড় খালসমূহের দু’পাশে রিটেইনিং ওয়াল এবং খালসমূহের ড্রেজিংয়ের জন্য ৫৬০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির পিডিপিপি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদিত হয়েছে এবং এটি সরকার টু সরকার (জি টু জি) এর মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য ইআরডিতে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে এর ডিপিপি প্রস্তুতির কাজ চলছে। 

প্রকল্পটি সম্পর্কে নগর মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, বর্তমানে প্রকল্পটির ডিপিপি প্রস্তুতির কাজ চলছে। পিডিপিপি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন হয়েছে এবং প্রকল্পটি জি-টু-জি’র মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য ইআরডি-তে প্রেরণ করা হয়েছে। 

এছাড়া নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে পৃথক ৫টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৩শ ৪৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর বাইরে ২৪ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয়ে আরো দুটি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। 

সিসিসি সূত্র জানায়, নগরীর বহদ্দারহাট বারইপাড়া হয়ে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত ৩২৭ কোটি টাকার একটি খাল খনন প্রকল্প চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে ৬০ কোটি টাকা মন্ত্রণালয় থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। সিসিসির আওতাধীন বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাসমূহের উন্নয়ন এবং নালা, প্রতিরোধ দেওয়াল, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২৩৪টি রোড সংলগ্ন ড্রেন, ৬৯টি ড্রেন, ২২টি ব্রিজ, ৪টি কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলমান আছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৭১৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। বিমানবন্দর সড়কের সিমেন্ট ক্রসিং থেকে রুবি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি পর্যন্ত রাস্তার অংশে জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য ৬ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার টাকার দরপত্র ইতিমধ্যে আহ্বান করা হয়েছে। মহেশখাল, সুরভীখাল, ডাইভারশন খাল সংলগ্ন রাস্তা ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের জন্য জাইকার অর্থায়নে ১০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে।

এছাড়া ডোম খালের উপর ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রকল্প চলছে। অন্যদিকে, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে অবস্থিত ১৪৪ কিলিমিটার খাল ও প্রায় ৬০০ কিলোমিটার নর্দমা পরিষ্কার করার জন্য ১৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু কাজ সমাপ্ত হয়েছে। কিছু কাজ চলমান আছে এবং বাকি কাজের কার্যাদেশ প্রক্রয়াধীন আছে। সিসিসি সূত্র জানায়, গত অর্থবছরেও নালা-নর্দমা পরিষ্কার করার জন্য ১৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বর্ষণে নগরীর ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বা আনুমানিক সাড়ে ৩শ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র আ জ ম নাছির। এসব সড়কের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-পোর্ট কানেকটিং রোড, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, ডি.টি রোড, স্ট্যান্ড রোড, আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোড, সিডিএ এভিনিউ রোড, আরাকান রোড, হাটহাজারী রোড, বায়োজিদ বোস্তামী রোড, কাপাসগোলা রোড, ফিরিঙ্গীবাজার মেরিনার্স রোড, জুবিলী রোড, খাজা রোড, মিয়াখান রোড এবং হালিশহর রোড। এতে ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৫শ কোটি টাকা।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর কোনো জলাশয় ভরাট করতে দেয়া হবে না জানিয়ে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম শহরে অনেক জলাশয় ও জলাধার ছিল, যার অধিকাংশ এখন বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট যেগুলো আছে, সেগুলো যাতে ভরাট না হয়, সে ব্যাপারে নগরবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। নাগরিক স্বার্থেই নগরবাসীকে জলাশয়, জলাধার ও পুকুর ভরাট থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন মেয়র।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ