ঢাকা, শুক্রবার 7 July 2017, ২৩ আষাঢ় ১৪২8, ১২ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

যা ঘটেনি তা নিয়েও এইচআরডব্লিউ কথা বলে -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২০১৩ সাল থেকে শত শত মানুষকে বেআইনিভাবে আটক করে গোপন স্থানে আটকে রেখেছে বলে যে অভিযোগ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ করেছে , তা অস্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই মানবাধিকার সংগঠনটি তাদের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগ করেছে, ‘তা সঠিক নয়’। “আমরা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছিলাম, তখন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নেতিবাচক প্রচার চালিয়েছিল যে বাংলাদেশের মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে। দেশে যা ঘটেনি বিভিন্ন সময়ে সেসব নিয়েও তারা মন্তব্য করেছে। সেজন্য তারা যে প্রতিবেদন দিয়েছে, আমরা তা একসেপ্ট করছি না।”

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এইচআরডব্লিউর ৮২ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, কেবল ২০১৬ সালেই অন্তত ৯০ জনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর ২০১৭ সালের প্রথম পাঁচ মাসে নিখোঁজ হয়েছে অন্তত ৪৮ জন। এদের মধ্যে বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাও আছেন।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস গোপন স্থানে আটকে রাখার পর তাদের আদালতে হাজির করা হয়েছে। তবে অন্তত ২১টি ঘটনায় আটক হওয়া ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে; আর নয়জনের সর্বশেষ অবস্থা জানা যায়নি।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া বিভাগের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, “নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাগুলো নিয়ে যথেষ্ট তথ্য থাকার পরও বাংলাদেশের সরকার আইনের শাসনের তোয়াক্কা না করে ওই ভয়ঙ্কর চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে। “মানুষকে আটক করে তারা অপরাধী কি না- সেই সিদ্ধান্ত নেয়া, শাস্তি নির্ধারণ করা, এমনকি বেঁচে থাকার অধিকার তাদের আছে কি না- তা ঠিক করার স্বাধীনতাও যেন বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দেয়া হয়েছে।”

এ অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “গুমের কথা আমরা সবসময় বলি, নানা কারণে আমাদের দেশে মানুষ গুম হয়। কোনো সময় ব্যবসায়িক কারণে, যখন দেনা হয়ে যায় তখন লুকিয়ে থাকে। কখনো বা সামাজিক কারণে লুকিয়ে থাকে। “কখনোবা বড় বড় অপরাধী যখন দেখে, পাপের ভার এমনই হয়ে গেছে যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার খোঁজ শুরু করেছে, সেই সময় সে আত্মগোপনে যায়।”

এগুলো যদি গুম বলতে হয় তাহলে ‘গুমের সংজ্ঞাই পরিবর্তন করতে হবে’ বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার দাবি, “গুমের যে খবর আছে, এর অধিকাংশই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী খুঁজে বের করেছে। যারা ব্যবসায়িক কারণে গুম হয়েছে, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের খুঁজে বের করেছে।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাদের ধরেছে, তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়েছে দাবি করে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “এর ব্যত্যয় কেউ ঘটিয়েছে বলে আমার নলেজে নেই।” মাঝে মাঝে ‘অতি উৎসাহী হয়ে দুই-একটি ঘটনা’ যারা ঘটিয়েছে, তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা এজন্য মনে করি, যে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে তা সঠিক নয়।” 

মানবাধিকার বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও সনদগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার অফিসকে বাংলাদেশে এসে তদন্তের আমন্ত্রণ জানানো উচিত বাংলাদেশ সরকারের।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি জানাতে চাই, বাংলাদেশ ইউএনের হিউম্যান রাইটস কমিশনের সদস্য, এই কমিশনের যেসব নীতিমালা ও নির্দেশনা রয়েছে সেগুলো আমাদের বাংলাদেশ মেনে চলে। আমরা সবসময় এই কমিশনের সাথে যোগাযোগ করি এবং নির্দেশনাগুলো মেনে চলি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ