ঢাকা, শুক্রবার 7 July 2017, ২৩ আষাঢ় ১৪২8, ১২ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাবির ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

নানা আয়োজন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত ‘গৌরবের ৬৪ বছর’ শীর্ষক কর্মসূচির শুরুতে সকাল ১০টায় প্রশাসনভবন চত্বরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান জাতীয় পতাকা ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটির সভাপতি বিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা প্রফেসর মো. আখতার ফারুক বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা এবং প্রাধ্যক্ষবৃন্দ নিজ নিজ হলের পতাকা উত্তোলন করেন। তারপর শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা ও বর্ণিল বেলুন-ফেস্টুন ওড়ানোর পর ভিসি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। 

এসময় সেখানে অন্যান্যের মধ্যে অনুষদ অধিকর্তা, বিভাগীয় সভাপতি, হল প্রাধ্যক্ষ, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটির সদস্য-সচিব ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর মো. মিজানুর রহমান, প্রক্টর প্রফেসর মো. মজিবুল হক আজাদ খান, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক মো. মশিহুর রহমান প্রমুখসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিনেটভবন চত্বরে ভিসি একটি বৃক্ষরোপণ করেন। এরপর এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। 

বেলা ১১টায় সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। ভিসি প্রফেসর এম আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাবির সাবেক ভিসি এবং যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত প্রফেসর এম সাইদুর রহমান খান। এতে আলোচক ছিলেন রাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর মো. নজরুল ইসলাম এবং ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর রকীব আহমদ। এছাড়া প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর গোলাম কবীরও সেখানে বক্তৃতা করেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। গত ৬৪ বছর ধরে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও প্রসারের মাধ্যমে আজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশ, জাতি ও সমাজকে আলোকিত করা ছাড়াও জাতির উন্নয়নে এক গৌরবময় ঐতিহ্যের অধিকারী। জাতির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান আছে। এদেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. জোহা ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক। মুক্তিযুদ্ধে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারী শহীদ হয়েছেন। 

জাতির জনকের অন্যতম স্বপ্ন ছিল একটি সত্যনিষ্ঠ জাতি গঠন করার যেখানে কোনো ভেদাভেদ-বৈষম্য থাকবে না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে অন্যতম সারথী। ফলে আজ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে মেধার বিবেচনায় শিক্ষার্থীরা দেশে লভ্য সর্বোচ্চ ডিগ্রিও অর্জন করতে পারছে। 

তাঁরা আরো বলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন জাতি গঠন একান্ত আবশ্যক। এই চ্যালেঞ্জ পূরণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এক অগ্রণী ভূমিকায় আছে। সে লক্ষ্যে এখানে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি উচ্চ নৈতিক চরিত্রের অধিকারী গ্রাজুয়েট তৈরি হচ্ছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ