ঢাকা, শুক্রবার 7 July 2017, ২৩ আষাঢ় ১৪২8, ১২ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনা-দর্শনা রেলপথ ডাবল লাইন হচ্ছে

খুলনা অফিস : খুলনা থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পর্যন্ত ১২৬ কিলোমিটার রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীত করা হচ্ছে। ৩ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরে এ বিষয়ে একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। ভারত সরকারের প্রতিশ্রুতি দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটের অর্থায়নে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী ৫ বছরে প্রকল্পের কাজ শেষ করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বর্তমানে ৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা থেকে মংলা পোর্ট পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প চলমান রয়েছে।

এ প্রকল্পের আওতায় খুলানা-দর্শনা ১২৬ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রডগেজ সেকশনে ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ১৪ দশমিক ৪০ কিলোমিটার লুপ নতুন ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ, একটি মেজর ও ৯টি মাইনর ব্রিজ, ১৩০টি আরসিসি বক্স কালভার্ট, সাতটি স্টেশন বিল্ডিং নির্মাণ, ৯টি স্টেশন বিল্ডিং পুনর্বাসন, ২৫টি প্লাটফর্ম নির্মাণ, বিদ্যমান ১২টি স্টেশনের প্লাটফর্ম পুনর্বাসন, ১৭টি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ এবং ১৮টি রেলওয়ে স্টেশনে সিবিআই ইন্টারলকিং সিগন্যালিং সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সূত্র জানান, মার্চ মাসের শেষের দিকে এ বিষয়ে প্রকল্প যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফিরোজ সালাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় খুলনা-দর্শনা জংশন সেকশনে ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে ভারতের সহায়তা ধরা হয় ২ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। বাকি ৮২১ কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয় করা হবে।

সূত্র জানায়, ভারতীয় দ্বিতীয় এলওসির আওতায় খুলনা-দর্শনা জংশন সেকশনে ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি হাতে নেয় সরকার। ২০১৫ সালের জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় সফরকালে ২০০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার ঘোষণা দেন।

রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, খুলনা-দর্শনা সেকশনে বিদ্যমান লাইনের একটি অংশ পুনর্বাসনের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তাই ৩ হাজার ৮১ কোটি টাকা ব্যয় ধরে প্রকল্পটি তৈরির কাজ চলছিল। গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ জুড়ে দেয়ায় প্রকল্পটির ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

এর আগেও ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় রেলপথ মন্ত্রণালয় রেলওয়ের সংযোগ সড়কসহ দ্বিতীয় ভৈরব ও দ্বিতীয় তিতাস সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ ঋণে কুলাউড়া থেকে শাহবাজপুর সেকশন পুনর্বাসন প্রকল্পও নেয় রেলপথ মন্ত্রণালয়। এছাড়া ভারতীয় ঋণে রেলওয়ের জন্য ২৬৪টি এমজি কোচ ও দুইটি বিজি ইন্সপেকশন কার সংগ্রহ প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়। ৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা থেকে মংলা পোর্ট পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পও চলমান। আশুগঞ্জ-আখাউড়া সেকশনের তিনটি স্টেশনের সিগন্যালিং ও ইন্টারলকিং ব্যবস্থার প্রতিস্থাপন ও আধুনিকীকরণ প্রকল্প রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ