ঢাকা, শুক্রবার 7 July 2017, ২৩ আষাঢ় ১৪২8, ১২ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ব্রাশ তৈরি করে সাবলম্বী দেলদুয়ার হেরেন্দ্রপাড়ার ৫ শতাধিক পরিবার

 

দেলদুয়ার (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম হেরেন্দ্রপাড়া। নুন আনতে পানতা ফুরোয়, অভাব, অনটন ছিল যেন গ্রামের প্রতিটি ঘরের মানুষের নিত্যসঙ্গী। জীবন জীবিকার সন্ধানে দিশেহারা গ্রামের মানুষ। ঠিক এমনই সময় অন্ধকারে আলোর দিশা নিয়ে আসেন গ্রামের যুবক আব্দুল মান্নান। ঘরে ঘরে তৈরি হবে ব্রাশ, দূর হবে অভাব অনটন। এই আশার বাণীসহ নিজের অভিজ্ঞতা ও সামান্য পুঁজি নিয়ে বাড়ীর ছোট্ট ছাপড়া ঘরে শুরু করেন ব্রাশ তৈরির কারখানা। আব্দুল মান্নানের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে কিশোর বয়সে অভাবের তারনায় যখন তার বাবা আর পরিবারের খরচ যোগাতে পারছিলেন না ঠিক তখনই জীবিকার সন্ধানে চলে যান ঢাকায়। চাকরি পান ব্রাশ তৈরির কারখানায়। শুরু হয় পথচলা। দীর্ঘ ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি স্বপ্ন দেখেন নিজেই কারখানা তৈরি করার। কিন্তু শহরমুখী ব্যবসা তৈরি করতে অনেক অর্থের প্রয়োজন। যা তার ছিলনা। তাই সিদ্ধান্ত বদলে গ্রামে ফিরে এসে শুরু করেন ব্রাশ তৈরির কারখানা। তিনি এখন শুধু নিজেই স্বাবলম্বী নন বরং পাল্টে দিয়েছেন পুরো গ্রামের চিত্র। গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার এখন এই ব্রাশ তৈরীর শিল্পের সাথে জড়িত। স্থানীয় কাঁচামাল কদম কাঠ ও ঢাকার বিভিন্ন ট্যানারি থেকে গরুর লেজের চুল সংগ্রহ করে নির্ধারিত প্যাটানে বার্নিশিং ফিনিশিং সহ কয়েকটি ধাপে তৈরি করা হয় বিভিন্ন ডিজাইনের ব্রাশ। বর্তমানে আব্দুল মান্নানের তৈরি ব্রাশ শুধু বাংলাদেশেই নয় বরং দেশের গন্ডী পেরিয়ে যাচ্ছে চীনে। আব্দুল মান্নান আরও জানান, অর্থের অভাবে সরাসরি বাজারজাত করতে পারছেন তিনি। তার তৈরি পণ্যগুলো নামমাত্র মূল্যে গুলিস্থান, চকবাজারের বিভিন্ন ব্রাশ তৈরির কারখানায় বিক্রি করেন। পরে তারা তাদের প্রতিষ্ঠানের লোগো লাগিয়ে সারা দেশে বাজারজাত করে। তবুও আব্দুল মান্নান এই ভেবে খুশি যে, তিনি শুধু তার নিজের ভাগ্যেরই পরিবর্তন করেননি বরং স্বাবলম্বী করে তুলেছেন দেলদুয়ার লাউহাটী ইউনিয়নের হেরেন্দ্রপাড়া গ্রামের হাজারো মানুষের। তার দাবি, সরকার বিভিন্ন কুটির শিল্প প্রস্তুতকারকদেরকে সহজশর্তে ঋণসহ নানা আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকেন। কিন্তু তাদের এই কুটির শিল্পের বিষয়ে সরকারি কোন পৃষ্ঠপোষকতাই নেই। তাই, সরকার যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে শুধু হেরেন্দ্রপাড়া নয় বরং দেলদুয়ার উপজেলায় লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তার দাবি।

আর্কাইভ