ঢাকা, শনিবার 8 July 2017, ২৪ আষাঢ় ১৪২8, ১৩ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোমানদের তৈরি কনক্রিটের ২০০০ বছর ধরে টিকে থাকার রহস্য উদঘাটন

রোমান আমলে তৈরি প্যানথিয়ন

৭ জুলাই, ইন্টারনেট : আধুনিক প্রকৌশলীদের হতবাক করার মতো একটি রহস্য এটি। ২০০০ বছর আগে রোমানদের তৈরি করা কনক্রিটের জেটিগুলো কীভাবে এত বছর ধরে টিকে আছে, যেখানে আধুনিককালে ইস্পাতের কাঠামোতে মোড়ানো কনক্রিট মাত্র কয়েক দশকের মধ্যেই ক্ষয় হয়ে যায়?
এমনকি প্লিনি দ্য এলডারও ৭৯ খ্রিস্টাব্দে লেখা তার নেচারেলিস হিস্টোরিয়াতে লিখেছেন যে, প্রাচীন বন্দরগুলোতে ব্যবহৃত কনক্রিটের কাঠামো একটি একক পাথুরে পরিণত হয়, যার ভেতরে সাগরের পানি ঢুকতে পারে না এবং সাগরের ঢেউয়ের একের পর এক আঘাতের পরও সেটি দিনে দিনে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
এখন যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে, তারা এই রহস্যের একটি কিনারা করতে পেরেছেন। এর ফলে শেষ পর্যন্ত তারা এখন সমুদ্রে এমন প্রতিরোধী কাঠামো তৈরি করতে পারবেন যা সমুদ্র্র¯্রােতে ও কালস্রোতকে উপেক্ষা করে টিকে থাকতে পারবে। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে, রোমান নির্মাতারা সমুদ্রের পানির সঙ্গে আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণ থেকে পাওয়া ছাইয়ের মিশ্রণ ঘটাতেন। এর ফলে পরস্পর সংবদ্ধ একটি খনিজ পদার্থের সৃষ্টি হয় এবং সেটি কনক্রিটের এমন একটি রূপ লাভ করে যার ভেতর কোনও কিছুই ঢুকতে পারে না।
এই গবেষণাকর্মে নেতৃত্বদানকারী ইউটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, ভূতত্ত্ব ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ম্যারি জ্যাকসন বলেন, “আমরা এমন একটি পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছি যেটি সিমেন্টভিত্তিক কনক্রিটের ক্ষেত্রে কেউ আশা করবেন না। পদ্ধতিটা এমন যে, তাতে সমুদ্রের পানির সঙ্গে একটি উন্মুক্ত রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।”
রোমান প্রকৌশলীরা আগ্নেয়গিরির উদগীরণ থেকে পাওয়া ছাইয়ের সঙ্গে চুন ও সমুদ্রের পানির একটি মিশ্রণ তৈরি করতেন এবং তার সঙ্গে আগ্নেয় শিলাখ- যোগ করতেন। ছাই, পানি ও চুনের মিশ্রণ এক ধরণের বিক্রিয়া সৃষ্টি করতো যার ফলে এই পি-টি শুকিয়ে গেলে তার ভেতরের ফাঁকগুলোতে ক্রিস্টাল গঠিত হতো। এটিকে নেপলসের উপকূলীয় একটি শহরের নাম অনুসারে পোজ্জোলানিক রিঅ্যাকশন বলা হয়।
এই একই বিক্রিয়া প্রকৃতিতেও ঘটে এবং আগ্নেয়গিরির আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ‘টাফস’ নামের প্রাকৃতিক সিমেন্টের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। রোমানরা সম্ভবত এই টাফস-এর অস্তিত্ব থেকেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ