ঢাকা, সোমবার 10 July 2017, ২৬ আষাঢ় ১৪২8, ১৫ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা ইস্যু কোন পথে?

অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকার জানিয়েছে, তারা রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর নিপীড়নের ঘটনা তদন্তে জাতিসংঘ মিশনকে ভিসা দেবে না অথচ দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূলের মতো অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি মিয়ানমারের পররাষ্ট্র বিষয়ক সচিব কেয়াও জেয়া সংসদকে বলেছেন, তারা যদি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনে কাউকে পাঠাতে চায়, তাহলে তাদেরকে সেই অনুমতি প্রদানের কোনো কারণ নেই। বিশ্বজুড়ে আমাদের মিশনকে এই ধরনের নির্দেশনা দেয়া আছে।
জাতিসংঘ গত মার্চে এই তদন্তের উদ্যোগ নেয়ার পরই মিয়ানমার সরকার বলেছিল যে, তারা এই উদ্যোগকে সহায়তা করবে না এমনকি আন্তর্জাতিক তদন্তের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন নোবেলজয়ী অং সান সু চি নিজেও তিনি বলেছেন, এই উদ্যোগ বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর শত বছর ধরে মিয়ানমারের জাতিগত নিপীড়নের বিস্তর প্রমাণ রয়েছে। দশকের পর দশক ধরে সেখানকার সরকার রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসাবে আখ্যা দিয়ে আসছে, যা তাদেরকে রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীতে পরিণত করেছে।
স্থানীয় বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর মানুষ যেমন তাদের নিপীড়নে অংশ নিচ্ছে, তেমনি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজনও আক্রমণ-হত্যায় অংশ নিচ্ছেন বলে খবর আসছে।
এ অবস্থায় সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে গত মার্চে জাতিসংঘ যে প্রস্তাব আনে, তা থেকে নিজেদেরকে দূরে রেখেছে মিয়ানমারের বৃহৎ দুই প্রতিবেশী ভারত এবং চীন। অন্যদিকে মিয়ানমার বলছে, তারাই এ ঘটনার তদন্ত করবে। সেখানে অন্যায় কিছু ঘটে থাকলে, সে জন্য তাদের তদন্তই যথেষ্ট।
কেয়াও জেয়া বলেন, যেখানে অভ্যন্তরীণ কাঠামো ভেঙে পড়েনি, সেখানে কেন এ ধরনের অনাহুত চাপ দেয়া হচ্ছে?
গত বছর রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের একটি দল গত বছর রাখাইন রাজ্যে সীমান্ত পুলিশের উপর হামলা করে যাতে নয়জন পুলিশ নিহত হয়। এরপর সর্বশেষ এই সংঘাত শুরু হয় সরকারি বাহিনী কঠোরভাবে অভিযান শুরু করে।
রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে বলে গত ফেব্রুয়ারিতে দেয়া এক প্রতিবেদনে উঠে আসে যার মধ্যে গণহত্যা এবং গণধর্ষণের মতো ঘটনাও রয়েছে।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বর্তমানে প্রায় বন্দী জীবন কাটাচ্ছে তাঁরা ঠিকমতো চলাফেরা এবং জীবিকা নির্বাহও করতে পারেন না কারণ তাঁদের কাছে পরিচয়পত্র নেই এ কারণে দিনে দিনে সেখানে তাদের অবস্থা আরো খারাপ হচ্ছে।
ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকেই রোহিঙ্গাদের উপর বার্মিজ সরকার চেপে বসেছিল তবে তখন নিপীড়ন থাকলেও অনেক অধিকারও ভোগ করতো।
১৯৭৮ সালে সরকারি বাহিনীর অভিযানে লাখ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে এলে, এদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কথা বলা শুরু হয় তখন মিয়ানমার সরকার ভেতরে ভেতরে নতুন নাগরিক আইন তৈরিতে হাত দেয়, যা ১৯৮২ সালে পাস হয়।
সেই আইনের মাধ্যমেই কেড়ে নেয়া হয় এই জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব। সেখানে বলা হয়, ১৮২৩ সালের পূর্বে যারা মিয়ানমারে বসতি স্থাপন করেছেন, কেবল তাঁরাই সেখানকার নাগরিক হবে অর্থাৎ নাগরিক হিসাবে যে নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোর নাম রয়েছে, সেখানে রোহিঙ্গাদের নাম নেই।
কোন গোষ্ঠী নাগরিকত্ব পাবে  তা নির্ধারণের এখতিয়ার দেয়া হয় এই আইনের অধীনে গঠিত কাউন্সিলকে
সামরিক সরকারের আমলে জাতিগত নিপীড়নের শিকার এই গোষ্ঠী গণতান্ত্রিক আমলে কিছুটা ভালো অবস্থায় থাকবে  এমন আশা অনেকেই করেছিলেন।
সু চির নেতৃত্বাধীন দল ক্ষমতার আশার পরও সেই আশা মিইয়ে যেতে থাকে এর মাঝেই অনেকে আশা করেছিলেন, একদিন দেশটিতে বদলাবে সংবিধান যাতে কমবে সামরিক খবরদারি, এই পথ ধরে একদিন বদলাবে নাগরিকত্ব আইনও।
তবে এ বছরের প্রথম দিকে দেশটির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী এবং ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির অন্যতম উপদেষ্টা ইউ কো কি প্রকাশ্যে গুলীবিদ্ধ হয়ে খুন হন। তিনি সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে কাজ করছিলেন।
বার্মিজ মুসলিম কো কি রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন বলে মনে করা হতো। তাঁর মৃত্যুর ফলে ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির মধ্যে রোহিঙ্গাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত আসা আরো কঠিন হয়ে গেল বলে অনেকেই মনে করছেন।
ইন্টারনেট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ