ঢাকা, সোমবার 10 July 2017, ২৬ আষাঢ় ১৪২8, ১৫ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সরকারের পরিবর্তন না হলে দেশের প্রতিটি সেক্টরে অশান্তি সৃষ্টি হবে -মির্জা আব্বাস

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে বকরত উল্লাহ বুলু, সাইদ হাসান মিন্টুসহ বিএনপির সকল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ভরাট হওয়া খাল সংস্কার না করে নুতন করে ড্রেন নির্মাণ করার কারণেই ঢাকায় ‘জলজট-জলাবদ্ধতা’ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক মেয়র  ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। গতকাল রোববার বিকেলে এক সমাবেশে তিনি এই অভিযোগ করেন। মির্জা আব্বাস আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার যদি পরিবর্তন না হয় তাহলে ঢাকা শহরসহ গোটা দেশের প্রতিটি সেক্টারে ধস নামবে এবং অশান্তির সৃষ্টি হবে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানও জান্না তিনি।  জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে যুব দল দক্ষিনের উদ্যোগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুব দল দক্ষিনের নেতা সাঈদ হাসান মিন্টু ও মিজানুর রহমান টিপুর মুক্তির দাবিতে এই সমাবেশ হয়।
মহানগর দক্ষিন যুব দলের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু‘র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা শাহীনের পরিচালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুব দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করীম বাদরু, বিএনপির আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, মহানগর দক্ষিন বিএনপির সহসভাপতি ইউনুস মৃধা, মীর আশরাফ আলী আজম, ছাত্র দলের সাধারন সম্পাদক আকরামুল হাসান প্রমূখ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা বেড়েছে আগের চাইতে অনেক, এখন চলাফেরা করা যায় না। শীতকালে ধুলা আর বর্ষাকালে এই সময় বৃষ্টি আর জলজট-জলাবদ্ধতা। উনারা(ক্ষমতাসীনরা) অবৈধভাবে টাকা উপার্জন করার জন্য অন্যায়ভাবে ঢাকা শহরের রাস্তা-ঘাটগুলো কাটলো। তিনি বলেন, আমি সিটির মেয়র ছিলাম। আমি দেখলাম আমার বাড়ির (শাহজাহানপুর) সামনে উত্তরে-দক্ষিনে, পূর্বে-পশ্চিমে পুরো ঢাকা শহরজুড়ে ড্রেন (নর্দমা) করে ভরে ফেললো। আমি ইঞ্জিনিয়ারকে জিজ্ঞাসা করলাম, এই ড্রেন কেনো হচ্ছে? তিনি বললেন স্যার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য। আমি বললাম, জলাবদ্ধতা নিরসন না উন্নয়নের নামে মাল কামানো- কোনটা? উন্নয়নের নামে মাল কামানো।
জলাবদ্ধতা দূরীকরণে অবৈধভাবে দখলকৃত খালগুলো উন্মুক্ত করার বিষয়টির ওপর জোর দিয়ে ঢাকার সাবেক মেয়র মির্জা আব্বাস বলেন,  যদি ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্যে সরকারের সদিচ্ছা থাকে তারা যেটা করতে পারতেন তা হচ্ছে, যেখান দিয়ে আমাদের শহরের পানিগুলো নেমে যায় অর্থাৎ যা ভরাট করে ফেলেছে ভূমিদুস্যরা। সেই জায়গাগুেেলা ক্লিয়ার(উন্মুক্ত) করে দিলেই কিন্তু এতো ড্রেন নির্মাণ করতে হয় না।  ঢাকা শহরে যে ড্রেন আছে তা যথেষ্ট আছে। নতুন করে ড্রেন করে টাকার অপচয় করতো না।
ঢাকা-চট্টগ্রামের সড়ক পথের ‘বেহাল’ অবস্থার চিত্র তুলে ধরেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, যৌবন বয়সে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে সড়ক পথে বহুবার আমি জার্নি করেছি, আমি নিজে গাড়ি ড্রাইভ করেছি। আমরা ৫/৬ ঘন্টায় চট্টগ্রাম গিয়েছি। কেবল একাত্তর সালে যখন রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ছিলো না, তখন ১২ ঘন্টা লাগতো। এখন কী ফোর লাইন করতেছেন, কইরা তো বাংলাদেশের মানুষের নাভিশ্বাস বাড়াই দিছেন। ঢাকা-চট্টগ্রামে রাস্তা-ঘাটের কী অবস্থা আল্লাহই জানেন। যদিও কাজ-কর্মের বিল দেয়া হচ্ছে ঠিকই।
ফরহাদ মজহার অপহরণের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সারাদিন পর রাতে ফরহাদ মজহারকে পাওয়া গেলো, যারা অপহরণ করলো তাদের পাওয়া গেলো না। যে গাড়ি দিয়ে নিয়ে গেলো সেই গাড়িটাও পাওয়া গেলো না। মানুষ বুঝে, বলে না। প্রধানমন্ত্রীকে বলব, আপনি তো সব কিছুই জানেন। শুনা যায় আপনি উদ্ধারকাজে যথেষ্ট সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এবং সেদিন পুলিশকে অনেকটা তৎপর করেছেন, পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে। নিশ্চয় আপনি জানেন কারা করেছে। তাদের মুখোশটা খোলাশা করতে আপনার সমস্যা কোথায়?
শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সে কারণেই বলব, আপনি বলেন বা না-ই বলেন, মানুষ আকার-ইঙ্গিতে সব কিছু বলছে। আমি বলব, মানুষ যা ভাবছে তা সঠিক না বেঠিক তা পরিস্কার করুন। এই রহস্যের জ্বালে গোটা জাতিকে আতঙ্কের মধ্যে আর রাখবেন না।  স্বাধীন বাংলাদেশের আপনি সরকার পরিচালনা করেন না, এর অন্তরালে অন্য কেউ সরকার পরিচালনা করে, এটা জানা মানুষের অনেক আগ্রহ। এই  স্বাধীনতা রক্ত দিয়ে কেনা, এই স্বাধীনতা জীবন দিয়ে কেনা, এই স্বাধীন কোনো ভিক্ষার দান নয়। কারণ যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করতে গিয়ে অনেক মায়ের কোল খালি হয়েছে, অনেক মা বিধবা হয়েছেন, অনেকে সন্তানহারা-ভাই-বোনহারা হয়েছেন, অনেকে ইজ্জতহারা হয়েছেন।  এতো ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশে পর্দার অন্তরাল থেকে অন্যরা খবরদারি করবে, কথা বললে দেশের মাটি থেকে তুলে নিয়ে যাবে। আর প্রতিবাদ করার ভাষা আমরা খুঁজে পাই না। সুতরাং দেশে কাপুরোষোচিত বেঁচে থেকে স্বাধীন আছি একথা বলা শোভা পায় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ