ঢাকা, সোমবার 10 July 2017, ২৬ আষাঢ় ১৪২8, ১৫ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

যবিপ্রবির ২ ছাত্রলীগ নেতার বিরদ্ধে এন্তার অভিযোগ

যশোর সংবাদদাতা : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম শামীম হাসান ও শহীদ মশিউর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি বিপ্লব কুমার দের নির্যাতন, অপকর্ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং তাদের দু’জনের বহিষ্কারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে বক্তারা বলেন- এসএম শামীম হাসান এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করেই চলেছে। সে বিপ্লব কুমার দেকে সাথে নিয়ে নানা ধরণের অপকর্মসহ দুর্নীতি করছে। শামীম হাসান মেধাবী শিক্ষার্থী রিয়াদ হত্যার আসামি। তার নেতৃত্বে এ হত্যাকান্ডটি ঘটে। সে ২০১৬ সালের মে মাসে শহীদ মশিউর রহমান হল দখল করে বিপ্লব কুমার দেকে হল ছাত্রলীগের সভাপতি বানিয়ে ৩য়তলা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বের করে নিজস্ব বাহিনী দিয়ে পূর্ন করে। সে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে হল থেকে জোরপƒর্বক মাথাপ্রতি ৩০ টাকা হারে চাঁদা তুলে বিদেশী মদপান করে। ইতিপূর্বে ছাত্রলীগের নামে ফরম দিয়ে ১০০ টাকা করে আদায় করেছে। হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মূল্য ১০ টাকা করে বৃদ্ধিকরে এবং মাসের ১ থেকে ৩ তারিখের মধ্যে ৭৫০ টাকা আদায় বাধ্যতামূলক করেছে। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ২৬ হাজার টাকার মাছ বিক্রিসহ নতুন শিক্ষক নিয়োগের সময় কমপক্ষে ৮ জন শিক্ষকের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। একই সাথে সুইপার নিয়োগে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ক্যাম্পাস চত্বরে চটপটি ও ফুচকার দোকানদার দের কাছ থেকে প্রতিদিন ৫০০ টাকা হারে চাঁদা নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া কাসরুমের প্রজেক্টর ও এয়ার কন্ডিশনার ক্রয়ে সে দুর্নীতি করে। ভবন নির্মাণের সময়ে ও সে চাঁদা আদায় করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি সে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে। ইতিপূর্বে সে চৌগাছায় অ্যাম্বুলেন্সে ভারতীয় মদ ও ফেনসিডিলসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। সে তার রুম এমন বিলাশবহুলভাবে সাজিয়েছে যে, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও এমনটা করেন না। রাতের বেলায়ও সে শিক্ষার্থীদের অস্ত্রের মুখে পণবন্দী করে শিক্ষার্থীদের মিছিলে যেতে বধ্যি করে। ইতিপূর্বে শামীম ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থীদের কোন কারণ ছাড়াই লাঞ্ছিত করে। যে কারণে এই বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম ২ মাস বন্ধ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার মেয়েদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের সাথে অনৈতিক কাজ করে। ইতিপূর্বে শামীম ও তার বাহিনীর হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী অসিম, মাহবুব, রাব্বাণী, মাসুদ, মৌসুমি, আতিক, জয়দেব, রায়হান অন্তর, ফারুখ, সার্জিয়া, রিক্তা, মুক্তা নাসিমসহ আরো অনেকে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে এসএম শামীম ও বিপ্লব কুমার দেসহ তাদের সহযোগীদের বহিষ্কারের জন্য ভিসির প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের জন্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি আহ্বান জানান। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পিয়াস, সোহেল, আসিফ, কামরুজ্জামান, ইকরামুল কবীর, আব্দুল আলিম, এরিন, মৃত্যুঞ্জয়, বাপ্পী, জিকো, ফাহাদ প্রমুখ। মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক’শ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ