ঢাকা, মঙ্গলবার 11 July 2017, ২৭ আষাঢ় ১৪২8, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সোনাগাজীতে ধসে গেছে আরও একটি স্লুইসগেট মানুষের ভরসা এখন বাঁশের সাঁকো

ফেনী সংবাদদাতা: ফেনীর সোনাগাজীর চর দরবেশ ইউনিয়নের পশ্চিম চর দরবেশ গ্রামে ইঞ্জিমান খালের মুখে গত মঙ্গলবার রাতে একটি স্লুইসগেট পানির তোড়ে ধসে গেছে। এর আগে গত সোমবার দুপুরে ছোট ফেনী নদীর মুখে আরও একটি স্লুইসগেট বেড়িবাঁধসহ ধসে যায়। ভারী বর্ষণের কারণে এ নিয়ে গত তিন দিনে উপজেলার ১২টি স্লুইসগেটের মধ্যে দুটি স্লুইসগেট ধসে গেল।
গত বুধবার সকালে পশ্চিম চরদরবেশ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ফেনী নদীর শাখা খাল ইঞ্জিমান খালের ওপর স্থাপিত স্লুইসগেট ধসে যাওয়ায় খালের পানি প্রবল বেগে নদীতে গিয়ে পড়ছে। স্লুইসগেটের ওপর সড়কটিও বিলীন হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সাঁকো তৈরি করে এলাকার লোকজন চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। স্লুইসগেট ধসে যাওয়ায় চর দরবেশ ইউনিয়নের পশ্চিম চর দরবেশ গ্রামের চার হাজার বাসিন্দা বিপাকে পড়েছে। নদীতে জোয়ারের সময় ঘরবাড়িতে পানি ওঠার আশঙ্কা করছেন তারা।
ফেনীস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কোহিনুর আলম জানান, ইতিমধ্যে পশ্চিম চরদরবেশ গ্রামে ধসে যাওয়া স্লুইসগেট দেখতে এলাকায় গিয়েছি। বর্ষা মৌসুম শেষে সংস্কার ও মেরামতের কাজ শুরু করা হবে। ধসে যাওয়া বেড়িবাঁধের সড়ক-সংস্কার করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
পাউবো সূত্রে জানা যায়, এ অঞ্চলকে সাগরের লোনা পানি থেকে রক্ষা ও মিঠা পানি ধরে রাখার জন্য নানা সময়ে মোট ১২টি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে দুটি ধসে গেছে। বাকি ১০টিও অকেজো পড়ে আছে।
সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান জেড.এম কামরুল আনাম বলেন, উপজেলার বিভিন্ন খালের মুখে স্থাপিত স্লুইসগেট দ্রুত সংস্কারে পাউবোকে উদ্যোগ নিতে হবে। উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ইতিমধ্যে পাউবো কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
অপরদিকে, সোনাগাজীর মধ্যম চর দরবেশ এলাকায় স্লুইসগেট ভেসে গিয়ে দুই ভাগ হয়ে গেছে সড়ক। চলাচলের জন্য নির্মিত হয়েছে বাঁশের সাঁকো। মধ্যম চর দরবেশ গ্রামে শকুনী খালের মুখের স্লুইসগেট ও বেড়িবাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশে গত বুধবার নির্মিত সেই সাঁকোই এখন ১০ গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষের চলাচলের ভরসা।
গত সোমবার দুপুরে প্রবল স্রোতের তোড়ে প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো এই স্লুইসগেটটি ধসে পড়ে। ফলে চর চান্দিয়া ও চর দরবেশ ইউনিয়নের ১০ গ্রামের মানুষ যাতায়াত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য এই বেড়িবাঁধ সড়কটিই একমাত্র মাধ্যম। স্লুইসগেট ভাঙার খবর পেয়ে সোমবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সাময়িকভাবে মানুষ পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকো নির্মাণের ঘোষণা দেন। এলাকাবাসী জানান, গত বুধবার সকাল থেকে দুই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নেয়ামত উল্যাহ ও আবু সুফিয়ানের তত্ত্বাবধানে সাঁকো নির্মাণকাজ শুরু হয়ে দুপুরের মধ্যে শেষ হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ