ঢাকা, মঙ্গলবার 11 July 2017, ২৭ আষাঢ় ১৪২8, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুতের আলোর বিপ্লব

খুলনা অফিস: সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুতের আলোর বিপ্লব ঘটেছে খুলনা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার গ্রামগুলোতে। শত শত পরিবার এখন ব্যবহার করছে সোলার। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও ব্যাপক ভিত্তিতে বিক্রি হচ্ছে সোলার। তবে সরকারি থেকে বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সোলার বিক্রিতে এগিয়ে। অনুন্নত এসব এলাকায় এখন প্রযুক্তির ব্যবহারও বেড়েছে। বিদ্যুতের আলো না পৌঁছালেও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও এখন রাতের বেলা বিদ্যুতের আলো জ্বলে। এ আলোয় এখন নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। বদলে যাচ্ছে জীবনযাত্রা। বাড়ছে স্কুল কলেজগামী ছাত্র ছাত্রীদের সংখ্যা। পল্লী বিদ্যুতের সেবা বঞ্চিত গ্রামের মানুষগুলো জানান, এখন তারা ছেলে মেয়েদের নিয়ে ভালো আছেন। দিনের আলো নিভে গেলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে সোলারের আলোয় আলোকিত হচ্ছে ঘর-বাড়ি। ছেলে মেয়েরা পড়ার টেবিলে বসছে। পিছিয়ে পড়া এসব গ্রামগুলো বিভিন্ন ধরনের বিপদ-আপদ থেকেও এখন অনেকটা মুক্ত।  খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত মুক্তা, খগেন নাগ, দিদার ও আব্দুর রহিম জানান, তাদের স্বাভাবিক জীবনের পরিবর্তনের নানা ইতিবাচক দিক। সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে তারা এখন টেলিভিশনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের সংবাদসহ বিনোদন গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। শুধু তাই নয়, কম্পিউটারের ব্যবহারও শিখে ফেলছেন তারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব এলাকায় সরকারি ও বেসরকারিভাবে সোলার সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ২০০৬ সাল থেকে শুরু হয় সোলার বিক্রির কার্যক্রম। সরকারিভাবে সোলার এনার্জি প্রজেক্ট-এর আওতায় পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন গ্রামাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার বিক্রির কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ফাউন্ডেশনের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাগেরহাট, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ও নড়াইলের ১৬ উপজেলায় সাড়ে ৪ হাজার সোলার বিক্রি করেছে। সর্বনিম্ন ১০ ওয়াটের একটি সোলার দিয়ে ২টি বাল্ব জ্বালানো যায়। দাম মাত্র ৬ হাজার টাকা। এছাড়াও সর্বোচ্চ ৮৫ ওয়াটের একটি সোলারের মাধ্যমে একটি এলইডি টিভি, ৭টি বাল্বসহ ফ্যান চালানো যায়। এর দাম কিস্তিতে মাত্র ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা। পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক বেগম মনিজা বেগম বলেন, যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল কল্পনাতীত এখন সেখানে পৌঁছে গেছে সোলার বিদ্যুৎ। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ এখন টিভি দেখছে। ছেলেমেয়েরা বিদ্যুতের আলোয় পড়াশোনা করতে পারছে। তিনি বলেন, তবে প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে পারলে এর ব্যবহার আরও বাড়ানো সম্ভব। তিনি জানান, সরকারিভাবে সরবরাহ করা সোলারের মান ভাল থাকায় দাম একটু বেশী। যে কারণে গ্রাহকরা দাম কম থাকায় বেসরকারিভাবে সরবরাহ করা সোলারের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে বেশী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ