ঢাকা, মঙ্গলবার 11 July 2017, ২৭ আষাঢ় ১৪২8, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আদরের সন্তানদের খুঁজে ফেরেন হতভাগ্য মায়েরা

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতাঃ আজ থেকে ছয় বছর আগে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ কেড়ে  নেয় ৪৪ জন শিক্ষার্থীর। আজ ১১ জুলাই শোকাবহ মিরসরাই ট্র্যাজেডির ৬ষ্ঠ বর্ষপূর্তি। মিরসরাই স্টেডিয়াম থেকে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলা দেখে আবুতোরাবে ফেরার পথে সৈদালীতে একটি ডোবায় পতিত হয় শিক্ষার্থীদের বহনকারী মিনি ট্রাক। একে একে মারা যায় ৪৪ জন স্কুল শিক্ষার্থী।
নিহত স্কুল শিক্ষার্থী তাকিউল্লাহ মাহমুদ সাকিবের মা পারভীন আক্তার বলেন, সাকিবের পড়ার টেবিল এখনো সেই আগের মতোই আছে। তার স্মৃতিচিহ্ন আগলে রাখবো আজীবন। তিনি বলেন, ছয় বছরে একদিনের জন্যও ভুলতে পারিনি প্রিয় সন্তানকে। সাকিবের বোন তাসনিম জাহান তার প্রিয় ভাইটি ছবি এঁকেছে আবুতোরাব স্কুলে নিহত ভাইয়ের স্মৃতি ফলকে দেয়ার জন্য।
 মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে নিহতদের বাড়িতে স্বজনদের খোঁজ খবর নিতে গিয়ে এক হৃদয় বিদায়ক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে। আদরের সন্তানের স্মৃতি যেন কিছুতেই ভুলতে পারছেন না তারা। ট্র্যাজেডিতে নিহত, সাইদুল, নয়ন, ইফতেখার, কামরুলের মায়েরা সন্তানের ছবি বুকে নিয়ে এখনো পথ চেয়ে থাকেন, ছেলে বাড়ি ফিরবে মা বলে ডাকবে এ আশায়।
 মায়ানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির নিজামী বলেন, ১১ জুলাই আমাদের জীবনে এক শোকাবহ দিন। ৪৫ জন শিক্ষার্থীকে হারানোর শোক আমরা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে ১১ জুলাই (মঙ্গলবার) নিহত স্কুল শিক্ষার্থীদের স্মরনে সকাল ৮টায় মসজিদ, মন্দির, গীর্জায় বিশেষ প্রার্থনা, সকাল ৯টায় আবুতোরাব স্কুল প্রাঙ্গণে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভ আবেগ থেকে শোক র‌্যালী বের হয়ে দুর্ঘটনাস্থল অন্তিমে গিয়ে শেষ হবে। সকাল দশটায় আবেগ ও অন্তিমে শ্রদ্ধাঞ্জলী করার জন্য সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। সকাল ১১টায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সার্বিক সহযোগীতায় ও আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় মিরসরাই ট্র্যাজিডিতে নিহতদের স্মরণে শোক সভা অনুষ্ঠিত হবে। শোক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডা. ঈসমাইল খান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখবেন উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ইয়াছমিন আক্তার কাকলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী সহ নিহতদের পরিবারের সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
সেদিন যা ঘটেছিল :
১১ জুলাই ২০১১, সোমবার : মিরসরাই স্টেডিয়াম থেকে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল ফাইনাল খেলা শেষে একটি মিনি ট্রাকে করে বিজয়ী এবং বিজিত উভয় দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা আবুতোরাব এলাকায় যাচ্ছিল। বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের  সৈদালী এলাকায় ৬০-৭০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ডোবায় উল্টে যায় মিনিট্রাকটি। যার নং চট্টমেট্রো - ড - ১১-০৩৩৭। ডোবার জল থেকে একে একে উঠে আসে লাশ আর লাশ। ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর রাত ৯ টায় নয়নশীলের প্রয়ান পর্যন্ত ৪৫ টি মৃত্যু গুণতে হয়। সব মিলিয়ে ৪৫ জনের প্রাণের বিনিময়ে রচিত হয় মিরসরাই ট্র্যাজেডি।
সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী নিহত হয় আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের । উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৩ শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়। এ ছাড়া আবুতোরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩, আবুতোরাব ফাজিল মাদরাসার ২, প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের ২, এবং আবুতোরাব এস এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ জন শিক্ষার্থী মারা যায়। এছাড়া একজন অভিবাবকও প্রাণ হারায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ