ঢাকা, বুধবার 12 July 2017, ২৮ আষাঢ় ১৪২8, ১৭ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঢাকার বাইরে চিকুনগুনিয়া হওয়ার তথ্য নেই ॥ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে

 

সংসদ রিপোর্টার : দেশের শতকরা ১১ জন চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য আসলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ঢাকার বাইরে কেউ চিকনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। চিকনগুনিয়া সর্ম্পকে যেভাবে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে তা সঠিক নয়। চিকনগুনিয়া মরণঘাতি নয়। চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মিডিয়াকে কোনো ধরনের আতংক তৈরি না করার অনুরোধ জানান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সংসদে ৩০০ বিধি ও ৭১ বিধিতে আনা একটি নোটিশের জবাব দিতে গিয়ে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। 

এন্টিবায়োটিক প্রসঙ্গে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকার এরইমধ্যে জাতীয় ওষুধ নীতি প্রণয়ন করেছে। সেখানে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এন্টিবায়োটিক উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণের জন্য মন্ত্রণালয় নিয়মিত মনিটরিং করে থাকে। ঢাকাসহ সারাদেশে ১৫০টি মডেল ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি করা হচ্ছে না। এই পদক্ষেপ সারাদেশে নেয়া হবে। ওষুধ অধিদপ্তরও এন্টিবায়োটিকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতে উপজেলা পর্যায়ে হৃদরোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। 

এন্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারে হুমকির মুখে বাংলাদেশ শিরোনামে নোটিশটি সংসদে উত্থাপন করেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু। এতে তিনি বলেন, যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ও অন্যান্য ঔষধের কার্যকারিতা দিন দিন কমছে। এ কারণে সংক্রামণ রোগের নিয়ন্ত্রণও কঠিন হয়ে পড়ছে। জনস্বাস্থ্যের প্রতি এই হুমকি জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি তাগিদ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে সংক্রামক রোগে ব্যাধির প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে অর্জিত সব সাফল্য পুরোপুরি পাল্টে যাবে। এন্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রতিবছর আমাদের দেশেও লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। নোটিশে তিনি চিকিৎসকদের লিখিত পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বিক্রি না করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো পুরোপুরি ঔষধ, খাবার বিষয়ে বিক্রেতা, জনসাধারণ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে জনসচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি বলে উল্লেখ করেন। 

চিকুনগুনিয়া নিয়ে আতংক তৈরি করবেন না

এদিকে ৩০০ বিধিতে দেয়া বিবৃতিতে চিকুনগুনিয়া নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, এডিস মশার কারণে চিকুনগুনিয়া হয়ে থাকে। এ রোগটি নিরাময়ের জন্য মন্ত্রণালয় কয়েক মাস ধরে কাজ করছে। এ রোগে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। এটা মরণঘাতি রোগও নয়। মন্ত্রী জানান, ঢাকার বাইরে কেউ এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে এ ধরনের কোনো তথ্য সিভিল সার্জনরা দেননি। যে কয়জনের খবর পাওয়া গেছে তারা আসলে ঢাকায় আক্রান্ত হয়ে গ্রামে গিয়েছিলেন। মন্ত্রী বলেন, চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসক, নার্সদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদেরও এ নিয়ে সচেতন বাড়ানো হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। দুই সিটি কর্পোরেশনের ৪৫টি ওয়ার্ডে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসময় তিনি মিডিয়ার উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা এ নিয়ে আতংক তৈরি করবেন না। বিশ্রাম আর পানি খেলে এটা রোগ ভালো হয়ে যায়। এ নিয়ে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ