ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 July 2017, ২৯ আষাঢ় ১৪২8, ১৮ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মানুষের সেবা করতে পারছি এটাই বড় পাওয়া

সংসদ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, তার জীবনে কোনো চাওয়া পাওয়া কিংবা আকাক্সক্ষা নেই। তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং অর্থনৈতিক মুক্তির জনজীবন দিয়ে গেছেন। বাবার আকাক্সক্ষা পূরণই তার লক্ষ্য। মানুষের জন্য কিছু করার সুযোগ পেয়েছেন, মানুষ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে সেবা করার সুযোগ দিয়েছে, মানুষের সেবা করতে পারছেন- এটিই তার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের মহাসড়কে অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্য জনগণকে এগিয়ে চলার শক্তি যোগাচ্ছে। উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় লাল সবুজের নিশানা নিয়ে, আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ১৬ কোটি জনগণের আস্থা ও সমর্থনের প্রতীকে পরিণত হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের আগেই উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত হবে। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে তিনি প্রস্তুত।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের বিস্ময়ে পরিণত হয়েছে। একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে মশাল বঙ্গবন্ধু জ্বালিয়ে রেখে গিয়েছিলেন ৪২ বছর আগে, তার সুযোগ্য উত্তরসূরীরা আজও নিষ্ঠার সঙ্গে তা বহন করে চলেছেন।

দেশের মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নে সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আদর্শ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ। বাংলার কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও রক্ত দিয়ে লেখা বাঙালি জাতীয়তাবাদ। যে কারণে আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের মহাসড়কে অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্য জনগণকে এগিয়ে চলার শক্তি যোগাচ্ছে।

একই প্রশ্নকর্তার সম্পূক প্রশ্নে জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলতে যা যা করার দরকার বঙ্গবন্ধু সরকার করেছেন। বঙ্গবন্ধু দেশের মানুষকে ভালবাসতেন। এদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য জীবন দিয়ে গেছেন।

ছয় বছর (১৯৭৫ থেকে ১৯৮১) রিফিউজি হিসেবে দেশের বাইরে থাকতে হয়েছে। রিফিউজি হিসেবে অন্য দেশে থাকা যে কত বেদনাদায়ক ও কষ্টকর সেটা আমি মর্মে মর্মে বুঝতে পেরেছি।

নিজের পথচলা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ফিরে বৈরি পরিবেশের মধ্য̈দিয়ে তাকে চলতে হয়েছে। তার চলার পথ কখনও কুসুমাস্তির্ণ ছিল না, কন্টকাকির্ণ ছিল। বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমার কোনোক্ষমতার লোভ নেই। আমাদের ছেলেমেয়েদেরও সেভাবে তৈরি করেছি। লেখাপড়া শিখিয়েছি। তাদেরও কোনো চাহিদা নেই। তারা কখনও বলে না এ ব্যবসা দিতে হবে ওই ব্যবসা দিতে হবে। তারা এরকম কোনো বিরক্ত করে না। যেমন ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা ও অটিজম নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন বিষয় তারা আমাকে সহযোগিতা করে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যপূরণের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মানুষের আয় বেড়েছে, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ নিজস্ব^ অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো দীর্ঘতম সেতু নির্মাণ করার সাহস নিতে পেরেছে। নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বে প্রশংসিত বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে বিবেচনা করা হতো উন্নয়নের টেস্ট কেস হিসেবে, আর আজ বাংলাদেশ সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের বিস্ময়ে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার আধুনিক রূপই হচ্ছে আজকের ডিজিটাল বাংলদেশ। রূপকল্প ২০২১-এর অধীনে ঘোষিত সময়ের আগেই একটি সুখী, সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য আওয়ামী লীগ আজও নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

সাবমেরিন ক্রয়ে বহির্বিশ্বে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হবে না : ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন থেকে সাবমেরিন ক্রয়ের চুক্তি হয়েছিল। যার আওতায় দু’টি সাবমেরিন গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসে। চলতি বছরের ২৫ মার্চ সাবমেরিন দুটি তিনি বানৌজা নবযাত্রা ও বানৌজা অগ্রযাত্রা নামে কমিশনিং করেন। যা বর্তমানে নৌবহরে যুক্ত আছে।

তিনি বিশ্বাস করেন, চীন থেকে সাবমেরিন ক্রয় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক একটি সিদ্ধান্ত এবং এর ফলে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বে কোন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হবে না।

৪৬ লাখ কর্মী বিদেশে গেছেন : আয়েন উদ্দিনের তারকাচিহ্নিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদে (২০০৯ থেকে ২০১৭ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত) মোট ৪৬ লাখ ৭৯ হাজার ২২৯ কর্মী বিদেশে গেছেন।

তিনি বলেন, বিগত জোট সরকারের আমলে যেখানে বিশ্বের মাত্র ৯৭ দেশে কর্মী পাঠানো হতো সেখানে নতুন আরও ৬৫ দেশে কর্মী পাঠানোসহ বর্তমানে এই সংখ্যা ১৬২ দেশে উন্নিত হয়েছে। নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিদেশে অবস্থ’ানরত বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সরকার শ্রমবাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : কামাল আহমেদ মজুমদারের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে দেশের মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নে তারসরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন স্ব^াধীন এবং নিরপেক্ষভাবে তাদের কাজ করে যাচ্ছে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ