ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 July 2017, ২৯ আষাঢ় ১৪২8, ১৮ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সীতাকু-ে অজ্ঞাত রোগে এক সপ্তাহে ৯ শিশুর মৃত্যু ॥ ৩৬ শিশু হাসপাতালে

 

 

সীতাকুন্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ডের  সোনাইছড়ি ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ী এলাকা  ত্রিপুরা পাড়ায় অজ্ঞাত রোগে গত এক সপ্তাহে  অন্তত:  ৯  উপজাতি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।  সর্বশেষ গতকাল  বুধবার সকালে মারা গেছে চার শিশু। এর আগে গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার প্রথম এক শিশু মারা যায়।

স্থানীয়রা জানান, শিশুদের  প্রত্যেকের বয়স ৩ থেকে ১২ বছর। মারা যাওয়া  শিশুরা হলো- কানাই ত্রিপুরা (৫), ফুখতি ত্রিপুরা (৬), জানাইয়া ত্রিপুরা (৭), রমাপতি ত্রিপুরা (৮), তাকিপতি ত্রিপুরা (১২), কছম রায় ত্রিপুরা (১০), রূপালী ত্রিপুরা (৩), হৃদয় ত্রিপুরা (৮) ও কৃষাণ ত্রিপুরা (২)। এখান থেকে আরও ৩৬ শিশুকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এলাকাটি দুর্গম পাহাড়ী এলাকা হওয়ায় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠি শিক্ষা চিকিৎসাসহ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।

এদিকে খবর পেয়ে  গতকাল বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে ঘটনস্থলে পৌেেছন চট্টগ্রমের সিভিল সার্জেন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। তিনি সাংবাদিকদের জানান,এই শিশুগুলোর প্রথমে জ্বরের সঙ্গে শরীরে বিচি ওঠে। এরপর কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়ে তারা মারা গেছে। আমরা আজ বুধবার এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এখান থেকে আরও ৩৬ শিশুকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।সিভিল সার্জন আরও বলেন, এটাকে আমরা অজ্ঞাত রোগ বলছি। এটা পরীক্ষা–নিরীক্ষা করার জন্য ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসবে। তারা সিদ্ধান্ত দেবে।

এদিকে খবর পাওয়ার পর বুধবার  ঘটনাস্থলে সীতাকু-ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যান। তাঁরা ত্রিপুরা পাড়ার বিভিন্ন ঘর থেকে জ্বরাক্রান্ত শিশুদের বের করে ফৌজদারহাটের বিশেষায়িত হাসপাতাল বিআইটিআইডিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিশুগুলো মারা যাচ্ছে। জ্বর হওয়ার পর শিশুগুলো কাঁপতে কাঁপতে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তার পর মারা যায়। তবে এটি কি জ্বর  বা কি কারণে এ জ্বর হচ্ছে তা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। রোগীদের পরিক্ষা নীরিক্ষার পর জ্বরের কারণ জানা যাবে।এদিকে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদা একটি ইউনিট খোলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ