ঢাকা, শুক্রবার 14 July 2017, ৩০ আষাঢ় ১৪২8, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে সরকারি ২৭৮টি বাড়ি

সংসদ রিপোর্টার : সরকারি আবাসন পরিদপ্তর ও পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ডের অধীনে থাকা মোট ২৭৮টি বাড়ি প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় সদস্য শামসুল হক চৌধুরীর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। 

আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এসব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন ঢাকা ও চট্টগ্রাম কার্যালয়ের অধিক্ষেত্রে মোট ১২৪টি পরিত্যক্ত বাড়ি বেদখলে রয়েছে। সেইসঙ্গে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ড ঢাকা ও চট্টগ্রাম কার্যালয়ের আওতায় আরও ১৫৪টি বাড়ি বেদখল হয়ে আছে। এসব বাড়ির বসবাসকারীরা বিভিন্ন আদালতে মামলা মোকদ্দমা দায়ের করে অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন। 

দৈনিক ২৫০ টাকা কিস্তিতে ফ্ল্যাট পাবেন স্বল্পআয়ের মানুষ 

সরকারদলীয় সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে গণপূর্ত মন্ত্রী জানান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ঢাকার মিরপুরের ১১ সং সেকশনে বস্তিবাসী ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। উক্ত প্রকল্পের আওতায় দৈনিক ২৫০ টাকা থেকে ২৭৫ টাকা কিস্তি ব্যাংকে জমা দিয়ে তারা ৬৫৭ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মালিক হবেন। 

কৃষি জমিতে ভবন নির্মান নয়

সালমা ইসলামের প্রশ্নের জবাবে ইঞ্জিনিয়ার মোশারাফ হোসেন জানান, দেশের কৃষি জমি রক্ষার স্বার্থে কৃষি জমিতে ভবন নির্মানের অনুমতি দেয়া হয় না। এ লক্ষ্যে পরিকল্পিত আবাসিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা গৃহায়ন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ। এ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের কৃষি জমি রক্ষার লক্ষ্যে পরিকল্পিত আবাসিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, মাগুরা, শরিয়তপুর, মাদারীপুর জেলার সদর ও শিবচর উপজেলায়, খুলনা, কুষ্টিয়া, পাবনা, যশোর, বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর, নোয়াখালী, চাঁদপুর কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, মোলভীবাজার এবং চট্টগ্রাম জেলায় আবাসিক প্লট উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বরাদ্দপ্রাপ্তদের কাছে নিকট তা হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বর্তমানে ২৩টি আবাসিক প্লট উন্নয়ন প্লটসহ মোট ৪১টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর বাইরে আরও ২৭টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন।

বিশ্বের ৪৯ দেশে বিটিভি : প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিশ্বের ৪৯ টি দেশে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হচ্ছে। সুবিদ আলী ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর দেওয়া হিসেব থেকে এ তথ্য জানা যায়।

সংসদে তথ্যমন্ত্রী বলেন, হংকং ভিত্তিক এএসআইএ স্যাট-৭ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিশ্বের ৪৯টি দেশে বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হচ্ছে।

দেশগুলোর মধ্যে ভারত, চীন, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, বাহরাইন, সৌদি আরব, ইরাক, ইরান, কুয়েত, কাতার, ইয়ামেন, ওমান, লেবানন, জর্ডান, ইসরাইল, ইন্দোনেশিয়া, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, পূর্ব তিমুর, জাপান, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সাইপ্রাস, আরমেনিয়া, গ্রীস, কাজাকিস্তান, উজবেকিস্তান, তাজাকিস্তান, আফগানিস্তান, কম্বডিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, তুরস্ক, আজারবাইজান, কিরগিজিস্তান, জর্জিয়া, লাওস, সিরিয়া, তাইওয়ান, তুর্কিমেনিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কেবল টিভি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলসমূহের অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হইতেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতে টোটাল ক্যাবেল ইউএসএ কর্তৃক আইপিটিভির মাধ্যমে বিটিভির অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হইয়া আসিতেছিল। টোটাল ক্যাবেল, ইউএসএর সহিত সম্পাদিত চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় চুক্তি নবায়নের কাযক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ওয়েব টিভির মাধ্যমে সারা বিশ্ব থেকেই বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড দেখা যায়। বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলসমূহের বেশ কয়েকটি আইপিটিভি ও ওয়েব টিভির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে প্রচারিত হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের বিষয়ে ভারতীয় দর্শকদের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। তবে ডাউনলিংক ফি বেশি হওয়ায় ভারতীয় ক্যাবল অপারেটররা এই বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছে না। বিষয়টি ভারতীয় সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট উত্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশসহ সার্কভুক্ত দেশসমূহের টিভি চ্যানেলসমূহ যাতে সহজে ভারতে সম্প্রচার করা যায় সেই লক্ষ্যে বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সার্ক ফোরামে উত্থাপনের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে দুরদর্শনের একটি চ্যানেলে ডিটিএইচ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিটিভির অনুষ্ঠান প্রচারের বিষয়ে তাঁর সম্মতি পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী দুরদর্শন ও বিটিভির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ