ঢাকা, শনিবার 15 July 2017, ৩১ আষাঢ় ১৪২8, ২০ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চীন নিয়ে চাপের মুখে বিরোধীদের সমর্থন চায় মোদি সরকার

১৪ জুলাই, আনন্দবাজার : চীন নিয়ে প্রবল চাপের মুখে শনিবার সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল নরেন্দ্র মোদি সরকার। যে মোদি ছাপান্ন ইঞ্চি ছাতি দেখিয়ে বিদেশনীতিতে ‘একলা চলার’ পথে হাঁটছিলেন, তার কেন চীন-সমস্যা নিয়ে হঠাৎ বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সরকার যখন বিরোধী দলগুলোকে পাশে চাইছে, তখন চীন নিয়ে তাদের নিজের ঘরেই সংঘাতের পরিস্থিতি। সীমান্তে সংঘাতের মধ্যেও কী কারণে কেন্দ্র চীনা সংস্থাগুলোকে ভারতে ব্যবসার সুবিধা করে দিচ্ছে, মোদিকে চিঠি লিখে সেই প্রশ্ন তুলেছে সঙ্ঘের শাখা সংগঠন স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ। এমনকী, চীনা সংস্থা থেকে কলকাতার মেট্রোর কামরার বরাত বাতিলেরও দাবি তুলেছেন মঞ্চের জাতীয় আহ্বায়ক অশ্বিনী মহাজন।
তবে চীন নিয়ে চাপের মধ্যে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে অভিনব। কারণ, ড্রাগনের মোকাবিলা কীভাবে হবে, তা ঠিক করতে ভারতে সর্বদলীয় বৈঠকের ঘটনা নজিরবিহীন। এর আগে কাশ্মীরে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে একাধিক বার সর্বদলীয় বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পরে চীনকে নিয়ে এমন মরিয়া বৈঠক এই প্রথম।
কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, এর কারণ, গত কয়েক দশকে বেইজিং-এর সঙ্গে সমস্যা এমন পর্যায়ে যায়নি যে বিরোধীদের পাশে নিয়ে জাতীয়তাবাদের ধুয়ো তুলতে হয়।
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, চীনের সঙ্গে উত্তেজনা এখন এতটাই বেড়ে গেছে যে এবার তা কমাতে ব্যগ্র মোদি সরকার।
শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাংবাদিক বৈঠকেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে। জানা গেছে, শনিবার সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধীদের অনুরোধ জানানো হবে, সিকিম সীমান্তে যেহেতু যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি, তাই চীনের বিষয়টি নিয়ে সংসদে যেন সরকারকে সহযোগিতা করেন তারা।
 মোদি সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীদের মতে, এটা দেশপ্রেমের প্রশ্ন। এ নিয়ে বিরোধীরা সরকারের সমালোচনা করলে সুবিধা পেয়ে যাবে বিদেশী রাষ্ট্র।
সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর বৈঠকের পরে চাপে পড়েছে কেন্দ্র। রাহুল নিজেও বেইজিং সম্পর্কে মোদির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকারকে কোণঠাসা করতে চেয়েছেন।
সাউথ ব্লক সূত্রের খবর, এ মাসের শেষ সপ্তাহে বেইজিং যেতে পারেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। ব্রিকস-এর আগে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বৈঠক পূর্বনির্ধারিত ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দোভালের চীন-যাত্রা যথেষ্ট তাৎপর্যের।
শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গোপাল ওয়াগলেও ডোকলামে উত্তেজনা কমাতে ‘কূটনৈতিক চ্যানেল’-এর উপর জোর দিয়েছেন। তার কথায়, ‘দু’দেশের দূতাবাসগুলোকে কাজে লাগানো হচ্ছে।’
গত সপ্তাহে জার্মানির হামবুর্গে জি-২০-র পার্শ্ববৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে দেখা হয় প্রধানমন্ত্রী মোদির। যদিও চীনের বক্তব্য, কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠকই সেখানে হয়নি। চীনের এই বক্তব্যকে খারিজ করে দিয়ে শুক্রবার পররাষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় পাঁচ মিনিট মোদি ও শি জিনপিং-এর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই আলোচনায় ডোকলাম ভূখ-ের উত্তেজনার বিষয়টিও ছিল বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের ডাকা শনিবারের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও। চীন পরিস্থিতি নিয়ে মোদী সরকারের আর্জিতে বিরোধীরা এখন কী ভূমিকা নেন, এখন সেটাই দেখার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ