ঢাকা, শনিবার 15 July 2017, ৩১ আষাঢ় ১৪২8, ২০ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার না হলে ইসি ঘোষিত সংলাপ অর্থহীন হবে -ব্যারিস্টার মওদুদ

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকাস্থ সেনবাগ জাতীয়তাবাদী ফোরামের উদ্যোগে জয়নুল আবদিন ফারুকের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ -সংগ্রাম

 

স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার না হলে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ‘রোডম্যাপ’ বা ‘সংলাপ’ অর্থহীন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে এক প্রতিবাদে তিনি এই মন্তব্য করেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ঢাকাস্থ সেনবাগ জাতীয়তাবাদী ফোরামের উদ্যোগে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের মুক্তির দাবিতে এই প্রতিবাদ সভা হয়। মওদুদ বলেন, নির্বাচন কমিশন কখনোই নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবে না যতক্ষন না পর্যন্ত দেশে একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় একটি সরকার থাকবে, যে সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। যেটাকে আমরা সহায়ক সরকার বলি। আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, এই নির্বাচন কমিশন যতই রোডম্যাপ দিক না কেনো? এই অর্থহীন। এই রোডম্যাপ অর্থহীন হবে বা এই যে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে তারা(ইসি) আলোচনা করবেন, আলোচনা করে কথা বলবেন।

সংগঠনের সভাপতি হারুন-অর রশিদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এ বি এম ফারুকের পরিচালনায় সভায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, মহানগর নেতা আবদুল হান্নান, তৃনমূল দলের হানিফ ব্যাপারী, সেনবাগ বিএনপির মোক্তার হোসেন পাটোয়ারি, শাহাদাত হোসেন আনসারী তিতুমীর, সেনবাগ জাতীয়তাবাদী ফোরামের ইউনুস পাটোয়ারি বাচ্চু, মোজাম্মেল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে কারাবন্দী নেতা জয়নুল আবদিন ফারুকের মেয়ে ফারজানা ফারুক প্রেমা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপের বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরে মওদুদ বলেন, আমরা এই নির্বাচন কমিশনকে পছন্দ করি নাই, আমরা মনে করি এই কমিশন একপেশে। দলীয়ভাবে তাদেরকে নিয়োগদান করা হয়েছে, এই কমিশনের প্রতি আমাদের আস্থা নাই। তারপরেও আমরা আলোচনায় অংশগ্রহণ করে আমাদের বক্তব্য অবশ্যই আমরা তুলে ধরব জাতির স্বার্থে, দেশের জনগণের স্বার্থে। নির্বাচন কমিশনকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য নয়।

সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমাদের নির্বাচন কমিশনের যে ক্ষমতা আছে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা প্রায় একই রকম। ভারতের নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে। বিগত নির্বাচনের সময়ে ভারতের মানমোহন শিং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তিনি হেরে গেছেন, মোদি(নরেন্দ্র মোদি) জয়লাভ করেছেন। তার দল বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। সেই ধরনের ঐতিহ্য, সেই ধরনের চর্চা আমাদের বাংলাদেশে তো নাই।

‘আমাদের নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সেই ধরনের সাহসী মানুষ, নিরপেক্ষ মানুষ নাই। সুতরাং তারা(ইসি) যতদিন পর্যন্ত দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে- এই রোড ম্যাপ বলুন, যতই তারা প্রচেষ্টা করুক না কেনো- সবই শেষ মুহূর্তে অর্থহীন হবে। কারণ তারা তখন শেষ মুহূর্তে সরকারের তল্পিবাহক বা আজ্ঞাবহ একটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হবে। তাদের অন্য কোনো উপায় থাকবে না।

তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশন সত্যিকারার্থে নিরপেক্ষ কমিশন না। আজকে প্রধানমন্ত্রীসহ এই সরকারের মন্ত্রী-নেতৃবৃন্দরা জনসভা করে নৌকায় ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে ভোট চেয়ে জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছেন। আর আমাদেরকে রাস্তায় নামতে দেয়া হয় না। আমাদেরকে একটা সভা করতে দেয়া হয় না। আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাঙ্গামাটিতে একটা নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন সেখানে যারা ভূমিধসে নিহতের পরিবার ও আহতদের সমবেদনা জানানোর জন্য, সেখানে তাকে যেতে দেয়নি। কতটুক সরকার নিচু হয়ে যেতে পারে তা বলার নেই। নোয়াখালীতে তার মরহুম ছেলের স্মরণে ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট ক্ষমতাসীনরা পন্ড করে দেয়ার কথাও তুলে ধরেন মওদুদ। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ