ঢাকা, শনিবার 15 July 2017, ৩১ আষাঢ় ১৪২8, ২০ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আ’লীগের অধীনে যে অবাধ ও ভয়ভীতিমুক্ত নির্বাচন সম্ভব নয় তা ইউপি নির্বাচনে প্রমাণিত

স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সেই রক্তাক্ত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আবারো দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দেশবাসী আওয়ামী লীগের সেই রক্তাক্ত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি প্রত্যক্ষ করেছে। আওয়ামী লীগের অধীনে কখনোই যে অবাধ, সুষ্ঠু ও ভয়ভীতিমুক্ত নির্বাচন সম্ভব নয় তা আবার প্রমাণিত হয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কখনোই যে তাদের সহিংস আচরণ থেকে সরে আসার দল নয় তা জনগণের নিকট পরিষ্কার। এসময় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা কবলিত এলাকায় দুর্গতদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ ক্ষমতাসীনরা লুটপাট করছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ভারত থেকে আসা উজানের পানি ও বৃষ্টিতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। ১৩ জেলায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। এসব এলাকার দুর্গত বানভাসি মানুষরা ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে। তিনি বলেন, সরকারের দুই-একজন মন্ত্রী ফটোসেশন করে ঢাকায় ফিরে আসছেন। স্থানীয় প্রশাসন যৎসামান্য ত্রাণ সামগ্রি নিয়ে গেলেও তা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে ত্রাণের দেখা পাচ্ছে না বানভাসি মানুষ। এসময় দলের পক্ষ থেকে বিএনপি নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে ত্রাণ নিয়ে বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহবানও জানিয়েছেন রিজভী আহমেদ। গতকাল শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

সাংবাদিক সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কেন্দ্রীয় নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালকুদার, এম এ মালেক, মীর সরফত আলী সপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, বন্যা কবলিত মানুষের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র গণমাধ্যমে ফুটে উঠলেও দুর্গতদের পাশে নেই সরকার। মন্ত্রী ও এমপিরা ঢাকায় বসে আরাম-আয়াশে জীবনযাপন করছেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলে তারা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজন অনুভব করছে না।

দেশের চালের মূল্য বৃদ্ধি বিশ্ব রেকর্ড বলে মন্তব্য করে এজন্য সরকারের ব্যর্থতা দায়ী করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে চালের যে দাম তার চাইতেও আমাদের দেশে চালের দাম বেশি, বিশ্ব রেকর্ড। সরকার চালের মূল্য নিয়ন্ত্রণে নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এখন তিন বেলা ভাত জোটাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে সীমিত আয়ের মানুষজন। তিনি বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ীই গত এক মাসে সাধারণ মোটা চালের দাম বেড়েছে ৮ শতাংশের বেশি। আর এক বছরে চালের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ। সরকারি সংস্থা টিসিবিও বলেছে চালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। রিজভী বলেন, চালের দাম কমেনি, বরং বেড়েছে। দেশের বাজারে চালের দাম এখন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সরকার চালের দাম নিয়ন্ত্রণে নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এখন তিন বেলা ভাত জোটাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে সীমিত আয়ের মানুষ। এখনও খুচরা বাজারে মোটা চাল ৪৮ থেকে ৫০ টাকার নিচে কোনো চাল নেই। একটু ভালো সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। সরকারি হিসাব অনুযায়ীই গত এক মাসে সাধারণ মানের মোটা চালের দাম বেড়েছে ৮ শতাংশের বেশি। আর এক বছরে দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। সরকারি সংস্থা টিসিবিও বলেছে চালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। সব ধরনের চালের দাম গত এক মাসে ৪ থেকে ৮ শতাংশ এবং এক বছরে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। 

চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে অসাধু ব্যবসায়ীরা দায়ী খাদ্য মন্ত্রী কামরুল ইসলামের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, উনাকে(মন্ত্রী) বলছি, ব্যবসায়ীদের দায়ী করে সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করা যাবে না। এরা হচ্ছে যখনই নিজেদের ওপর হুড়মুড় করে ব্যর্থতা চেপে বসে তখন অন্যের ঘাড়ে, প্রথমে বিরোধী দলের ওপর চেষ্টা করে। যখন দেখে যে এটাতে ধোপে টিকছে না, তখন অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপায়। এটা জনগণ বিশ্বাস করবে না। আমরা বলতে চাই, অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে পার পাবেন না। তাদের এই ব্যর্থতা, বর্তমানে এই দুর্বিপাক-দুর্যোগ-অনাহারের মধ্যে দেশকে ঠেলে দেয়া হলো। মন্ত্রী-এমপি অথবা দলের শীর্ষ নেতাদের আত্মীয় হচ্ছে ওই সমস্ত অসাধু ব্যবসায়ী। গরীব মানুষদের মেরে লুটের টাকার ভাগ সরকারের উচ্চ মহলেই যায়, তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন না সরকার।

 দেশ থেকে অর্থ পাঁচার করে ক্ষমতাসীনেরা মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম গড়ে তুলেছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, গণমাধ্যমে দেখলাম, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম বানানোর হিড়িক পড়ে গেছে। সেখানে ৩৫৪৬টি বাংলাদেশী সেকেন্ড হোম নির্মাণ করেছে। দেশ থেকে অবৈধভাবে অর্থ নিয়ে এসব হোম করা হয়েছে। প্রভাবশালী কারা তা আপনারা নিজেরাই বুঝতে পারছেন। সাধারণ মানুষের বুঝতে বাকী নেই- কারা মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম গড়ে তুলছে। ক্ষমতার অত্যুজ্জ্বল আলোকে ধাঁধিয়ে গিয়ে দুর্নীতির মুকুট মাথায় নিয়ে তুঘলকি কায়দায় দেশ চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। দুর্নীতির আদি প্রবর্তক ও আবিষ্কর্তা হচ্ছে তারা। সুতরাং তাদের শাসনকালে দেশ থেকে লক্ষ- কোটি টাকা পাঁচার হওয়া সম্ভব।

বৃহস্পতিবার ব্রাক্ষণবাড়ীয়া ও বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানে ৫৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখল করে জালভোটের মহাৎসবে নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, নির্দয় জুলুম এবং আওয়ামী লীগ অভিন্নস্বত্তা। মূলত: আওয়ামী লীগের উন্নয়নের কোন অগ্রগতি নেই, কিন্তু জুলুমের উগ্রগতি সর্বত্র বিরাজমান। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পূর্বের মতো আওয়ামী ভোটারবিহীন সরকারের সন্ত্রাসীরা সকাল থেকে ভোট কেন্দ্র দখল করে জালভোট প্রদানের মহৌৎসবে মেতে ওঠে। জালভোট দিতে গিয়ে বরিশালে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক হয়েছে আওয়ামী লীগের এক নেতা। বরিশালে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের হামলায় সাধারণ ভোটার’রা ভোট প্রদান দুরে থাক, ভোটকেন্দ্রে আসতেও পারেনি। বিএনপির এজেন্টদেরকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোটকেন্দ্র কেন্দ্র থেকে বের করে দেয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সকাল থেকেই বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে মারধর করে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে জালভোট প্রদানের যজ্ঞে মেতে ওঠে আওয়ামী নেতাকর্মীরা। এসময় নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা জালভোট প্রদানে আওয়ামী নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সেই রক্তাক্ত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আবারো দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। আওয়ামী লীগের অধীনে কখনোই যে অবাধ, সুষ্ঠু ও ভয়ভীতিমুক্ত নির্বাচন সম্ভব নয় তা আবার প্রমাণিত হয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কখনোই যে তাদের সহিংস আচরণ থেকে সরে আসার দল নয় তা জনগণের নিকট পরিষ্কার। নির্বাচন নিয়ে এই অনাচারগুলোই বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার। এই কারণেই কী দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার মহোদয়কে উপেক্ষা করে পদোন্নতি ও মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে ? এই ঘটনায় আগামী নির্বাচনগুলো নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বেশ কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের স্কীম বা ছক ক্ষমতাসীনদের পক্ষেই করা হচ্ছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে। এসময় ছাত্রদল ঢাকা মহানগর (পশ্চিম) এর সহ-সাধারণ সম্পাদক মো: সাদিকুর রহমান ভূঁইয়া সোহাগ এর নরসিংদী জেলাধীন শিবপুর উপজেলার গ্রামের বাড়ীতে তল্লাশীর নামে বাড়ীর আসবাবপত্র ভাংচুর এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে অশালীন আচরণের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের হুমকি-ধামকির ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। 

এসময় রিজভী আহমেদ জানান, বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এম কে আনোয়ার গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি তার আশু রোগমুক্তি কামনায় দেশবাসীসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিকট দোয়া চেয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ