ঢাকা, শনিবার 15 July 2017, ৩১ আষাঢ় ১৪২8, ২০ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অবরোধ বিক্ষোভ ॥ শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ২০

মাদারীপুর সংবাদদাতা : হঠাৎ করে মাদারীপুর প্রশাসন থেকে মাদারীপুরের একমাত্র স্পিনিং মিল ঋণের দায়ে বন্ধ ঘোষণা করায় মিলের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকরা গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। এসময় প্রায় আধা ঘন্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা। পরে স্থানীয় প্রশাসন আশ্বাস দিয়ে শ্রমিকদের মিলের ভিতরে নিয়ে যায়। এরপর শ্রমিকরা মিলের ভেতরেই অবস্থান ধর্মঘট করে। দুপুর দেড়টার দিকে প্রশাসন থেকে ঘোষণা আসে ঋণের টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত মিল বন্ধ থাকবে এর পরই পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ হয় । পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে এতে দুই পুলিশসহ আহত ২০। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রূপালী ব্যাংক মতিঝিল শাখার ঋণের ৭শ কোটি টাকা পরিশোধ করতে না পারায় বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটিকে সিলগালা করার নির্দেশ দেয় সরকার। পরে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী ফিরোজ হোসেনসহ একটি টিম আসেন মাদারীপুর স্পিনিং মিলে। তারা মাদারীপুর স্পিনিং মিলটি সিলগালা করতে গেলে শ্রমিকরা প্রথমে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে। সেখান থেকে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিলে মিলের ভেতরে অবস্থান নেন তারা। এ সময় পুলিশ ও শ্রমিকদের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে ২ পুলিশসহ ২০ শ্রমিক আহত হন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ১০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।

শ্রমিকদের অভিযোগ, ২ মাস ১৫ দিনের টাকা পরিশোধ না করে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করলে ২ হাজারের বেশি নারী শ্রমিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। 

পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী ফিরোজ হোসেন বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করতে গেলে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে এই সংঘর্ষ হয়। সরকার চাইছে, তাই আমরা প্রতিষ্ঠান সিলগালা করতে এসেছি। 

মাদারীপুর স্পিনিং মিলে তিন সিফটে প্রায় ২হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক কাজ করে। তারা প্রায় আড়াই মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছে না। এ অবস্থায় হঠাৎ করে শুক্রবার মিল বন্ধ ঘোষণা করায় শ্রমিকরা অসহায় হয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিক-কর্মচারীরা মিল চালু রাখার দাবিতে কাজ রেখে সকাল থেকে মাদারীপুর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে মস্তাফাপুরের বড়ব্রীজ এলাকায় অবস্থান নিয়ে গাড়ী চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে প্রায় দুই পাশে কয়েক‘শ যানবাহন আটকা পরে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে সড়ক অবরোধ তুলে নিয়ে মিলের ভেতরে বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘট করতে থাকে। এ সময় পুলিশ শ্রমিকদের উপর লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়। মিল শ্রমিকদের একটাই দাবি মাদারীপুর স্পিনিং মিল বন্ধ হতে দেবে না। মিল বন্ধ হলে প্রায় ২হাজার শ্রমিক কর্মচারী বেকার হয়ে পড়বে। এ মিলের সিংহভাগ নারী শ্রমিক, যারা একেবারেই অসহায়। 

মিলের শ্রমিক কোহিনুর, মাজেদা, রহিমা, সাজেদা, মাহিনুর, সাহিনুরসহ একাধিক নারী কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের অনেকের স্বামী নাই, এখানকার বেতন দিয়ে সংসার চালাই, সন্তানদের পড়াশুনা কারাই, বহু অসহায় মেয়ে আছে তারা এই মিলে কাজ করে ভিক্ষা করে না। আমরা জানি এই সরকার শ্রমিক বান্ধব সরকার। আমাদের এভাবে অসহায় অবস্থায় ফেলে দেবে না। আমরা যে কোন অবস্থাতেই এই মিল বন্ধ হতে দেবো না।’ 

মাদারীপুর স্পিনিং মিলের ডিজিএম আলী আকবর বলেন, ‘আমাদের কোন নোটিশ ছাড়া হঠাৎ করে মাদারীপুর প্রশাসন মিল বন্ধ করতে বলে। আমরা অফিস থেকে শ্রমিকদের একথা জানালে তারা আন্দোলনে নেমে পড়ে। আমরা তো অসহায় হয়ে পড়ি। আমরা এখনো আড়াই মাসের বেতন শ্রমিকদের দিতে পারি নাই। এখানে এক একটি শ্রমিক একটি পরিবার নিয়ে বেঁচে আছে। আর আমরাই বা কি করবো।’ 

মাদারীপুর অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন দেব বলেন, ঋণের দায়ে মিল বন্ধের নির্দেশ দিলে শ্রমিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ এবং সড়ক আবরোধ করে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ