ঢাকা, শনিবার 15 July 2017, ৩১ আষাঢ় ১৪২8, ২০ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি থেকে ভারতীয় অবৈধ সেটআপ বক্স জব্দ

খুলনা : খুলনায় আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় সেটআপ বক্স। পাশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল আউয়াল জিজ্ঞাসাবাদ করছেন বাড়ির মালিক কাউন্সিলর মফিজুর রহমান পলাশকে

খুলনা অফিস : খুলনায় আওয়ামী লীগ নেতা সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মফিজুর রহমান পলাশের বাড়ি থেকে ভারতীয় সেটআপ বক্স উদ্ধার করেছে জেলা প্রশাসকের একটি টিম। দির্ঘদিন ধরে খুলনা মহানগরীতে কয়েকটি চক্র অবৈধভাবে ভারতীয় সেটআপ বক্স ব্যবহার করে বিদেশী পে-চ্যানেল প্রচার ও লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা করে আসছে। এজন্য অবৈধভাবে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে তারা। এতে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। তেমনি আবার ভারতে হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল অর্থও পাচার হচ্ছে। 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১৪নং ওয়ার্ড সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা মফিজুর রহমান পলাশের বাড়িতে অভিযান চালান খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আউয়ালের একটি টিম। এএম কমিউনিকেশনের নাম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ নেতা পলাশ অবৈধভাবে কন্ট্রোল রুম বসিয়েছে। এখানে অবৈধ ভাবে ৪টি সেটআপ বক্স ও ভারতীয় যন্ত্রাংশ দিয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৪টি সেটআপ বক্স উদ্ধার করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে।

খুলনায় সম্প্রতি কেবল অপারেটর নামধারী সরকারের অবৈধ ঘোষিত অনুমোদনহীন সেটআপ বক্স, ডিটিএইচ, টাটা স্কাই, ডিস টিভি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির মাধ্যমে অবৈধ পন্থায় ভারতীয় পে-চ্যানেলগুলো পাইরেসি/ ডাউনলিংক করছেন। এরপর আবার তারা নগরীর সোনাডাঙ্গার হাসানবাগ, বয়রা, রায়েরমহল, বাস্তহারা, মুজগুন্নী আবাসিক এলাকা, নতুন বাজার বাঁশপট্টিসহ বেশকিছু স্থানে গ্রাহক পর্যায়ে তা প্রদর্শন করছে।

উল্লেখিত বিষয়ে নগরীর কেবল ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। এ অভিযোগে তারা বলেন, সোনাডাঙ্গার ১নং বয়রা ক্রস রোডস্থ এএম কমিউনিকেশনের মালিক এস এম আইয়ূব আলী আইন বহির্ভূতভাবে ঠিকানা বদল করেছেন এবং ১৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মফিজুর রহমান পলাশের পৃষ্ঠপোষকতায় তার নিজস্ব বাসভবনে কন্ট্রোল রুম বসিয়ে ছবি প্রদর্শন করছে। একই সাথে তিনি সরকারের রাজস্ব ফাঁকির পাশাপাশি হুন্ডির মাধ্যমে দেশের বিপুল অর্থ পাচার করছেন।

সূত্রটি জানায় এ প্রচারনা কেবল টিভি আইনের (২০০৬ সালের কেবল টিভি গেজেটের ৪ এর ৪ ধারা) পরিপন্থি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের কন্ট্রোলার কর্তৃক সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইস্যু করা প্রজ্ঞাপনে (নং-টিভি-লাইসেন্স/প্রশাসন-২১৫/১২৩১) এদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে। এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি একই নির্দেশনা দিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আউয়াল নগরীর রায়ের মহলের পলাশের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তিনি অবৈধ ৪টি সেটআপ বক্স জব্দ, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিকেল ৫টা হতে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এ অভিযান চলে। প্রতিষ্ঠানটি দেশী-বিদেশী ৯০টি চ্যানেল সম্প্রচার করছিল। 

তবে মফিজুর রহমান পলাশ দাবি করেন, তার সকল কাগজপত্র বৈধ আছে। একটি মহল তাকে হয়রানির চেষ্টা করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ