ঢাকা, রোববার 16 July 2017, ১ শ্রাবণ ১৪২8, ২১ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাকিস্তানী সেনাবাহিনী নিয়ে ভীত ভারত

১৫ জুলাই, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস : ভারতের অন্যতম প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর থেকে দেশ দুটি বেশ কয়েকবার লড়াই করেছে। পাকিস্তান আয়তনে ভারতের চেয়ে ছোট হলেও তাদের প্রধান শক্তি সেনাবাহিনী। এর কারণেই তারা সহজেই প্রতিবেশী দেশটিকে আতঙ্কে রাখতে পারে। হুমকি-ধামকি দিতে পারে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই দেশটির রাজনীতি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতের সঙ্গে ‘ভার্চুয়াল লড়াই’ সৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এছাড়া পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীরের ভেতর দিয়ে বেইজিংয়ের ‘চায়না পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর’ নির্মাণের ঘোষণা ভারতের সেই ভয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এ করিডোরের কারণে ভারত তাদের পশ্চিমাঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে। ১৯৬০ সালের পর থেকেই পাকিস্তান ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক খুবই ভালো দেশ দুটি নিজেদের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি, উন্নত ওয়েপনস সিস্টেমও বিনিময় করেছে। তবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের প্রধান উৎস চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।
পাকিস্তানের নৌবাহিনী এক হাজার ৪৬ কিলোমিটার সমুদ্রসীমা পাহারা দেয়। তাদের সহায়তা করে কোস্টগার্ড, মেরিটাইম নিরাপত্তা বাহিনী ও আধা-সামরিক বাহিনী। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার ১৯৬৫ সালের যুদ্ধ, ৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধ সময় সামরিক বাহিনীকে নৌ-বাহিনী সহায়তা করেছে।
পাকিস্তানী বিমান বাহিনী এফ-১৬, ডিসল্ট মিরাজ, চেংডু এফ-৭এস ও জেএফ-১৭এস। টেকনিক্যাল ওয়েপনের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য তারা এফ-১৬ বিমান ব্যবহার করে। এছাড়া তাদের বাডার সিস্টেমও অনেক উন্নত। আর ভারতের বিমান বাহিনীল কাছে রয়েছে রাশিয়ার থৈরি মিগ ও সুখস। বিপরীত দিকে পাকিস্তানী নৌ-বাহিনী চীন ও মার্কিন অস্ত্রে সজ্জিত।
লন্ডন ভিত্তিক ইন্সটিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্ট্যাডিজর হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানী সেনাবাহিনীতে ৬ লাখ ২০ হাজার সদস্য রয়েছে। এছাড়া ১৬-২৩ বছর বয়সী অনেকে ভলেন্টারি সার্ভিস দেয় সেনাবাহিনীতে। কারণ ১৮ বছর না হলে সেনাবাহিনীতে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয় না। ভারত-পাকিস্তান ও আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে ভারি অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত সেনাবাহিনী মোতায়েন করা রয়েছে।
পাকিস্তানী সেনাপ্রধান দেশের খুবই শক্তিশালী ব্যক্তি। দেশের রাজনীতিতেও তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার শক্তি ও প্রভাব বেশি। তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আধা-সামরিক বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী।
শুধু সামরিক বাহিনীই নয়, পাকিস্তার পরমাণু শক্তিধর একটি দেশ। আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানের কাছে ১৪০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। তারা বিশ্বে ষষ্ঠ পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ দেশ। কাজেই পাকিস্তানকে ভয় পাওয়ার এবং তাদের নিয়ে আতঙ্কে থাকার যথেষ্ট কারণ আছে ভারতের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ