ঢাকা, রোববার 16 July 2017, ১ শ্রাবণ ১৪২8, ২১ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দুঃশাসনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আ’লীগ দেশকে চরম অন্ধকারে নিপতিত করেছে ---খালেদা জিয়া

 

স্টাফ রিপোর্টার : একদলীয় দুঃশাসনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দেশকে চরম অন্ধকারে নিপতিত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, বর্তমান গণবিচ্ছিন্ন অবৈধ সরকার এখন সীমা ছাড়িয়ে গেছে। জনগণ এদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায়না। তিনি বলেন, এই চরম সীমা লঙ্ঘনের কারণেই দেশে রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে উন্মুক্ত কোনো স্থানেই নয় বরং ঘরোয়া পরিবেশেও সভা কিংবা আলাপ-আলোচনা অনুষ্ঠান করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম  আব্দুর রবের বাসায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বৈঠকের সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি এবং সভা শেষ করতে তাগাদার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব সকথা বলেন। 

বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, দেশকে একদলীয় দু:শাসনের চরম অন্ধাকরে নিপতিত করতে বর্তমান গণবিচ্ছিন্ন ভোটারবিহীন সরকার এখন সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আর এই চরম সীমালঙ্ঘনের কারণেই দেশে রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে উন্মুক্ত কোন স্থানেই নয় বরং ঘরোয়া পরিবেশেও সভা কিংবা আলাপ-আলোচনা অনুষ্ঠান করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। পুলিশী বাধা অথবা কোন কোন ক্ষেত্রে হামলা চালিয়ে সেসব সভা ও আলোচনা নস্যাৎ করতে যে ন্যক্কারজনক অসদাচরণ করা হচ্ছে তার ধিক্কার জানানোর ভাষা নেই। আ স ম আব্দুর রব এর বাসভবনে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক দলসমূহের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সভায় পুলিশী হস্তক্ষেপে আবারো প্রমাণিত হলো রাষ্ট্র এখন অমানবিক এবং চরম গণবিরোধী। 

দেশে গণতন্ত্র শূন্যতার কারণেই আইনের শাসন নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, সরকারি মদদে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ভোটারবিহীন সরকারের আনুগত্য করতে গিয়ে তারা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছে। বিরোধী দল ও বিরোধী মত দমন করতে পুলিশকে লাগামহীন লাইসেন্স দেয়ার কারণেই সামাজিক অপরাধগুলো প্রশ্রয় পাচ্ছে তীব্র মাত্রায়। অনাচার বৃদ্ধির কারণেই শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ এখন ভয়-ভীতি-শঙ্কার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। অশুভ উদ্দেশেই দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আ স ম আব্দুর রব এর বাসায় পুলিশ প্রবেশ করেছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে-রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে একটা ভয়াবহ আতঙ্ক সৃষ্টি করা যাতে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে টু শব্দ করতে না পারে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী থাকার জন্য বর্তমান সরকার যাদের প্রতিপক্ষ মনে করে তাদেরকে নির্মূল করতে নানা পন্থা অবলম্বন করেছে, তারই অংশ হিসেবে আ স ম রবের বাসায় বৈঠক না করতে পুলিশকে ব্যবহার  করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণ এখন আরো বেশী সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ। সময় অতি সন্নিকটে যখন গণরোষে এই নিপীড়ক সরকারের মূলোৎপাটন ঘটবে। আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই-গণবিরোধী জুলুমের পথ থেকে অবিলম্বে সরে আসুন, অন্যথায় যুগে যুগে সকল স্বৈরাচারের মতোই আপনাদের পরিণতি বরণ করতে হবে।

অপর এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে এখন বিকৃত দু:শাসন চলছে। এই কারণেই রাষ্ট্র ও সমাজে বিরাজমান রয়েছে চরম অস্থিরতা ও নৈরাজ্যকর পরিবেশ। মানুষের বাক-ব্যক্তি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুরোপুরি কেড়ে নিয়ে তুঘলকি রাজত্ব বলবৎ করা হয়েছে। একদলীয় শাসনে সভা-সমাবেশ করার অধিকার আওয়ামী লীগেরই-এই ভ্রষ্ট নীতির জন্য সরকারকে একদিন জনগণের নিকট জবাবদিহি করতেই হবে। সকল স্বৈরাচারের বৈশিষ্ট্যই হলো-ক্ষমতার স্বাদ ও মোহে তারা লোভী ও প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে, আর সেজন্য সাংবিধানিক এবং আইনের শাসনকে অগ্রাহ্য করে থাকে। আওয়ামী লীগ সেই ঐতিহ্যই বহন করছে। তবে জনগণ আর বসে থাকবেনা, ঐক্যবদ্ধ শক্তি দিয়ে দু:শাসন মোকাবিলায় জনগণ এখন প্রস্তুত। আমি আ স ম আব্দুর রবের বাসায় অনুষ্ঠিত ঘরোয়া সভায় পুলিশী হস্তক্ষেপের ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে সরকারকে এধরনের ন্যক্কারজনক আচরণ থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ