ঢাকা, রোববার 16 July 2017, ১ শ্রাবণ ১৪২8, ২১ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কি কিছুই বলার নেই

বর্তমান বিশ্বে সংকটের কোনো অভাব নেই। প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে নিত্যনতুন সংকট। আর এই সব সংকটের আছে নানা রূপ। অনেক সংকটেরই যৌক্তিক কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। কোনো কোনো সংকট আবার ইচ্ছে করেই সৃষ্টি করা হয়। এর পেছনে সক্রিয় থাকে সংকীর্ণ স্বার্থ এবং বিকৃত মনোভাব। সংকট নিয়ে ১১ জুলাই ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’-এ একটি খবর মুদ্রিত হয়েছে যার শিরোনাম ছিল ‘কাতার সংকটের মূল হোতা ট্রাম্প-জামাতা’। খবরটিতে বলা হয়, সর্ষের ভেতরেও ভূত থাকতে পারে। ফাঁস হওয়া তথ্যে জানা গেছে, নিরীহ দর্শন এবং সুদর্শন জেরার্ড কুশনারই কাতার সংকটের আসল হোতা। কাতার সংকটের আগে কাতারের কাছে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়েছিলেন ট্রাম্পের জামাতা কুশনার। কিন্তু ওই অর্থ লাভে তিনি ব্যর্থ হন। যার জন্য চড়া মাশুল গুনতে হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম ধনী রাষ্ট্র কাতারকে।
বৃটিশ গণমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট’-এর প্রতিবেদনে জানা যায়, কুশনার চেষ্টা করেছিলেন কাতারের সবচেয়ে ধনী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তার প্রত্যাশিত ঋণের অংক আদায় করতে। কিন্তু নিরীহ চেহারার কুশনারকে ততটা বিশ্বাস করতে পারেননি কাতারের জাঁদরেল ব্যবসায়ীরা। তারা কুশনারের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। আর এর প্রতিশোধ নিতেই শ্বশুর ট্রাম্পকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন কুশনার। তার রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে শ্বশুরের আন্তর্জাতিক সমস্যাগুলোর একটি বড় যোগসূত্র থাকতে পারে। ব্যবসার শুরুর দিকে কুশনার নিউইয়র্কের ৬৬৬ ফিফথ এভিন্যুতে ১.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বিল্ডিং কিনেছিলেন। সেই সময় এটি ছিল একটি রেকর্ড ভাঙা চুক্তি। নিউইয়র্ক টাইমস এর সূত্র মতে বর্তমানে বিল্ডিংটির এক-চতুর্থাংশ স্থান খালি পড়ে আছে। বিল্ডিংয়ের মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে কুশনারকে। তাই আরও ঋণের প্রয়োজন হয়ে পড়ে কুশনারের। সেই প্রয়োজনে কাতারের দিকে চোখ পড়েছিল তার।
আমরা তো এ কথা জানি যে, যারা ব্যবসা করতে চান তাদের তো নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে এবং নিয়ম-নীতি মেনেই তাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে হয়। আমরা এ কথাও জানি যে, ব্যবসায় জেনেশুনে কেউ লোকসানের নৌকায় পা রাখতে চাইবে না। তাই কাতারের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা যদি কুশনারকে ঋণ না দিতে চান কিংবা লোকসানের ভয়ে তার সাথে ব্যবসায় যুক্ত হতে না চান তাহলে এ জন্য তো তাদের দোষারোপ করা যায় না, শত্রুজ্ঞানও করা যায় না। সারা পৃথিবীতে এটাই ব্যবসার শিষ্টতা। কিন্তু কুশনার তা মানবেন কেন, তিনি যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা! এ ব্যাপারে ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’-এর রিপোর্টে যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা খুবই ভয়ংকর। অবস্থা যদি এমনই হয় তাহলে আমরা কী করে ভাববো যে এক সভ্য পৃথিবীতে আমরা বসবাস করছি। বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কি এ ব্যাপারে কিছুই বলার নেই?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ