ঢাকা, রোববার 16 July 2017, ১ শ্রাবণ ১৪২8, ২১ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীরা  সুফল পাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্ট  লিগ্যাল এইড শাখায়

 

স্টাফ রিপোর্টার : অসহায় ও অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীরা সরকারি খরচে আইনি সেবা পাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের লিগ্যাল এইড শাখায়। যারা অর্থের অভাবে মামলার নিয়ে বিপাকে ছিলেন তারা আইনি সেবার এই সুফল পাচ্ছেন। দিন দিন আইনী সেবা নেয়ারও সংখ্যাও বাড়ছে। 

সরকারি আইনি সেবার অধীনে নিষ্পত্তি এক মামলার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের সমন্বয়কারী রিপন পাল জানান, ওয়ারী-সূত্রাপুরে বসবাসকারী মোমেন খান ১৯৫৬ সাল থেকে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি নিয়ে মামলা করেছিলেন। মোমেন খানের মৃত্যুর পর তার ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী মনসুরুজ্জামান খান (৫৬) মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নেন। একে একে প্রত্যেকটি আদালতে মামলায় জয়ী হয়েও জমি দখলে নিতে পারছিলেন না তিনি। হাইকোর্ট বিভাগেও তার পক্ষে রায়  ঘোষণা করা হয়। কিন্তু প্রতিপক্ষ আবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ করেন। কিন্তু অর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার পক্ষে ধারাবাহিকভাবে আপিল বিভাগে মামলা পরিচালনা সম্ভব হচ্ছিল না।

এ অবস্থায় মনসুরুজ্জামান খান জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের অধীনে সরকারি খরচে পরিচালিত সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে যোগাযোগ করেন গত বছরের ৯ নবেম্বর। সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি তার মামলাটি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে মামলাটিতে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক সম্পাদক এএম আমিন উদ্দিনকে নিযুক্ত করে। আইনি লড়াইয়ে আপিলে মনসুরুজ্জামান জয়লাভ করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বশেষ সরকারি আইনি সেবার মাধ্যমে মনসুরুজ্জামান আইনগত অধিকার নিশ্চিত করতে পেরেছেন। 

এভাবে আরও অনেকেই আর্থিক সঙ্গতি না থাকলেও সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে অধিকার নিশ্চিত করতে পারছেন। উচ্চ আদালতে এখন বিচারপ্রার্থী যেকোনো অসচ্ছল নাগরিক জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের অধীনে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে যোগাযোগ করছেন। লিগ্যাল এইড কমিটি বিচারপ্রার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।

জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান আইন ২০০০ অনুযায়ী আইনগত সহায়তা সংস্থা গঠন করে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে দেশের সব আদালত, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জাতীয় আইনগত সহায়তার সংস্থার কার্যক্রম রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ