ঢাকা, রোববার 16 July 2017, ১ শ্রাবণ ১৪২8, ২১ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পেশীশক্তি ব্যবহার করে চালানো হচ্ছে অবৈধ ব্যবসা

 

খুলনা অফিস : খুলনায় আইন-শৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে হরহামেশা লাগানো হচ্ছে ডিটিএইচ ও সেটবক্স। অবৈধ পথে আনা এসব ডিটিএইচ ও সেটআপ বক্স দিয়ে পাইরেসির মাধ্যমে বিভিন্ন পে-চ্যানেলের ডাউনলিংক করে গ্রাহক পর্যায়ে সম্প্রচার করছে। আর এসব যন্ত্রাংশ কেনা ও নবায়নের নাম করে প্রতিবছর হুন্ডির মাধ্যমে পাচার হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। যা কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক কার্যক্রম পরিচালনা আইন ২০০৬ এবং লাইসেন্স বিধিমালা ২০১০ পরিপন্থী। গত বৃহস্পতিবার অবৈধ সেটআপ বক্স ব্যবহার ও নিষিদ্ধ চ্যানেল প্রদর্শনের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মফিজুর রহমান পলাশকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু এখনও নগরীর সোনাডাঙ্গা হাসানবাগ এলাকা, বয়রা, রায়ের মহল, বাস্তহারা, মুজগুন্নি আবাসিক এলাকা, নতুন বাজার বাঁশপট্টি এলাকায় ডিটিএইচের মাধ্যমে এই কার্যক্রম চলছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, খুলনা মহানগরী ও জেলায় প্রায় ৪০০ কেবল অপারেটর তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। প্রতিবছর ফিড অপারেটররা তাদের লাইসেন্স নবায়ন করতে ৩৬ হাজার ৮০০ টাকা এবং ক্যাবল অপারেটররা ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন। এই ব্যবসায় আয় বেশি হওয়ায় হঠাৎ আওয়ামী লীগের কিছু লোক পেশীশক্তি ব্যবহার করে অবৈধ ডিটিএইচ ও সেটআপবক্স লাগিয়ে এই ব্যবসা শুরু করে। তারা প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দিয়ে তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অবৈধ সংযোগ লাগিয়ে দিচ্ছেন।

সম্প্রতি বৈধ ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তারা বলেন, সোনাডাঙ্গার ১নং বয়রা ক্রস রোডস্থ এএম কমিউনিকেশনের মালিক এসএম আইয়ূব আলী আইন বহির্ভূতভাবে ঠিকানা বদলেছে। আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মফিজুর রহমান পলাশের পৃষ্ঠপোষকতায় তার নিজস্ব বাসভবনে কন্ট্রোল রুম বসিয়ে ছবি প্রদর্শন করছে। একইভাবে ১৯ সিমেট্রি রোডে এন কেবল নেটওয়ার্ক নামে নূর মোহাম্মদ অবৈধভাবে পে-চ্যানেলগুলো গ্রাহক পর্যায়ে প্রদর্শন করছে। শুধু তাই নয়। একইসাথে তারা সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে দেশের বিপুল অর্থ ভারতে পাচার করছে।

এ অবস্থায় ২০১৬ সালের ৬ নবেম্বর তথ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এক চিঠিতে অবৈধ এই কার্যক্রমের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন। জানুয়ারি মাস থেকে এসবের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। ২৫ জানুয়ারি রাজশাহীতে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব অনুমোদনবিহীন সেটআপবক্স উদ্ধার করে এবং সাত জনকে একবছর করে কারাদন্ড দেয়। কিন্ত গত বৃহস্পতিবার নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে আওয়ামী লীগ নেতার বসতবাড়ি থেকে ভারতীয় সেটআপ বক্সসহ যন্ত্রাংশ জব্দ করলেও শুধু মাত্র ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয়। ক্ষমতাশীন দলের প্রভাবশালী নেতা হয়ার কারণে তাকে কোন দন্ড দেয়নি বলে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

এ ব্যাপারে খুলনার জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান বলেন, সম্প্রতি অবৈধ এই কার্যক্রম বন্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। পেশী শক্তিরবলে কাউকে এই অবৈধ ব্যবসা চালাতে দেয়া হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ