ঢাকা, সোমবার 17 July 2017, ২ শ্রাবণ ১৪২8, ২২ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে অতীতের ভুল কাম্য নয়

জিবলু রহমান : [দুই]
আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের মাঠ প্রশাসন সাজাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এর অংশ হিসেবে ১০ জুলাই ২০১৭ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার পদে রদবদল আনা হয়েছে। গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মোতাহসিমকে শেরপুর জেলায়, ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আতিয়ার রহমানকে রাজশাহী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, বান্দরবান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুর রহমানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে নরসিংদীতে, রাঙামাটি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজিম উদ্দীনকে হবিগঞ্জে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন আল মামুনকে ভোলায়, ভোলা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন খানকে বরিশালে, রাজবাড়ীর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এম মাজহারুল ইসলামকে সাতক্ষীরায়, সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ এইচ এম কামরুল হাসানকে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক, নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক আবদুল মোতালেবকে সুনামগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, পিরোজপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আরিফুল হককে চাঁপাইনবাবগঞ্জে, নরসিংদী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে মাগুরায়, চুয়াডাঙ্গা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমানকে নড়াইলে, মাগুরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আহমেদ আলীকে মেহেরপুরে, মেহেরপুরের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামানকে পিরোজপুরে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামকে পঞ্চগড়ে, সুনামগঞ্জের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলামকে ঝিনাইদহে এবং হবিগঞ্জের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনকে রাজবাড়ীর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
পাঁচ জেলায় চলতি দায়িত্ব জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমানকে গাইবান্ধায়, বরিশালের নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম রাকিবকে বান্দরবানে, ফরিদপুর সদরের উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে রাঙামাটিতে, কুমিল্লা অফিসের নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমেদকে খাগড়াছড়িতে এবং মাগুরার শালিখা উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা রাজু আহম্মেদকে চুয়াডাঙ্গার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন ম-লকে ঢাকায়, রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকারকে রংপুরে, সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এস এম এজহারুল ইসলামকে কুমিল্লায়, খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমানকে বরিশালে এবং ফরিদপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোস্তফা ফারুককে খুলনায় বদলি করা হয়েছে। ুপাঁচজন রাজশাহী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ আমিরুল ইসলামকে রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, ইসি সচিবালয়ের সচিবের একান্ত সিনিয়র সহকারী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন খানকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, বরিশালের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল হালিম খানকে ইসি সচিবালয়ের উপসচিব, ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সাবেদ উর-রহমানকে ফরিদপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং নড়াইলের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ আনোয়ার হোসেনকে সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ কে নিয়মিত বদলির অংশ বললেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, একই সঙ্গে এত কর্মকর্তার রদবদল নিকট অতীতে হয়নি। প্রায় দশ মাস আগে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিল ইসি। পদোন্নতিপ্রাপ্ত দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে মাঠ প্রশাসনে বদলি করা হয়েছিল। এরপর মাস দুয়েক আগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরও বদলি করা হয়। ইসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসন সাজাচ্ছে কমিশন। তবে রাজনৈতিক তদবিরে অনেকে পছন্দের জায়গায় বদলি হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইসির কর্মকর্তারা। (সূত্র : দৈনিক সমকাল ১১ জুলাই ২০১৭)
নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ-পদোন্নতি কমিটির যিনি প্রধান তিনিই গণবদলি ও পদোন্নতির ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না। ইসির অধীনস্থ বিভিন্ন পর্যায়ের অফিসারদের গণবদলি পদোন্নতি (চলতি দায়িত্ব) প্রদানের এই ঘটনায় বিস্মিত হয়েছেন তিনি। এজন্য ইসির ‘নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশাসনিক সংস্কার ও পুনর্বিন্যাস এবং দক্ষতা উন্নয়ন কমিটি’ প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ইসি সচিবালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে নোট দিয়েছেন। ১১ জুলাই ২০১৭ ইসি সচিবালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো নোটে বিস্ময় প্রকাশের পাশাপাশি এ ঘটনার বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন মাহবুব তালুকদার।
নোটে মাহবুব তালুকদার বলেছেন, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখতে পেলাম, দেশব্যাপী নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ অফিসারদের বদলি ও পদোন্নতি (চলতি দায়িত্ব) প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে অফিসারদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার কথা পত্রিকায় উঠে এসেছে। এতে কমিশনের কর্মকা- প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করি। বিষয়টি আমাকে কিছুটা বিস্মিত করেছে। কারণ, কোনো পর্যায়েই আমাকে তা অবহিত করা হয়নি। এমতাবস্থায় সচিব মহোদয়কে বেশকিছু বিষয়ে বক্তব্য অবহিত করতে অনুরোধ করেন তিনি। বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে, ১. বিগত ১২ জুন আমাকে সভাপতি করে, ‘নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশাসনিক সংস্কার ও পুনর্বিন্যাস এবং দক্ষতা উন্নয়ন কমিটি’ নামে যে কমিটি গঠিত হয়েছে, উল্লিখিত বদলি বা পদোন্নতি তার কার্যপরিধির আওতায় পড়ে কি না!
২. গণহারে বদলি বা পদোন্নতি প্রদানের ক্ষেত্রে উল্লিখিত কমিটির সভায় তা আলোচিত হওয়া উচিত ছিল কি না। উক্ত বিষয়ে কমিটিকে অবহিত করা না হলে কমিটির আবশ্যকতা থাকে বলে প্রতীয়মান হয় না।
৩. কোন নিয়মনীতি অনুসরণ করে উপরোক্ত বদলি করা হয়েছে, সে বিষয়টি আমাকে জানানো যেতে পারে।
৪. গণবদলি ও পদোন্নতি সম্পর্কে যাবতীয় নির্দেশ, আদেশ ও অন্যান্য নথিপত্র আমার কাছে অনতিবিলম্বে পেশ করা যেতে পারে।
উক্ত বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে সচিবকে অনুরোধ করেন মাহবুব তালুকদার। এই ইউও নোটের অনুলিপি অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদাসহ বাকি তিনজন নির্বাচন কমিশনারকে পাঠিয়েছেন তিনি। (সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক ১২ জুলাই ২০১৭)
আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতির মাঠ গরম হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুটি বড় রাজনৈতিক দলের কাছেই আগামী নির্বাচনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ মনে করছে, টানা দু’বার ক্ষমতায় থাকার পর তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় এলে রাজনীতিতে আরও স্থায়ী ও শক্তিশালী হয়ে দেশের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখা যাবে। অন্যদিকে দীর্ঘ সময়ে ক্ষমতার বাইরে থাকায় বিএনপির দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে। যে কোনো মূল্যে তারা ঘুরে দাঁড়াতে চায়। এটি তাদের অস্তিত্বের লড়াইও বটে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করতে না পারলে তাদের ভবিষ্যৎ যাত্রায় আরও অন্ধকার নামতে পারে। বিএনপি মনে করছে, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণই ভোটের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায় আনবে। আবার আওয়ামী লীগ মনে করছে, জনগণ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে তাদের আবার ভোট দেবে। কিন্তু এই সাধারণ চিন্তায় রাজনীতিতে সমীকরণ মেলানো যে কঠিন, তা যেমন আওয়ামী লীগ জানে তেমনি জানে বিএনপিও।
২০১৬ সালের প্রথম পর্যন্ত হেফাজত ও ইসলামপন্থী কিছু দলকে আওয়ামী লীগের নেতারা উগ্রবাদী বলেছেন। তারা ভুলে গেছেন, নামাজ-রোজা করা আর দাড়ি-টুপি পরলেই উগ্রবাদী হয় না। এ ভাষা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম ইসলাম। অবশ্য ২০১৭ সালে এসে আওয়ামী লীগ তাদের বক্তব্য কিছুটা সংশোধন করেছে।
নির্বাচনী চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল কিংবা সংগঠনগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করছে। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে ধর্মের প্রভাবকে সহজে আলাদা করা যাবে না। দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই ধর্মীয় প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। আর ধর্মীয় প্রভাবে প্রভাবান্বিত ভোটারসংখ্যা বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য। আর এই ভোটার নির্বাচনের ফলাফলকে পরিবর্তন করতে পারে।
আওয়ামী লীগ ভালো করেই জানে, বিএনপির ভোটবাক্সে ইসলামপন্থী ভোটগুলো পড়ে বেশি। আওয়ামী লীগের এই সুযোগটা অপেক্ষাকৃত কম। সঙ্গত কারণেই আওয়ামী লীগ সাম্প্রতিক সময়ে ভোটের রাজনীতিকে মাথায় রেখে এমন সুযোগ খোঁজার চেষ্টা করছে। আর নির্বাচনী রাজনীতিতে এ বিষয়ে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কারণ আওয়ামী লীগ মনে করছে, ইসলামপন্থী সব ভোট তাদের বিরুদ্ধে গেলে পুনরায় সরকার গঠন করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। আর এ কারণে আগামী নির্বাচনে এই ভোটে ভাগ বসাতে চাইছে আওয়ামী লীগ। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতন-পরবর্তী প্রায় সব নির্বাচনে জামায়াতকে বড় ফ্যাক্টর বিবেচনা করা হতো। গত চারটি নির্বাচনে দলটির প্রাপ্ত ভোটের ফলাফলেও এর প্রমাণ আছে। এর বাইরে আরও কিছু ইসলামী সংগঠনের সারা দেশে কিছু ভোট আছে। নির্বাচন সামনে রেখে এসব দলের সঙ্গেও যোগাযোগ শুরু করেছে মূলধারার দলগুলো। কারণ ইসলামী দলগুলোর ভোটে নির্বাচনী রাজনীতির গতি নির্ধারিত হতে পারে।
২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত দুটি আসন পেয়ে ৪.৭০% ভোট, ২০০১ সালের নির্বাচনে ১৭টি আসন পেয়ে ৪.২৪%, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনটি আসন পেয়ে ৮.৬১% এবং ১৯৯১ সালে ১৮টি আসন লাভ করে ১২.১৩% ভোট পায়। আসন যাই পাক, জামায়াতের নির্দিষ্ট সংখ্যার ভোট বেশিরভাগ আসনেই আছে। অন্যদিকে ৪০ হাজার কওমি মাদ্রাসায় নতুন-পুরনো ৮৫ লাখ শিক্ষক-শিক্ষার্থী আছে। তাদের পরিবারে দু’জন করে সদস্য হলেও প্রায় দেড় কোটির ওপর ভোটার আছে। আপাতদৃষ্টিতে জামায়াতের যেমন ৬-৯% ভোট রয়েছে, তেমনি কওমি পরিবার কিংবা হেফাজতেরও নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোট রয়েছে যেগুলো নির্বাচনী রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত ব্যতীত ইসলামপন্থী অন্য দলগুলোর কারোরই প্রাপ্ত ভোট ১%ও ছুঁতে পারেনি। কাজেই জামায়াত ও হেফাজতের ভোটের কারণে নির্বাচনে যে কোনো সমীকরণ ঘটতে পারে। জামায়াতের ভোটব্যাংকসহ আরও কিছু ইসলামপন্থী কিংবা ধর্মভিত্তিক ভোট বিএনপির বাক্সে গেলে তাদের জন্য সরকার গঠন করা অনেকটা সহজ হয়ে দাঁড়াবে। আর এ ক্ষেত্রে বিপরীত ঘটনা ঘটতে পারে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য। কারণ সম্প্রতি জাতীয় পার্টিও (জাপা) আলাদা ভোট করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাপা আলাদা ভোট করলে সঙ্গত কারণেই বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে আওয়ামী লীগের আসন সংখ্যা যথেষ্ট কমে যাবে। এসব নানা সমীকরণ মেলাতে আওয়ামী লীগকে বিশেষ চিন্তা মাথায় রাখতে হচ্ছে নির্বাচনকে ঘিরে।
এই মুহূর্তে বিএনপি মনে করছে, তাদের সামনে ক্ষমতায় আসতে সবচেয়ে বড় বাধা শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাওয়া। এজন্য তারা সবসময়ই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ইস্যু সামনে আনছে। এ কারণে তারা কূটনীতিকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে। অবশ্য ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। ফলে বিএনপি সুষ্ঠু নির্বাচন ইস্যুতে বেশ আশাবাদী হয়ে উঠেছে। বিএনপি মনে করছে, এবারের নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হলেই তারা জয়লাভ করে সরকার গঠন করবে। সে ক্ষেত্রে সবার আগে দলটি সুষ্ঠু ভোটের নিশ্চয়তা পেতে চায়। (সূত্র : দৈনিক যুগান্তর ৩ জুলাই ২০১৭)
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন আলাপ-আলোচনা করতে চাইলে অবশ্যই আমরা যাব, আমাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরব। নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার বিষয়ে আগেই বিএনপি মতামত দিয়েছে। তার সঙ্গে হয়তো আরো কিছু যোগ হবে। ’ যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে বিএনপি। আমাদের প্রস্তাবগুলো কতটুকু আমলে নেওয়া হচ্ছে তা দেখার পর বোঝা যাবে ইসি আসলে নিরপেক্ষ থাকবে, নাকি সরকারের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করবে।’ (সূত্র : দৈনিক কালের কন্ঠ ১১ জুলাই ২০১৭)
‘নির্বাচন কমিশনকে অধিকতর শক্তিশালী করার লক্ষ্যে করণীয়’ শিরোনামে বিএনপির একটি খসড়া শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। প্রস্তাবনায় যা থাকবে-নির্বাচন কমিশনকে আরো কার্যকর ও শক্তিশালী করা এবং আরপিওসহ অন্যান্য নির্বাচনী বিধিবিধান সময়োপযোগী ও যৌক্তিকীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। এসবের মধ্যে আরপিওর সংশোধনীর মধ্যে বলা হয়েছে RPODefinition Clause Gi Article 2 (Xlaa)- তে Law Enforcing Agency হিসেবে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে Defense Services of Bangladesh করতে হবে। (উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের সংশোধনীতে Defense Services of Bangladesh-কে এই সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল)। ভোটগ্রহণের আগে বিভিন্ন বুথে খালি বাক্স সরবরাহের পর অবশিষ্ট শূন্য ব্যালট বাক্স, যদি থাকে, এমন নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে যাতে তা প্রার্থী অথবা নির্বাচনী এজেন্ট অথবা পোলিং এজেন্টদের কাছে দৃশ্যমাণ থাকে। ভোট চলাকালে ব্যালট বাক্স পরিপূর্ণ হয়ে গেলে সে বাক্সগুলো সংশ্লিষ্ট বুথেই রাখতে হবে, যাতে তা সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং নির্বাচনী এজেন্ট অথবা পোলিং এজেন্টদের কাছে দৃশ্যমাণ থাকে। ভোট শেষে ব্যালট গণনার জন্য কেবল ভোটগ্রহণে ব্যবহৃত ব্যালট বাক্সগুলো খোলা হবে। প্রিজাইডিং অফিসার তাঁর স্বাক্ষরিত ফলাফল শিট ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টকে হস্তান্তর না করে কেন্দ্র ত্যাগ করবেন না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ