ঢাকা, মঙ্গলবার 18 July 2017, ৩ শ্রাবণ ১৪২8, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা না করলে মানুষ আ’লীগকে পালাতেও দেবে না -মির্জা ফখরুল

গতকাল সোমবার ভাসানী মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে ২০৩০ বিএনপির ভিশন নারী সমাজের উন্নয়ন ও অগ্রগতির মিশন শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

 

স্টাফ রিপোর্টার: সবার অংশগ্রহণে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা না করলে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে পালাতেও দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে শুধুমাত্র ধনীদের ক্ষেত্রে। অন্যদিকে গরিবরা আরও গরিব হচ্ছে, থাকছে ফুটপাতে। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসুক এবং দেশে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক বর্তমান সরকার তা চায় না। তারা জানে ভোটের মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তবে এবার জনগণ স্বোচ্চার হয়ে উঠেছে। যদি ক্ষমতাসীনরা নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা না করে তাহলে মানুষ তাদের পালাতেও দিবেনা। গতকাল সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে ভাসানী মিলনায়তনে মহিলা দল আয়োজিত ‘বিএনপির ভিশন-২০৩০ নারী সমাজের উন্নয়ন ও অগ্রগতি’ শীর্ষক এক সেমিনারের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সংগঠনের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি নুর জাহান ইয়াসমীন, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা ফরিদা মনি শহীদুল্লাহ, নুরুন্নাহার, শামুসন্নাহার ভুইয়া প্রমূখ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

নির্বাচন কমিশন গঠনের আবারও সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তির মাধ্যমে ইসি গঠন করা হয়েছে। তারপরও আমরা বলেছি একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করলে সমর্থন পাবেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি ইসি একাদশ জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন। কিন্তু নির্বাচন করতে হলে সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে একই রাস্তায় নিয়ে আসতে হবে, সেই রাস্তা কোথায়? রোডই যখন নেই তখন ম্যাপে কি হবে?

ইসির উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আগে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করুন। অন্যথায় রোডম্যাপ স্বার্থক হবে না। সব ব্যর্থতার দায় আপনাদের নিতে হবে। রোডম্যাপ সার্থক করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে পরিবেশ তৈরি করতে হবে বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের খুব পরিস্কার কথা আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলতে চাই, আগে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন, রাস্তা তৈরি করুন, তাহলে রোডম্যাপ দেয়াটা সার্থক হবে। অন্যথায় হবে না। নির্বাচনে যদি রাজনৈতিক দলগুলোই যেতে না পারে আবার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি মতো ওই কুকুর-ছাগল ভাড়া নিয়ে নির্বাচন করতে হবে, মানুষকে নিয়ে তো নির্বাচন করতে পারবেন না।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন একাদশ নির্বাচনের কর্ম পরিকল্পনা দিয়েছে। খুব ভালো কথা। রাস্তাটা কৈ? ইলেকশন করবে কে? রাজনৈতিক দলগুলো তো। তাদেরকে যে আপনি নির্বাচনে নিয়ে যাবেন তার রাস্তা কোথায়? হোয়ার ইজ দ্যা রোড। ম্যাপ দিয়ে দিচ্ছেন, এই করছেন, ওই করছেন, অথচ রাস্তাই নাই। সারাদেশে রাস্তা তো আপনারা খানা-খন্দক খুঁড়ে শেষ করে দিয়েছেন, প্র্যাকট্ক্যিালি গোটা ঢাকাতে তাই, বাংলাদেশেও তাই। সেভাবেই নির্বাচনের রাস্তাকে আপনারা খান-খন্দক খুঁড়ে শেষ করে দিয়েছেন। নির্বাচনে যাতে বিরোধী দল যেতে না পারে, তার জন্য আপনারা ব্যবস্থা করছেন।

সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সমস্ত বাদ দিন, পথে আসুন। সব রাজনৈতিক দলের সাথে কথা বলে পথ বের করুন। আমরা বলতে চাই, তারা (ক্ষমতাসীন দল) যে অপকর্ম করেছে, হত্যা-গুম-খুন-জখম করেছে, দুর্নীতি করেছে, লুট করেছে সেখানে তারা পালাবার পথ খুঁজে পাবেনা। পালাবার পথ একটাই আছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা, সকল দলের অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। তানা হলে সত্যি সত্যি এদেশের মানুষ পালাবার পথ দেবে না।

রাজনীতিতে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহনের প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপিকে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী করতে পারেন এই নারীরা। গ্রামে আমাদের ভোটার বেশি নারীরা, দেশে সবচেয়ে বেশি ভোটাররা নারীরা। এটা কেনো? বিএনপি তথা ধানের শীষ মহিলাদের স্বার্থের কথা ভাবে, মানুষের ভালোর কথা বলে, দেশের ভালো বলে এবং কাজ করে। এই দায়িত্বটা সবচেয়ে বেশি আপনাদের পালন করতে হবে।

একাদশ নির্বাচন প্রসঙ্গ তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রচন্ড বাঁধা। এই সরকার চায় না যে, দেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক, এই সরকার চায় না যে আমরা নির্বাচনে যাই। কারণ ওরা জানে যে, আমরা যদি নির্বাচনে যাই আর আমাদের মা-বোনেররা ও ভাইয়েরা যদি ভোট দিতে পারে, তাহলে ওরা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তারা যত অপকর্ম করেছে, চুরি-চামারি করেছে, এগুলো দেখে জনগন ওদের ভোট দেবে না।

বিএনপিকে সমাবেশ-সভা করতে না দেয়ার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন করার আগে নির্বাচনের পরিবেশ তো তৈরি করতে হবে। আপনি আমাকে রাস্তায় বের হতে দেবেন না, আপনি আমাকে মিটিং করতে দেবেন না, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মিটিং করতে দেবেন না, কাউন্সিল করতে দেবেন না। এমনকি ‘ভিশন ২০৩০’ আলোচনা করার জন্য জেলাগুলোতে একটা জায়গা পর্যন্ত দেবেন না, ঢাকাতেও দেবেন না। অন্যদিকে আপনি বলবেন যে নির্বাচন করো।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি‘র সভাপতি আসম আবদুর রবের বাসায় কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা অনুষ্ঠানে পুলিশের বাগড়া দেয়ার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের কথা বাদ দিলাম। এই আসম আবদুর রব সাহেব ও অন্যান্য ৫/৪টা দল, ডা. বদরুদ্দোজা সাহেবের মতো মানুষ, ড. কামাল হোসেন সাহেবের মতো মানুষ তারা রাজনৈতিক আলোচনা করার জন্য আবদুর রব সাহেবের বাসা গিয়েছিলেন। পুলিশ সেখানে গিয়ে উপস্থিত। বলছে, মিটিং করতে পারবেন না। আমি এর আগে একদিন বলেছিলাম, এদেশটাকে এরা বাপের তালুকদারি মনে করে। সমস্যাটা এই জায়গায়। যে কারণেই ওরাই সব কিছু করবে, মিটিং করবে, ইলেকশন করবে, বিনাভোটে নির্বাচন করবে, ক্ষমতায় যাবে, মন্ত্রী হবে, এমপি হবে, হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করবে। আমরা-আপনারা ওই সাধারণ মানুষ শুধু হাত তালি বাজাবো, হ্যা ব্যাস ব্যাস। এটা হবে না। এটা গণতন্ত্র নয়।

সকলকে ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে ‘জেগে’ উঠার আহবান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মা-বোনেরা আমাদের সবাইকে জেগে উঠতে হবে। এটা আমার দেশ। জোর করে কেউ নিয়ে যায়, আমি কী ছেড়ে দেবো। বর্গীরা জোর করে নিয়েছিলো, বৃটিশরা জোর করে নিয়েছিলো, পাকিস্তানিরা জোর করে নিয়েছিলো, আমরা তো যুদ্ধ করে সেখান থেকে ফেরত আনছি। সুতরাং এটাকে আমরা ছেড়ে দেবো না। আমরা গণতান্ত্রিক অধিকারগুলোকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই, আমাদেরকে প্রতিবাদ করতে হবে। সরকারকে বাধ্য করতে হবে সকল দলের অংশগ্রহনমূলক একটা অবাধ নির্বাচন করতে দিতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ