ঢাকা, মঙ্গলবার 18 July 2017, ৩ শ্রাবণ ১৪২8, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আট তরুণের অভিযাত্রা-

তরুণরা সাহস ও চাঞ্চল্যের প্রতীক, তরুণরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহের প্রতীক। তবে সাম্প্রতিকালে আমরা দেশে-বিদেশে তরুণদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক নানা তৎপরতার অভিযোগও লক্ষ্য করেছি। কিন্তু এর জন্য শুধু তরুণদের দায়ী করলে চলে না, দায়ী করতে হয় বর্তমান সভ্যতা এবং বিশ্বব্যবস্থাকেও। তবে এমন বাতাবরণেও আদর্শবাদী তরুণরা উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করে চলেছে। এ প্রসঙ্গে খালিজ টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করা যায়।
১৬ জুলাই প্রকাশিত খবরটিতে বলা হয়, লন্ডন থেকে সাইকেলে চড়ে হজ্জে যাচ্ছেন ৮ তরুণ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি মানবিক সহায়তা প্রতিষ্ঠানের ৮ তরুণের একটি দল ছয় সপ্তাহের সফরে লন্ডন থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওয়ানা করেছেন। তারা সাইকেল চালিয়ে লন্ডন থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সৌদি আরবে পৌঁছবেন। যাত্রাপথে তারা বিভিন্ন দেশ থেকে অনুদান সংগ্রহ করবেন এবং অনুদানের সেই টাকা সিরিয়ায় জরুরি সেবা কাজে ব্যবহার করা হবে। এর আগে যুক্তরাজ্য এবং মালয়েশিয়াসহ আরও কিছু সংস্থার মানবিক সহায়তায় সিরিয়ায় ৮৫টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। তরুণদের সংগৃহীত অর্থ দিয়ে আরো কিছু অ্যাম্বুলেন্স কেনা হবে। এছাড়া সিরিয়ায় জরুরি সেবা দিতে যা যা প্রয়োজন তারা তা সরবরাহ করতে চেষ্টা চালাবেন। আমরা মনে করি তরুণদের এই কার্যক্রম সেবার চাইতেও আরো বেশি কিছু। মহান স্রষ্টা মানুষকে এই পৃথিবীতে পাঠিয়ে সঠিক জীবনযাপনের জন্য নির্দেশনাও দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার মূল বিষয় হলো, স্রষ্টার প্রতি এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালন। ধর্মীয় পরিভাষায় যাকে বলা হয়, ‘হক্কুল্লাহ’ এবং ‘হক্কুল ইবাদ’। ৮ তরুণের হজ্জযাত্রায় আমরা উভয়বিধ দায়িত্ব পালনের উজ্জ্বল উদাহরণ লক্ষ্য করেছি। তারা হজ্জের ফরয ইবাদতের সাথে সাথে সিরিয়ার মজলুম মানুষকে সাহায্যের ইবাদাতও করছেন। তাই বলছিলাম, ওই ৮ তরুণের কার্যক্রম সেবার চাইতেও বেশি কিছু।
মানুষ আসলে স্রষ্টার সাথে কৃত আদি-অঙ্গীকারের কথা ভুলে গেছে। ভুলে গেছে বলেই তো সে এখন জীবনযাপনে এবং শাসন-প্রশাসনে তার রবের কথা মানছে না। এ কারণে এখন পৃথিবীতে চলছে জুলুম-নির্যাতন, প্রহসন-প্রতারণা এবং আগ্রাসনের বিভীষিকা। সিরিয়া তার এক বাস্তব উদাহরণ। ৮ তরুণ আলমে-আরওয়ার সেই আদি অঙ্গীকারের কথা যেভাবে তাদের চেতনায় যুক্ত করেছে, অন্যরাও যদি নিজ নিজ অবস্থানে সেই চেতনা যুক্ত করতো, তাহলে এই পৃথিবীর চেহারা হতো অন্যরকম, যেখানে ‘সিরিয়া সংকট’ নামে কিছু থাকতো না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ