ঢাকা, বুধবার 19 July 2017, ৪ শ্রাবণ ১৪২8, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিচার বিভাগকে কোণঠাসা করে দেশের মঙ্গল হয় না

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র্র কুমার (এস কে) সিনহা বলেছেন, বিচার বিভাগকে কোণঠাসা করে দেশের মঙ্গল হয় না। মনে রাখবেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের প্রতি সবারই দায়িত্ব আছে। 

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা আবেদনের শুনানিতে সরকারের এটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন। 

গতকাল মঙ্গলবার সরকারের করা সময় আবেদনের শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের বেঞ্চে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, একদিন আপনি থাকবেন না, আমিও থাকবো না। বিচার বিভাগ থাকবে। এই জুডিশিয়ারি সবার। এই কোর্টকে রাখতে হলে সবার দায়িত্ব আছে। জুডিশিয়ারিকে কর্নার্ড (কোণঠাসা) করে দেশের মঙ্গল হয় না। তিনি আরও বলেন, মনে রাখবেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের প্রতি সবারই দায়িত্ব আছে। 

এ দিন সরকারের আবেদনের শুনানি শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায় স্থগিতের মেয়াদ আরও দুই সপ্তাহ বৃদ্ধি করেন আপিল বিভাগ।

আদালতে সরকার পক্ষে শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে উপস্থিত ছিলেন রিটকারী ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম।

এর আগে গত ১১ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ২০০৯ সালের আইনের ১১টি ধারা ও উপধারাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এই আইনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাও অবৈধ ঘোষণা করা হয়। 

ভ্রাম্যমাণ আদালতের আইনের কয়েকটি ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা পৃথক তিনটি রিটে এর আগে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতের রায়ে বলা হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ১১টি বিধান বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় আঘাত করেছে। আইনের ধারা ৫, ৬ (১), ৬ (২), ৬ (৪), ৭, ৮ (১), ৯, ১০,১১, ১৩ ও ১৫ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ধারাগুলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে (নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগ) ক্ষমতার পৃথক্করণ-সংক্রান্ত সংবিধানের দুটি মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী। অনাকাঙ্খিত জটিলতা ও বিতর্ক এড়াতে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়া বিষয়গুলো ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেয়া সব আদেশ, সাজা ও দন্ডাদেশ অতীত বিবেচনায় সমাপ্ত বলে মার্জনা করা হয়েছে।

গত ৪ জুলাই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের দেয়া রায় ১৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেছিলেন আপিল বিভাগ। গতকাল মঙ্গলবার আরো দুই সপ্তাহ স্থগিতাদেশ বাড়ানোয় এ সময় পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চলবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ