ঢাকা, বুধবার 19 July 2017, ৪ শ্রাবণ ১৪২8, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আ’লীগের অপকর্মের কারণে দেশে ভয়ংকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে -মেজর (অব.) হাফিজ

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ আয়োজিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রিপোর্ট এবং বাংলাদেশের বাস্তবতা শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর হাফিজ উদ্দীন আহমেদ অভিযোগ করে বলেছেন, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগ জড়িত। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে দেশের ধর্ষণের নেতৃত্ব দিচ্ছে ছাত্রলীগ।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আন্তর্জাতিক সংস্থার মানবাধিকার রিপোর্ট এবং বাংলাদেশের বাস্তবতা’ শীর্ষক সভায় এ অভিযোগ করেন তিনি। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের মহাসচিব আ স ম মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপির আরেক ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কিমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ ও শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক, স্বাধীনতা অধিকার আন্দোলনের সভাপতি ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কৃষক দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মিয়া সম্রাট।

আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সব অপকর্মের জনক, এমন মন্তব্য করে মেজর হাফিজ বলেন, নির্বাচনের প্রার্থী ছিনতাই থেকে শুরু করে লুটপাট, সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ সব ধরনের অপকর্ম করছে আ.লীগ। তাদের কারণে বর্তমানে পাকিস্তান আমলের চেয়েও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি বিরাজ করছে দেশে। ১৯৫৪ এবং ১৯৭৪ সালের নির্বাচনেও ভোটারদের ওপর হস্তক্ষেপ করা হয়নি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় ২০১৪ সালের নির্বাচনে ভোটবিহীনভাবে ক্ষমতায় এসে এই অপকর্মগুলো করছে আ.লীগ। তারা ভেবেছে বাংলাদেশের মানুষ নির্জীব। তাই যা খুশি তাই করছে। কিন্তু তারা জানে না দেশের জনগণ সংক্ষুব্ধ হয়ে গেছে। আগামী দিনে তারা রাজপথে নেমে যাবে।

খালেদা জিয়া দেশে ফিরে আন্দোলনের অনুমতি না দিলেও বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে নামবেন বলে জানিয়েছেন মেজর হাফিজ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডনে আছেন। তিনি দেশে ফিরে দিকনির্দেশনা দিলেই আন্দোলনে নামবো। প্রয়োজনে চেয়ারপারসনের বিনা অনুমতিতেই বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে নামবে।

নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপকে হাস্যকর ছেলেখেলা হিসেবে মন্তব্য করেছেন বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, সংবিধানে নির্বাচন কমিশনের অসীম ক্ষমতা দেওয়া আছে, কিন্তু এই ক্ষমতা প্রয়োগে তারা অপারগ। তারা জানিয়েছে, নির্বাচনের তিন মাস আগে আচরণবিধি ও লেভেল প্লেইং ফিল্ডের বিষয় দেখবে। এটা কোনোভাবেই হতে পারে না। তাদের উচিত এখন থেকে এ নিয়ে কাজ শুরু করা। আসলে তারা আওয়ামী লীগের আজ্ঞাবহ হয়ে আসছে। সামনে তাদের টেস্ট কেস সিটি করপোরেশন ও উপজেলা নির্বাচন। এ দুটি নির্বাচনেই প্রমাণিত হবে তারা কেমন নির্বাচন কমিশন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বাংলাদেশে এখন পদে পদে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারকে অপহরণ। তাকে নিয়ে কত নাটকই দেখতে পেলাম।

তিনি আরও বলেন, ভয়ংকর ভয়াবহ এই জটিল ও কুটিল সরকারের হাত থেকে রক্ষা পেতে পথ খোলা আছে দুটি। একটি হলো নির্বাচন, অন্যটি আন্দোলন। বিএনপি দুটির জন্যই প্রস্তুত। জনতার গণআন্দোলন কখনও বৃথা যায় না।

আলাল বলেন, সারা দেশের মানুষ আবারও জেগে উঠেছে। তার রাজপথে নামার অপেক্ষায় রয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ডাক দিলেই জন গন মাঠে নামবে। রাজপথে বিজয় এনেই তারা ঘরে ফিরবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যে রোড ম্যাপ দিয়েছে তাতে দেশের জনগন হতাশ। এতে প্রমানিত হয়েছে তিনি সরকারের রোড ম্যাপ বাস্তবায়ন করছে। জনগনের আন্দোলনের মুখে তার দেয়া এ রোড ম্যাপ টিকবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ