ঢাকা, বুধবার 19 July 2017, ৪ শ্রাবণ ১৪২8, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সরকার আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে কালো আইন করছে

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এসোসিয়েশনের উদ্যোগে বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : গণতন্ত্র ও গণমাধ্যম ভীতিতে সরকার আতংকগ্রস্ত হয়ে কালো আইন করছে বলে মন্তব্য করেছে সাংবাদিক নেতৃনন্দ। এই আইন বাতিল না হলে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এসোসিয়েশন (বামসাএ) আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে সাংবাদিকরা এমন মন্তব্য করেন। আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, বিএফইউজে‘র সহ সভাপতি মুন্সি আব্দুল মান্নান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মুরসালীন নোমানী, বিএফইউজের দফতর সম্পাদক আবু ইউসুফ, নির্বাহী সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, ডি. এম. আমিরুল ইসলাম অমর, খন্দকার মাসুদ উদ জামান প্রমুখ।

এম আবদুল্লাহ বলেন, ৫৭ ধারায় বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আবার নতুন করে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের ১৯ থেকে ২২ ধারায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। নাম পাল্টে একই আইন রাখা হলে তা দেশের সাংবাদিক সমাজ মেনে নেবে না। সম্প্রচার আইন দিয়ে সব টেলিভিশনকে বিটিভি বানানোর ষড়যন্ত্র পাকাপোক্ত করা হয়েছে। আমি অবিলম্বে ৫৭ ধারা বাতিলের দাবি জানাচ্ছি এবং সকল বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়াসহ সব সাংবাদিক হত্যার বিচারের দাবি জানাচ্ছি। বিএফইউজে’র মহাসচিব আরো বলেন, সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে একের পর এক যে কালো আইন করছে। তাতে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। 

জাহাঙ্গীর আলম প্রধান বলেন, কোনোভাবেই ৫৭ ধারা মেনে নেয়া যায় না। গণমাধ্যমবিরোধী নতুন কোনো আইন করলে সেটাও মেনে নেয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ বার বার প্রমাণ করেছে তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। ক্ষমতায় এসেই তারা নতুন নতুন কালাকানুন দিয়ে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে। ৫৭ ধারাসহ সব কালো আইন বাতিল না করলে সাংবাদিকরা তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে তা বাতিল করতে বাধ্য করা হবে।

শহিদুল ইসলাম বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত করতেই ৫৭ ধারা প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আটক সাংবাদিকদের মুক্তি দাবি করে বলেন, স্বাধীনতাকে অস্তিত্বহীন করতে ৫৭ ধারার খড়গ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ধারা বাতিল করতে হবে। গণমাধ্যম ও জনগণের অধিকার যারা হরণ করে তারা স্বাধীনতা সার্বভৌম মানবিক ও মৌলিক অধিকার বিশ্বাস করে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। 

মুরসালীন নোমানী বলেন, সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করতে তথ্য ও যোগাযোগ আইনের যে ৫৭ ধারা চালু করা হয়েছে তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। তানাহলে সাংবাদিকদের আন্দোলন চলছে এবং চলবে। এসময় তিনি আটককৃত সকল সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তি ও বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়ার দাবি জানান এবং সাগর রুনীসহ সকল সাংবাদিক হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ