ঢাকা, বুধবার 19 July 2017, ৪ শ্রাবণ ১৪২8, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

‘ঘুষের ৫ লাখ টাকা’সহ দুদকের ফাঁদে ধরা প্রধান নৌ প্রকৌশলী

স্টাফ রিপোর্টার : নিজের কার্যালয়ে বসে ‘ঘুষ নেয়ার সময়’ নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম ফখরুল ইসলামকে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিএ ভবনে অধিদপ্তরের কার্যালয় থেকে দুদকের পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি দল অভিযানে গিয়ে তাকে ধরে। 

নাসিম বলেন, “জাহাজের নকশা অনুমোদনের জন্য এক ব্যক্তির কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণকালে তাকে হাতেনাতে আমরা আটক করি।”

বেঙ্গল মেরিন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর কাছ থেকে ফখরুল ‘ঘুষ’ নিচ্ছিলেন বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২২টি জাহাজের নকশা অনুমোদনের জন্য নৌ পরিবহন অধিদপ্তরে আবেদন করে। অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল অধ্যাদেশ-১৯৭৬ এর ধারা ৫ (ক) অনুযায়ী নকশা জমা হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ অনুমোদন দিতে হয়। “কিন্তু নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম ফখরুল ইসলাম ওই সব জাহাজের নকশা অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন সময় প্রতিটি জাহাজের আকার ভেদে পাঁচ থেকে ১৬ লাখ টাকা করে ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ ছাড়া তিনি কোনো জাহাজের নকশা অনুমোদন করবেন না বলে জানান। ”

‘এমভি নওফেল লিহান’ নামের একটি জাহাজের নকশা অনুমোদনের জন্য গত বছরের ১৩ এপ্রিল আবেদন করা হয়। এর জন্য ফখরুল প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এএনএম বদরুল আলমের কাছে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে প্রণব জানান। “বদরুল বিষয়টি কমিশনকে অবহিত করলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টকে গ্রেপ্তারে ঘুষ দেয়ার পূর্ব নির্ধারিত সময় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিআইডব্লিউটিএ ভবনের চারদিকে দুদকের ১১ সদস্যের একটি দল অবস্থান নেয়। “ফখরুল ইসলাম তার নিজের দপ্তরে বদরুলের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় হাতে-নাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।” এ বিষয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। 

ঘুষ না পেলে তিনি নৌযানের নকশা অনুমোদন করতেন না। নৌযানের আকারভেদে ঘুষের এই হার ওঠা-নামা করত। নৌযান ছোট হলে ঘুষের দর কম। আর আকার বড় হলে ঘুষের দরও বেড়ে যেত কয়েক গুণ। এই তিনি হলেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও শিপ সার্ভেয়ার এ কে এম ফখরুল ইসলাম। নিজ কার্যালয়ে বসেও ঘুষ নিতেন তিনি। 

দেশে চলাচলকারী যান্ত্রিক নৌযানগুলোর নকশা নৌপরিবহন অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন নিতে হয়।

গতকাল দুপুরে মতিঝিলে অবস্থিত নৌপরিবহন অধিদপ্তরে নিজ কার্যালয়ে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন ফখরুল ইসলাম। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে। 

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি দল আগে থেকে ফাঁদ পেতে ছিল। বেলা দুইটার দিকে এক ব্যক্তির কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিচ্ছিলেন ফখরুল ইসলাম। এ সময় তাঁকে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ওই কর্মকর্তাকে মতিঝিল থানায় আনা হয়। 

দুদক সূত্র জানায়, নকশা অনুমোদনের জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তরে জমা দিয়েছেন, এমন এক ব্যক্তি দুদকের কাছে অভিযোগ করেন যে নৌযানের নকশা অনুমোদন করে দেয়ার বিনিময়ে ফখরুল ইসলাম তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছেন। ঘুষ দেয়াও অপরাধ, তাই তিনি ঘুষ দেবেন না। ওই ব্যক্তির অভিযোগ পেয়ে দুদকের পক্ষ থেকে সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করা হয়। ফখরুল ইসলামের কার্যালয়ে দুদকের লোকজন ছিল। দুপুরে নিজ কক্ষে বসে তিনি ঘুষের পাঁচ লাখ টাকা নেন। ভেতর থেকে সংকেত পেয়ে দুদক সদস্যরা ফখরুল ইসলামের কাছ থেকে ওই টাকা উদ্ধার করা হয়। 

নাসিম আনোয়ার বলেন, ফখরুল ইসলাম ঘুষ না নিয়ে নৌযানের নকশা অনুমোদন করেন না। নৌযানের প্রকারভেদে তাঁর ঘুষের রেটও ভিন্ন। পাঁচ লাখ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষের রেট ওঠা–নামা করে। ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অভিযোগ আছে। এগুলো কমিশনের নজরে এনে অনুমোদন নিয়ে অনুসন্ধান করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ