ঢাকা, বুধবার 19 July 2017, ৪ শ্রাবণ ১৪২8, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিএলসি নবায়নের নামে সুন্দরবন নলিয়ান রেঞ্জে ব্যাপক চাঁদাবাজি

খুলনা অফিস : নলিয়ান রেঞ্জের বনকর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিএলসি (বোট লাইসেন্স) নবায়নের নামে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। জেলেরা এ লাইসেন্স নবায়ন করতে গেলে লাইসেন্স প্রতি ৭-৮ শ’ টাকা হারে বেশি আদায় করছে বলে অভিযোগে জানা গেছে। এ বিষয়ে আপত্তি জানালেও বন কর্মকর্তারা সে বিষয়ে কর্ণপাত করছে না বলে জেলেরা দাবি করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, চলতি বছর বিএলসি নবায়ন করা বাবদ জেলেদের নিকট থেকে ৭ থেকে ৮শ’ টাকা হারে আদায় করছে নলিয়ান রেঞ্জ অফিসের স্টেশন কর্মকর্তারা। সরকারি রাজস্ব যেখানে ভ্যাটসহ ১১ টাকা ৫০ পয়সা সেখানে কর্মকর্তাদের উৎকোচ বাবদ এ বিপুল পরিমাণ টাকা পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে জেলেরা। বিপুল পরিমাণ অর্থ না দেয়ার বিষয় নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিকট অভিযোগ দিলে তারাও নিজেদের অপারগতা প্রকাশ করছে। পশ্চিম সুন্দরবনের নলিয়ান রেঞ্জের আওতায় প্রায় ৪ হাজার জেলের বিএলসি নবায়নে বনকর্মকর্তারা অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে। যা’ মোট টাকার হিসেবে প্রায় ৩২ লাখ টাকা। বিপুল পরিমাণ এ অর্থ ভাগ হবে বনবিভাগের উচ্চ পর্যায় থেকে নি¤œ পর্যায় পর্যন্ত। অথচ বড় অংকের টাকা আদায় করা হলেও সরকারের রাজস্ব যাচ্ছে মাত্র প্রায় ৪৬ হাজার টাকা।

জেলেদের অভিযোগ, স্টেশন অফিস থেকে নির্ধারিত টাকা পরিশোধ না করলে কাউকে নবায়নকৃত বিএলসি ফেরত দেয়া হচ্ছে না। এতে করে বিপাকে পড়েছেন জেলেরা। তারা পরবর্তিতে আর মৎস্য আহরণ করতে যেতে পারবে না।

নলিয়ান এলাকার মৎসজীবী ফজলু সরদার জানান, গেল সপ্তাহে তিনি তার বিএলসি নবায়ন করতে গেলে স্টেশন অফিসার মকরুল ইসলাম জানায় ৭শ’ টাকা না হলে নবায়ন করা হবে না। তিনি পরবর্তীতে টাকা পরিশোধের আবেদন করলেও তিনি এ বিষয়ে কোন ছাড় দেননি। অনেকটা হতাশ হয়ে ফজলু সরদার আর বিএলসি নবায়ন করেনি।

একই এলাকার জেহের আলী, হাবিবর শেখের দাবি, বিএলসি নবায়ন গেলে নির্ধারিত টাকা পরিশোধ না করায় তাদের বিএলসি ছুঁড়ে ফেলে দেন ওই স্টেশন কর্মকর্তা মকরুল ইসলাম। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে মকরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএলসি নবায়নে নির্ধারিত ৭শ’ টাকার কম নেয়া হবে না। বেশি টাকা নিচ্ছি সেটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানে। এতে আমার কিছুই হবে না। খুব বেশি হলে আমাকে বদলী করা হবে মাত্র। আমার বিরুদ্ধে যত পারেন লেখেন। লিখে কি করতে পারেন দেখি! আমার কারও প্রতিই সহানুভূতী নেই’।

নলিয়ানের সুতারখালী ইউনিয়নের মৎসজীবী জামাল গাজি, আবু তালেব গাজি, রমজান গাজি, মোসলেম ঢালী, ফারুক গাজি বিএলসি নবায়ন করতে গেলে বিএলসি প্রতি ৭শ’ টাকা না দেয়ার কারণে তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয় নলিয়ান স্টেশন থেকে। একই এলাকার আছির উদ্দিন ঢালী, আকিজ ঢালী, মুজিবর রহমানকে ২ হাজার টাকার বিনিময়ে বিএলসি দেয়া হয়েছে। রাজস্বের বাইরে এ অর্থ আদায় করা হলেও নিশ্চুপ বনবিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

জেলেরা হয়রানির শিকার হচ্ছে দাবি করে সুতারখালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য গাজি আবু মুছা বলেন, ‘বিএলসি নবায়নের নামে হরিলুট চলছে নলিয়ান রেঞ্জের স্টেশনগুলোতে। কর্মকর্তারা পকেট ভারি করতে ব্যস্ত। এ বিষয়ে কিছু বলতে গেলে আমাদের অপমান করছে। আর না জানার ভান করে আছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাছাড়া আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দিয়েছে স্টেশন কর্মকর্তা মকরুল ইসলাম’। এ ব্যাপারে নলিয়ান রেঞ্জ কর্মকর্তা সোয়ায়েব খান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। বিএলসি সাধারণত স্টেশন কর্মকর্তারাই নবায়ন করে। তাদের সাথে কথা বলেন। যেসব জেলেরা ভুক্তভোগী তাদেরকে আমার কাছে পাঠিয়ে দেন আমি দেখব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ