ঢাকা, বুধবার 19 July 2017, ৪ শ্রাবণ ১৪২8, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গত ১০ বছর ধরে খুলনা খাদ্য বিভাগে টেন্ডার বন্ধ

খুলনা অফিস : ২০০৭ সালের ১/১১’র খড়গ এখনো ওঠেনি খুলনা খাদ্য বিভাগের টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে। সেই থেকে ১০ বছর বন্ধ রয়েছে টেন্ডার। কাজ চলছে কর্মকর্তা ও কতিপয় ঠিকাদার নেতার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে, এমনি অভিযোগ রয়েছে। তবে খাদ্য বিভাগ বলছে- আগামী দু-এক মাসের মধ্যে হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তারপর পরিবহন টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ক্ষমতার পালা বদল ও জরুরি অবস্থার পর থেকে খাদ্য পরিবহনে টেন্ডার বন্ধ রয়েছে। তারপর খুলনা খাদ্য পরিবহন সড়কপথ ঠিকাদার বহুমুখী কল্যাণ সমিতির (বর্তমান সভাপতি) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। শতকরা ৪১ শতাংশ কমিশনের দাবিতে এ মামলা দায়েরের পর নানা জটিলতায় টেন্ডার প্রক্রিয়া আরও ঝুলে যায়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত গত ১০ বছরেও নতুন করে ঠিকাদার অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, হয়নি টেন্ডারও। বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রক, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কতিপয় কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের যোগসাজসে চলছে ভাগবাটোয়ারা। তবে দু’বছর বন্ধ থাকার পর, কিছুদিনের মধ্যে শুরু হবে হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের টেন্ডার প্রক্রিয়া। এ নিয়ে কাজ করছেন তিন সদস্যের একটি কমিটি।

কমিটির অন্যতম সমন্বয়ক জেলার সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) ও দিঘলিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকির হোসেন জানান, মেয়াদ শেষ হয়েছে বছর খানেকের একটু বেশি সময়, কাজ চলছে-দ্রুততম সময়ের মধ্যে হ্যান্ডলিং শ্রমিক সরবরাহের টেন্ডার আহ্বান কমিটির কাছে সুপারিশ করা হবে। হ্যান্ডলিং শ্রমিক নিয়োগ টেন্ডার আহ্বানের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এরপরেই খাদ্য পরিবহন টেন্ডার প্রক্রিয়া কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এখানে ঠিকাদারদের সাথে তাদের কোন যোগসাজস নেই বলে তিনি দাবি করেছেন।

সূত্র জানায়, খাদ্য বিভাগের সরকারি চাল-গমসহ অন্যান্য খাদ্য শস্য পরিবহনে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় খুলনায় রয়েছে বিভাগীয় রোড ট্রান্সপোর্ট কন্ট্রাক্টর (ডিআরটিসি) বিভাগ। যেটি খুলনায় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের (আরসি ফুড) নিয়ন্ত্রণাধীন। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করেন একজন কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর পর ঠিকাদার অন্তর্ভুক্তির জন্য টেন্ডার আহ্বানের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ২০০৭ সালের পর থেকে সড়ক পথের ঠিকাদার অন্তর্ভুক্তির টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি। অপর একটি সূত্র বলছে, ২০০৪ সালের পর থেকে।

জানা গেছে, খুলনা বিভাগে খাদ্য পরিবহণের (সড়ক পথে) জন্য আরসি ফুডের কার্যালয় থেকে সর্বশেষ ২০০৪ সালে ঠিকাদার অন্তর্ভুক্তির টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে ২৭৫ জন ঠিকাদার অন্তর্ভুক্ত হয়। যাদের মেয়াদ ২০০৬-২০০৭ অর্থ বছরে শেষ হয়। কিন্তু নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর পর ঠিকাদার অন্তর্ভুক্তির জন্য টেন্ডার আহ্বানের নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। প্রতি বছরই পূর্বের অন্তর্ভুক্ত ঠিকাদারদের সাথে চুক্তি করে মেয়াদ বাড়ানো হয়। ঠিকাদার সিন্ডিকেটের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে ভাগবাটোয়ারা হয় খাদ্য বিভাগের শীর্ষ পর্যায় থেকে কয়েকজনের মধ্যে। ফলে কয়েকজন ঠিকাদাররাই এ অঞ্চলের খাদ্য পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছেন।

সাধারণ ঠিকাদার ও অনৈতিক সুবিধা বঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি সূত্র জানিয়েছেন, ১/১১’র প্রতিকূলতার খড়গটাকে কৌশলে নিজেদের অনুকূলে ব্যবহার করছেন।

একাধিক সূত্র জানায়, অন্তর্ভুক্ত ঠিকাদারদের একেকজনের একাধিক নামে ফার্ম (ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান) রয়েছে। ফলে নতুন ঠিকাদার অন্তর্ভুক্ত হলে তাদের ব্যবসায় লোকসান হবে। বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সাথে যোগসাজসে তারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থা জিম্মি করে রেখেছেন। ২০০৭ সালে ঠিকাদার নেতা মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৪১ শতাংশ কমিশনের দাবিতে একটি মামলাও করেন। ওই মামলার অজুহাতে ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও সূত্র জানিয়েছে।

খুলনা খাদ্য পরিবহন সড়কপথ ঠিকাদার বহুমুখী কল্যাণ সমিতির বর্তমান সভাপতি মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, মামলা করেছিলাম সরকারি নিয়মের বিরুদ্ধে। ১/১১’র সরকার আইন করেছিল এক বছরের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না এবং ৪১ শতাংশ কমিশনের দাবিতে। গত পরশু মামলার সর্বশেষ তারিখ ছিল। নিয়মিত টেন্ডার হোক এটা আমরাও চাই। এ সমস্যা সমাধানে একাধিকবার মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে আবেদন করেছি আজও কোন ফল হয়নি। খাদ্য বিভাগের কোন কর্মকর্তাদের সাথে তাদের যোগসাজস নেই বলে দাবি করেন তিনি। এসব বিষয়ে জানতে খুলনা বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রক ড. এস.এম মুহসিনের ব্যবহৃত মোবাইলে (০১৭১১-০৬৬২৯৩) একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ