ঢাকা, বুধবার 19 July 2017, ৪ শ্রাবণ ১৪২8, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কিছু মানুষকে যায় না ভোলা কিছু কথা থাকে হৃদয়ে মিশে

খান মুহাম্মদ ইয়াকুব আলী : প্রকৃতবয়সটা কত হল জানি না। শিক্ষা দীক্ষা বা সচেতনতার অভাবে, মা-বাবা আগে সন্তানের জন্ম তারিখ লিখে রাখতো না। আমি সে জটিলতারই শিকার। তবে স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশ প্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাদের পানি পান করিয়েছি, কোদাল এবং খুন্তি এগিয়ে দিয়েছি যা দিয়ে তারা রাস্তার পাশে বাংকার খুঁড়ে শত্রুর মোকাবেলা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। শরীয়তপুর জেলার কোয়ারপুর গ্রামের প্রতিটি মানুষের নিকট জিজ্ঞেস করলে এ কথায় সত্যতা মিলবে যে, আমি একজন খুদে মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। বর্তমানে ইসলামী ভাবধারায় একজন সাধারণ নাগরিক হওয়ার দরুন একটি দলের কর্মীদের নিকট প্রায়ই রাজাকার উপাধি শুনতে হয়। হয়তো ইসলামপন্থী কোন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হলে জেলে ঢুকিয়ে বলতো মুক্তিযোদ্ধা নয় বেটা পাকিস্তানীদের ক্যাম্পে কত কি সাপ্লাই দিয়েছে সাক্ষীর কোন অভাব হতো না। মরহুম সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেছিলেন “সাক্ষীর কোন অভাব হবে না।“ প্রিয় পাঠক আমাদের দেশে যত বিজ্ঞ সাক্ষী আছে তা বিশ্বের অন্য কোন রাষ্ট্রে আছে কিনা জানি না। একজন সাক্ষী, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে গিয়ে বলেছেন “আমি নিজ চোখে দেখেছি, উনি বগলের নিচে টিন আর মাথায় হান্ডি পাতিলের ঝাঁকা নিয়ে চলে যাচ্ছেন অর্থাৎ লুটপাট করেছেন।” প্রিয় পাঠক এক বগলের নিচে টিন আর অন্য হাত দিয়ে মাথায় ঝাঁকা নিতে পারবেন তো? কত দক্ষ লুটপাটের নায়ক েিলন সাঈদী সাহেব বুঝতে পেরেছেন তো। এ সাক্ষীর স্বাক্ষর বলেও সাজা হয়। আমার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ আনা হতো জানি না। শিরোনামে ফিরে যাই। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু বিষয় এবং কিছু নেতার বক্তব্য যখন হৃদয় পটে দোল খাচ্ছিল তখন হাতের কাছে পেলাম এক সময়ের তুখোর আওয়ামী লীগ নেতা জনাব ফজলুর রহমানের একটি বক্তব্য যা তিনি ১৭ জুন ২০১৩ সালে সিলেটে আরিফুল হকের পক্ষে মেয়র নির্বাচনের প্রচারণায় বলেছিলেন। সে পুরোনো বক্তব্য তুলে ধরতে ইচ্ছে হল এর মাধ্যমে দেশের অন্যতম বৃহত্তম দল এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দলের পরিচয়টা জানা যাবে। ১০ জুলাই ২০১৭ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানের রীট মঞ্জুর এবং তার বরখাস্তের আদেশ স্থগিত। এ খবর পত্রিকায় দেখার পর আওয়ামী লীগ এর একজন বড় নেতা বললেন “এটা আওয়ামী লীগ এর জন্য লজ্জার বিষয়। তাকে তিনবার বরখাস্ত করা বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে। তিনি বলেন কিরণই (ভারপ্রাপ্ত মেয়র) যা কেমন লোক, মান্নানকে বরখাস্ত করার আধা ঘণ্টার মধ্যেই গদিতে বসে যায়। অন্য একজন বললো ওবায়দুল কাদের ক’দিন আগে বলেছেন ‘রিজভী একজন প্রতিবন্ধী’ এটা কি তার বলা ঠিক হয়েছে? তৃতীয়জন বললেন, জামায়াতের সাথে যে আচরণ করেছে আওয়ামী লীগ এর খেসারত দিয়েই তো কুল পাবে না।” সত্যি কথা বলতে কি সব দলেই কিছু বিবেচক নেতাকর্মী থাকে, যখন তাদের কথা শুনি তখন আবেগী হয়েই কিছু লিখতে মনে চায়। তাই তিনজন ফজলুর রহমানের কথা চোখে ভেসে উঠলো যাদের ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র। একজন হলেন গেন্ডারিয়া ডিআইটি প্লটের বাসিন্দা ফজলুর রহমান। যিনি একটি মসজিদের সেক্রেটারি ছিলেন। ১৯৯৫ সালে এক বৃহস্পতিবার ইশার নামাযের সময় ইমাম সাহেবের চাকরি নট করে দিলেন, অপরাধ মাগরিবের নামাযের সময় ইমামকে পাওয়া যায়নি। কারণ ইমাম সাহেব জামায়াত করেন এবং জামায়াতের জনসভায় গিয়েছেন। পরের দিন শুক্রবার জুমার নামাযের পূর্বের দৃশ্য, মুসল্লিগণ জিজ্ঞেস করলেন খতিব সাহেব কোথায়? ফজলুর রহমান সাহেব বললেন জামায়াতের জনসভায় যাওয়ার দরুণ তাঁকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তখন সমস্ত নামাজি যে হুংকার দিয়ে উঠেছিলেন যে আপনি কে তাকে নিষেধ করার? আমরা তাকে ছাড়া নামাজ পড়বো না। ফজলুর রহমান সাহেবের সে নাকানী চুবানীর কথা আজও ভুলতে পারছিনা। অন্য এক ফজলুর রহমান, সাবেক আমলা, একটি বে-সরকারি ব্যাংকের মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্মকর্তা হয়ে আসার পর ওই প্রতিষ্ঠানের ৮০ জন কর্মকর্তা কর্মচারির মধ্যে ৪০ জনই চাকরি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। তার এ চমৎকার চাটুকারীতা আর নির্মমতার শিকার হয়ে যারা চাকরি ছেড়ে চেলে যায় তারা সামনের দরজা দিয়ে চলে গেলেও সে ফজলুর রহমান কিছু দিনের মধ্যেই পিছনের দরজা দিয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। তাকে ব্যাগটা গুছানোর সময়ও দেয়া হয়নি। তারকথাও আমৃত্যু মনে থাকবে। তৃতীয় ফজলুর রহমান এক সময়ের আওয়ামী লীগ নেতা, বর্তমানে বিএনপির ময়দান কাঁপানো সেনানী। তাকে গত মেয়র নির্বাচনে গাজীপুরে বক্তব্য দিতে দেখেই, তার মাঠ কাঁপানো এবং হৃদয় ছোঁয়া বক্তব্য সম্পর্কে ধারণা পাই। আজ যখন জনাব ওবায়দুল কাদের সাহেবের মুখে শুনি ‘ক্ষমতায় যেতে যদি আবার না পারি তাহলে কেউ আর সালামও দিবে না’ ‘তখনই প্রশ্ন জাগে কেবল সালাম দিবে না এতটুকুই? এর জবাব পাই না, কারণ রাজনীতি সম্পর্কেও যেমন আমার নেই তেমন জ্ঞান আবার তাদের অপরাধের মাত্রা কত তারও মাপযন্ত্র আমার কাছে নেই। সে কারণেই জনাব ফজলুর রহমান এর বক্তব্য পুরোটাই তুলে ধরতে চাই। তবেই আমরা বুঝতে পারবো আওয়ামী লীগ এর জ্বলন্ত আগুনে কেবল আওয়ামী লীগ বিরোধীরাই জ্বলে পুড়ে ছাই হয় নাকি দলের ত্যাগি নেতারাও ভিতরে পুড়ে সারা। [চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ