ঢাকা, বুধবার 19 July 2017, ৪ শ্রাবণ ১৪২8, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কংশ নদীর ভাঙ্গনে বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন

কংশ নদীর ভাঙনে ফকিরের বাজারের রাস্তা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে, বিলীন হয়ে গেছে শত শত ঘরবাড়ি

দিলওয়ার খান, নেত্রকোনা: কংস নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় গত দুই বছরে নদী ভাঙনে ফকিরের বাজার এলাকায় চারটি গ্রামের প্রায় কয়েকশ বাড়ীঘর নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।
সরেজমিন ঘুরে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, পাহাড়ী ঢল ও অকাল বন্যার পানি কমার সাথে সাথে কংস নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
গত দুই বছরে কংশ নদীর ভাঙনে নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ফকিরের বাজার এলাকায় চারটি গ্রামের প্রায় কয়েকশ’ বাড়ীঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভেঙে যাচ্ছে জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র সড়কটিও। হুমকির মুখে রয়েছে আরো চার/পাঁচটি গ্রাম।
ফকিরের বাজার এলাকায় কংশ নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় কর্ণুপুর, চরপাড়া, পাঁচপাই ও বাঘরুয়া গ্রামের কয়েকশ বাড়ীঘরসহ শ’ শ’ গাছপালা ইতিমধ্যেই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীর পানি কমতে শুরু করলে বাড়ে নদীর ভাঙন। তাদের চোখের সামনে নদীগর্ভে চলে যায় ঘরবাড়ি ও ফসলী জমি।  নদী ভাঙনের কবলে পড়া এসব লোকজন আশ্রয় নিয়েছে আশপাশের এলাকায়। নদী ভাঙনের কারণে নেত্রকোনা-ঠাকুরাকোণা-ফকিরের বাজার সড়কের চরপাড়া এলাকায় আধা কিলোমিটার সড়ক ভেঙে যাচ্ছে। হুমকির মুখে আছে আশপাশের আরো পাঁচটি গ্রামের অসংখ্য বাড়ি ঘর। নদী ভাঙনে আতংকে  রয়েছে নদীর পাড়ের লোকজন।
চরপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার জানান, নদী ভাঙনের কারণে তাদের গ্রামের প্রায় অর্ধেক ঘরবাড়ি নদীতে চলে গেছে। ঘরবাড়ি হারা মানুষ অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে। একই গ্রামের আবুল কাশেম জানান, আমার নিজের বাড়ি, বড় ভাই হাশেম মেম্বারের বাড়িসহ আমাদের গোষ্ঠীর অন্তত বিশটি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শুধু ঘরবাড়িই নয়, ফসলী জমিও চলে গেছে নদীগর্ভে। কবি নজরুল কিন্ডার গার্টেন এর অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন জানান, নদী গর্ভে জমিজমা ও ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকই এখন নিঃস্ব হয়ে গেছে।
কর্ণপুর গ্রামের ইউপি মেম্বার কুতুব উদ্দিন জানান, কর্ণপুর গ্রামের প্রায় অর্ধশত বাড়িঘরসহ অসংখ্য ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র সড়কটিও নদী ভাঙনের ফলে নদীতে চলে যাচ্ছে। সড়কটি নদী গর্ভে চলে গেলে, একদিকে যেমন যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হবে, অপরদিকে আশপাশ এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলী জমিতে পাহাড়ী বালুর স্তর পড়ে  ফসল উৎপাদন বিনষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে। তিনি দ্রুত  ফকিরের  বাজার থেকে কর্ণপুর পর্যন্ত কংশ নদীর পাড় বাঁধার দাবী জানান।
রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রাজু’র সাথে কথা বললে তিনি জানান, নদী ভাঙন রোধে অবিলম্বে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণসহ সড়কটি রক্ষায় বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন নিবেদন করা হলেও অদ্যাবদি কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তাহের-এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, কংশ নদীর পাড় রক্ষায় একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরী করে অনুমোদনের জন্য ঊধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ড. মোঃ মুশফিকুর রহমান নদী ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ