ঢাকা, বুধবার 19 July 2017, ৪ শ্রাবণ ১৪২8, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য চসিক, ওয়াসা, সিডিএ’র মাস্টার প্ল্যানগুলো সমন্বয়ের অভাবে বাস্তবায়িত হয় নি

চট্টগ্রাম অফিস: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া কোন উন্নয়ন কর্মকান্ড সফল করা সম্ভব হয় না। উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনগণের চাহিদা ও আকাক্সক্ষা সঠিকভাবে প্রতিফলিত হলে তা জাতির জন্য সুফল বয়ে আনে।
তিনি মংগলবার বিকেলে চট্টগ্রামের বাকলিয়া জনকল্যাণ সমিতি আয়োজিত বাকলিয়ার উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠাকল্পে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন। একক আলোচক হিসেবে তিনি তাঁর বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞা প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি অধিকতর গুরুত্ব দেন বলে বিগত কাউন্সিলে আমাকেসহ তিন জনকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি চট্টগ্রামকে অন্তর দিয়ে ভালবাসেন। চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে একাধিক মেগা প্রকল্প দিয়েছেন। এই প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রামের বর্তমান হতশ্রী চিত্র পাল্টে যাবে। তবে স্থানীয় জনগণের সেবার মান বৃদ্ধি ও নাগরিক সুবিধার্থে এলাকায় ভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে যে কোন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সেবা মূলক সংস্থার মধ্যে সুসমন্বয় প্রয়োজন।
 তিনি চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যাটিকে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান বলে অভিহিত করে বলেন, এই সমস্যা এবার অতিবর্ষণে ভয়াবহ আকার নিয়েছে। এর অনেক গুলোর কারণের মধ্যে অন্যতম অপরিকল্পিত নগরায়ন। এখন রাস্তার পাশে বহুতল ভবনের পাইলিংয়ের মাটিতে খাল-নালা-নর্দমা ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে নগরীতে হাঁটু পানি দাড়িয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, সিডিএ’র মাস্টার প্ল্যান গুলো সমন্বয়ের অভাবে বাস্তবায়িত হয় নি। এই মাস্টার প্ল্যান করতে গিয়ে বড় অংকের সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। চাক্তাই খাল সংস্কারের জন্য প্রতি বছর কিছু না কিছু বরাদ্দ থাকে। কিন্তু এই বরাদ্দ ব্যয় হলেও ফল পাওয়া যায় না।
 তিনি মন্তব্য করেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন স্থানীয় ভাবে সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় ভাবেই হতে হবে। আমি এ ব্যাপারে উদ্যোগী হবো। তিনি বাকলিয়ার সুখ-দুঃকের সাথী হিসেবে সবসময় এলাকাবাসীর পাশে থাকার অঙ্গীকার ঘোষণা করে বলেন, আমি কোন রাজনৈতিক অভিপ্রায় নিয়ে এই সভায় আসিনি। আমি এলাকাবাসীর সমস্যা শুনে তা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ধর্না দেবো। আমি এও জানি, বাকলিয়া দীর্ঘ দিন ধরে অবহেলিত। এই অবহেলার অবসান হবেই।
 তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাকে বেগবান করেতে হবে। দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি প্রশ্নোত্তর পর্বে বলেন, আমাদের রাজনীতি হবে জন বান্ধব।
আমাদেরকে প্রত্যেক ভোটারদের কাছে যেতে হবে এবং আমাদের কোন প্রতিবেশি যদি আমাদের দল নাও করেন তবুও তাদের সুখ-দুঃখের সাথী হতে হবে।
এলাকায় স্কুল-কলেজের অভাব রয়েছে। সরকারি ভাবে স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠায় শিক্ষা মন্ত্রীকে অনুরোধ জানাবো।
 বাকলিয়া জনকল্যাণ সমিতির আহবায়ক ইউনুছ কোম্পানীর সভাপতিত্বে ও সাবেক কাউন্সিলর   শহিদুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন মো: শহীদুল আলম, নুরুল আমিন শান্তি, কাউন্সিলর   নুরুল হক, সাহাব উদ্দিন আহমেদ, কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ, আবু জাফর, মোহাম্মদ সরওয়ার, সাহাব উদ্দিন, নুরুল আজিম নুরু, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক   মহিউদ্দিন বাচ্চু, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকা, ফরিদ মাহমুদ, মাহবুবুল হক সুমন, ছিদ্দিক আলম,   মো: ইসহাক, আকবর রহমান, নাজিম উদ্দিন, আকবর, মোজাফফর, এডভোকেট জানে আলম, এডভোকেট নাজিম পাশা, মোহাম্মদ আজম, অধ্যাপক সোলেমান বাচ্চু, অধ্যাপক নাজিম উদ্দিন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ