ঢাকা, বুধবার 19 July 2017, ৪ শ্রাবণ ১৪২8, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পরশুরামে কাবিটা প্রকল্পের মেয়াদ শেষের ৬ মাসেও সোলার স্থাপন হয়নি

ফেনী সংবাদদাতা: ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬ মাস পরও  ফেনীর পরশুরামের মির্জানগর, চিথলিয়া ও বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের কোথাও কোন সোলার স্থাপন হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়  ইউপি সচিব ও মেম্বাররা। তবে সোলার স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, ৩টি ছাড়া সবকটি সোলার স্থাপন কাজ শেষ হয়েছে।
কয়েকজন ইউপি সদস্য অভিযোগ করছেন, সোলার স্থাপন না করে কর্মকর্তারা বিভিন্ন তালবাহানা করে বরাদ্দকৃত টাকা তুলে নেয়ার চেষ্টা করছেন। চিথলিয়া ইউপির সদস্য অভিযোগ করেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া কাবিটার প্রকল্পের টাকা চেকের মাধ্যমে অফিসের একাউন্টে তুলে রাখা হয়েছে। তবে পিআইও কর্মকর্তা মেশকাতুর রহমান টাকা উঠানোর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন ইউপি সদস্যের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেশকাতুর রহমানের কাছে গত বুধবার তার অফিসে গিয়ে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পের জন্য কত টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সোলার স্থাপনের জন্য প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি তা জানেন না বলে জানান। তবে রেজিষ্টার দেখে পরে জানাবেন বলে জানান।
জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) প্রথম পর্যায়ের গৃহীত প্রকল্পের ৩৬ লাখ ৬৫ হাজার ৯ শ ৭২ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তার মধ্যে সোলার স্থাপনের জন্য প্রায় ১৯ লাখ টাকার প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। তার মধ্যে মির্জানগর ইউনিয়নের আওতায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, চিথলিয়া ইউনিয়নে ৫ লাখ ১২ হাজার, বক্সমাহমুদ ইউনিয়নে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ দ্বিতীয় দফায় শেষ হয়েছে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারী। দ্বিতীয় পর্যায়ের মেয়াদ শেষ হলেও মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেখা যায়নি।
গত বুধবার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয়ের অনুষ্ঠিত ৫ জুলাই ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, সচিব, পিআইসি মেম্বার, ট্যাগ অফিসারদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্থানীয় ইউপি সদস্য কাদের রাব্বানি নয়ন অভিযোগ করেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সোলার স্থাপন না করায় জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অফিস সহকারী মো: শাহআলম জানান, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারীতে। সোলার স্থাপন করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ইটকলের প্রতিষ্ঠান আইডিএফ পরশুরাম শাখাকে।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্র জানিয়েছে, মির্জানগর ইউনিয়নের সামনের রাস্তায়, উত্তর কাউতলী নুরুল ইসলামের বাড়ীর পার্শ্বে, দক্ষিণ কাউতলী স্কুলের পাশ্বে, সত্যনগর কবরস্থান, চানশাহ ফকিরের মাজারে সোলার স্থাপনের কথা থাকলেও কোথাও সোলার স্থাপন হয়নি। চিথলিয়া চৌরাস্তা থেকে ধনিকুন্ডা ধনিকুন্ডা বাজার পর্যন্ত রাস্তায় সোলার স্থাপনের জন্য ৫ লাখ ১২ হাজার ৫শ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। তবে কোথাও কোন সোলার স্থাপন করা হয়নি।
দক্ষিণ গুথুমা ও উত্তর কেতরাঙ্গ মাদরাসা, দক্ষিণ গুথুমা মানগাজী বাজার মসজিদ, চেলামত আলী জামে মসজিদ, নুরীয়া ও নরনীয়া জামে মসজিদে সোলার স্থাপনের জন্য ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এখন পর্যন্ত কোথাও কোন সোলার স্থাপন হয়নি।
সোলার স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান আইডিএফ এর এরিয়া ম্যানেজার মো: গিয়াস উদ্দিন জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ১ম পর্যায়ের তিনটি সোলার স্থাপন ছাড়া বাকী সবগুলো সোলার স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ